মেইন ম্যেনু

মুসলিম তরুণী ভারতীয় হিন্দু যুবকের স্ত্রী হওয়ায় তোলপাড়

কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেল থেকে চোরাকারবারি ও পাচারকারী সন্দেহে ট্যুরিস্ট পুলিশ আমজাদ হোসেন নামে একজনকে আটক করেছে। মহিপুর বন্দরের ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

মনিরুল ইসলাম জানান, তার বোন বিউটি বেগম ও ভগ্নিপতি আলমগীর হোসেন ঢাকায় গার্মেন্ট ব্যবসার পাশাপাশি ভারত থেকে পণ্য আনা-নেয়ার ব্যবসা করত। বছরখানেক আগে ঢাকার একটি দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে ইউরোপে যাওয়ার জন্য তার বোন ও ভগ্নিপতি ১৬ লাখ টাকা চুক্তি করে ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করে দেয়। এরপর ইউরোপে যাওয়ার প্রতিশ্র“তি হিসেবে তাদের দিল্লিতে একটি আবাসিক হোটেলে উঠায়। এর আগে ওই দালাল চক্রের পরামর্শে বোনের বাসার কাজের মেয়ে রোজিনাকে বোন বিউটি বেগমের মেয়ে দেখিয়ে তার জন্য পাসপোর্ট ও ভিসা বানিয়ে তাকেও তাদের সঙ্গে দিল্লিতে নিয়ে যায়। এভাবে মাসদুয়েক সেখানে অবস্থানের ফাঁকে গৃহকর্মী রোজিনা ভারতীয় এক হিন্দু ধর্মের যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পালিয়ে যায়। এ অবস্থায় বিউটি ঢাকায় ফিরে আসে।

রোজিনা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওই যুবকের প্রেমে পড়ে ঘর করতে গেলেও যুবকের পরিবার মেনে নেয়নি। ফলে ওই যুবক রোজিনাকে নিয়ে দিল্লির একটি আবাসিক হোটেলে উঠলে সেখানে পুলিশ রোজিনাকে চ্যালেঞ্জ করে কাদের সঙ্গে সে দিল্লিতে এসেছে এ বিষয়ে জানতে চায়। পরে রোজিনার কথা অনুযায়ী অপর হোটেলে অবস্থান নিয়ে থাকা ব্যবসায়ী আলমগীরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রোজিনা নিজেকে তাদের গৃহকর্র্মী হিসেবে দাবি করলেও পাসপোর্টে আলমগীর ও বিউটি দম্পতির কন্যা হিসেবে উল্লেখ থাকায় আলমগীরকে নারী ও শিশু পাচারকারী সন্দেহে জেলে পাঠায়। পাশাপাশি রোজিনাকেও নিরাপত্তা হেফাজতের নামে জেলহাজতে রাখা হয়। এরপর ভারতীয় প্রেমিক যুবক প্রেমিকা রোজিনাকে আইনি লড়াই করে জেল থেকে বের করে এনে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করে হিন্দু রীতিতে ঘর সংসার শুরু করে। এ খবরে কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের সুধীরপুর রোজিনার গ্রামের বাড়িতে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের হাতে আটক অবস্থায় নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দেয়া আমাজাদ হোসেন জানান, তিনি বিউটি ও তার স্বামী আলমগীরকে মুক্ত করতে দিল্লিতে কয়েক দফা গিয়েছেন এবং বিউটির অনুরোধে তার নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করে সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা জোগারের চেষ্টা করছিলেন। আমজাদ হোসেন নিজেকে একজন পরোপকারী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দালাল চক্রের কেউ নন বলেও দাবি করেছেন। রোববার সন্দেহভাজন আমজাদ হোসেনকে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল সিভিউ থেকে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ আটক করে কলাপাড়া থানায় সোপর্দ করেছে।






মন্তব্য চালু নেই