মেইন ম্যেনু

‘মুসলিম’ হওয়ায় স্কুলছাত্রকে পেটাল সহপাঠীরা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘মুসলিম’ পরিচয়ের কারণে সাত বছর বয়সী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক শিশুকে স্কুলবাসে মারধর করেছে সহপাঠীরা।

শিশুটির নাম আবদুল উসমানী। সে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনার ক্যারি এলাকার ‘ওয়েথারস্টোন প্রাথমিক স্কুলে’ পড়াশোনা করত।

গত ৭ অক্টোবর আবুল উসমানীকে মারধর করা হয়। এরপর তার বাবা সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার ড. জিশানুল হাসান উসমানী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাকিস্তানে ফিরে যান।

জিশানুল হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিশু উসমানীর আক্রান্ত হওয়ার সচিত্র বিবরণ তুলে ধরেছেন।

উসমানীকে মারধরের বর্ণনা দিয়ে জিশানুল হাসান বলেন, প্রথমে ছয় বা সাত বছরের একটি শিশু উসমানীকে নাম ধরে ডাকে। এরপরই একটি শিশু তার মুখে ঘুষি মারে। অপর দুই শিশু তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে, তাকে লাথি মারতে থাকে। এ সময় আরেকজন শিশু পেছন থেকে তার হাত ধরে রাখে।

উসমানীর বাবা জানান, স্কুল থেকে বাড়িতে আসার পুরো পথেই বাসের মধ্যে তারা উসমানীকে পেটায়। তাদের হামলার কারণে সে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। মারধরের কারণে তার একটি হাত মচকে গেছে।

মুসলিম পরিচয়ের কারণে শিশুকে মারধঘরের অভিযোগ নিয়ে হৈচৈ শুরু হলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম বাজফিড নিউজ ৩৮ বছর বয়সী জিশানুল হাসানের একটি সাক্ষাৎকার নেয়।

এতে বলা হয়েছে, এ সফটওয়্যার প্রকৌশলী ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি সিলিকন ভ্যালির একটি ডাটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

তিনি জানান, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে শিশু সন্তান উসমানীর মারধরের ঘটনা ছাড়াও গত কয়েক মাস ধরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হচ্ছিল তার পরিবার। এমনকি তার এক ছেলেকে ‘সন্ত্রাসী’ সম্বোধন করেছে তারা।

উসমানীর মারধর এবং মুসলিম হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কারণে তিন ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তানে ফিরে গেছেন বলেও জানান।

জিশানুল হাসানের দাবি, তিনি প্রথমে এসে যেই যুক্তরাষ্ট্র দেখেছেন, বর্তমানে তা অনেকটা বদলে গেছে।

এদিকে ধর্মীয় পরিচয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠায় উসমানীর স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন ওয়েক কাউন্টি পাবলিক স্কুলের একজন মুখপাত্র লিসা লুটেন।

তিনি বলেন, স্কুলবাসে উসমানীর আশেপাশে বসা ছিল এমন সাতজন শিশু এবং বাস চালকের সঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কথা বলেছেন। তবে তারা এ ধরনের কোনো ঘটনা দেখেনি বলে দাবি করেছে।






মন্তব্য চালু নেই