মেইন ম্যেনু

মুক্তির অপেক্ষায় ফখরুল

সাড়ে ৫ মাস কারাবন্দী থাকার পর মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার যে কোনো সময় কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন তিনি।

নাশকতার অভিযোগে পল্টন ও মতিঝিল থানায় পুলিশের দায়ের করা তিন মামলায় তাকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশ রোববার বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। আদেশের কপি ওই দিনই নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফখরুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন।

নিম্ন আদালত থেকে এটি কারা কর্তৃপক্ষের হাতে যাওয়ার পরই কর্তৃপক্ষ যাচাই করে ফখরুলকে ছেড়ে দেবেন বলে আশা করছেন তার আইনজীবীরা।

ফখরুলকে গ্রেপ্তার দেখানো আরো তিনটি মামলায় তার জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে না যাওয়ায় আজ কারাগার থেকে তার মুক্তি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে ৭৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে গেল বছরের শেষের দিকে ও চলতি বছরে দায়ের করা হয় ৭টি মামলা। এ ৭ মামলার সবগুলোতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে- নাশকতার পরিকল্পনা, উসকানি ও প্ররোচনার।

এই সাত মামলার মধ্যে শেষ যে তিনটি মামলায় ফখরুল কারাগারে আটক ছিলেন গত ২১ জুন ওই তিন মামলায় তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গেলে সেখানেও আগের আদেশই বহাল থাকে।

বিএনপির এ নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল না করা পর্যন্ত তার জামিনের মেয়াদ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

আদালতে ফখরুলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গত ৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আটক হন মির্জা ফখরুল।

পরে গাড়ি ভাঙচুর, পোড়ানো ও নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর পল্টন ও মতিঝিল থানায় দায়ের করা সাতটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এইচএসসি পরীক্ষা ও সিটি নির্বাচনের হাওয়ায় বিএনপি অবরোধ-হরতাল থেকে সরে এলে কমে আসে রাজনৈতিক উত্তাপ। সরকার পতনের আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ হয়ে এখন দল পুনর্গঠনে মনোযোগী হয়েছে দলটি।

কারাগার থেকে মুক্তি পেলে মির্জা ফখরুল বিএনপির পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রয়েছেন ফখরুল।

ফখরুলের আইনজীবী ও তার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মির্জা ফখরুল ইসলামের হৃদযন্ত্রে চারটি ব্লক রয়েছে, এর তিনটিতে রিং বসানো হয়েছে। অর্থাৎ ৮০ ভাগ ব্লক হয়ে গেছে তার। এখন তার গলার ধমনিতে (নার্ভ) প্রতিবন্ধকতা ধরা পড়েছে।

ফখরুলের পরিবার ও তার আইনজীবীদের দাবি, গত সাড়ে পাঁচ মাসে মির্জা ফখরুলের ওজন প্রায় ১৫ কেজি কমেছে। এ অবস্থায় মির্জা ফখরুলকে বিদেশে নিয়ে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।






মন্তব্য চালু নেই