মেইন ম্যেনু

মুন্সিগঞ্জে ‘বিসিক মুদ্রণ শিল্পনগরী’সহ ৮ প্রকল্প অনুমোদন

ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত গড়ে উঠা মুদ্রণ শিল্পেগুলোকে পরিবেশবান্ধব স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে মুন্সিগঞ্জে ‘বিসিক মুদ্রণ শিল্পনগরী’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১৪০ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

‘বিসিক মুদ্রণ শিল্পনগরী’ প্রকল্পসহ মোট ৮ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৪২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৯৫৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪৬৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে এসব তথ্য জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- পরিকল্পনা সচিব তারিকুল-উল ইসলাম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা, আইএমইডির সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ৫ হাজার ৫০০টি মুদ্রণশিল্প আছে যার মধ্যে ৩ হাজারটি ঢাকার মধ্যে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ মুদ্রণ শিল্প অপরিকল্পিতভাবে ঢাকা গড়ে উঠেছে, যা পরিবেশ বিপর্যয় ও দূষণের সৃষ্টি করেছে। রাজধানীকে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে ও ঢাকার বাইরে মুদ্রণ শিল্পকে একটি পরিবেশ বান্ধব স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে মন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ‘বিসিক মুদ্রণ শিল্পনগরী’ স্থাপন করার হবে। প্রকল্পটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কর্তৃক ২০১৫ সালের জুন হতে ২০১৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বিসিক মুদ্রণ শিল্পনগরীতে ৩৮৫টি প্লট স্থাপিত হবে। যাতে ৩৮০টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হবে। এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিটগুলোতে ১৫ হাজার ২০০ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৪টি ইন্ডস্ট্রিয়াল এস্টেট প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৭০টি হচ্ছে জেনারেল টাইপ ও ৪টি হচ্ছে মনোটাইপ এস্টেট। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দরিদ্রতা দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ হবে। এর ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্প গুলো হচ্ছে, ‘চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপন’ প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
‘নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত ও একডেমিক সুবিধা বৃদ্ধি করণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

‘বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনের খাদ্য ও বিকিরণ জীববিজ্ঞান সুবিধাদিও আধুনিকীকরণ’ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

‘ডেসকো এলাকায় সুপারভাইজরি কন্ট্রোল ও ডাটা এ্যাকুইজিশন (স্ক্যাডা) সিস্টেম স্থাপন’ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫২ কোটি ২০ লাখ টাকা।

‘কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক এর উন্নয়ন’ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ‘সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ‘রুমা-বগালেক-কেওক্রাডং সড়ক উন্নয়ন প্রথম পর্যায় নির্মাণ প্রকল্প’। এর ব্যয় ৮৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।






মন্তব্য চালু নেই