মেইন ম্যেনু

মুসার সুইস ব্যাংকের হিসাব নম্বর খুঁজছে দুদক

বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য জানাতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাধ্যমে সুইস ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠিয়েও ‘নামের বানান বিভ্রাটের কারণে’ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে মুসার সুইস ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বরটি থাকলে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ ছিল। তাই হিসাব নম্বরটি খুঁজছে দুদক।

ব্যাংক হিসাব নম্বর জানা না থাকায় সুইস ব্যাংকের কাছে তথ্য জানতে সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা প্রস্তাবও (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট-এমএলএআর) পাঠাতে পারছে না সংস্থাটি। নম্বরটি পেলেই মুসার কথিত ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে এমএলএআর পাঠানো হবে। জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ ‘আনকাক’ চুক্তি অনুযায়ী সুইস সরকার বাংলাদেশকে এ তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, মুসা বিন শমসেরকে দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেও তাঁর কাছ থেকে ব্যাংকের হিসাব নম্বর জানতে পারেনি দুদক। কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব বিবরণীতেও এ তথ্য নেই। তাই শিগগিরই তাঁকে তৃতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে ব্যাংক হিসাব নম্বরটি না জানালে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য প্রদানে অসহযোগিতার অভিযোগে দুদক আইন-২০০৪ এর ১৯ (৩) ধারা অনুয়ায়ী মামলা দায়ের করা হতে পারে।

এ অপরাধে ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তথ্য প্রদানে অসহযোগিতার অভিযোগে মামলার পর আইন অনুযায়ী অনুসন্ধান চলতে থাকবে। অনুসন্ধানে অভিযুক্তের নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেলে পরে জ্ঞাত আয় আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরেকটি মামলা করা হবে। এ মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি দুদকের চাহিদা অনুযায়ী বিএফআইইউ মুসার হিসাব সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। চিঠিতে ইংরেজিতে মুসার নামের বানান Musa Bin Shamsher লেখা হয়। মুসা প্রকৃতপক্ষে ইংরেজিতে তার নামের বানান লেখেন Moosa Bin Shamsher।

বিএফআইইউ’র চাহিদা অনুযায়ী Musa Bin Shamsher নামের বাংলাদেশের কারও হিসাব পাওয়া যায়নি বলে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়ে দিয়েছে সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এবার দুদক মুসার নামের শুদ্ধ বানান Moosa Bin Shamsher উল্লেখ করে বিএফআইইউ’র মাধ্যমে সুইস ব্যাংকের কাছে তথ্য চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে এমএলএআর পাঠানোর চিন্তা করছে। তবে তার আগেই সুইস ব্যাংকে মুসার ব্যাংক হিসাব নম্বরটি সংগ্রহ করতে চায় দুদক। হিসাব নম্বরটি পাওয়া গেলে সুইস ব্যাংক থেকে সহজেই তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে দুদক।






মন্তব্য চালু নেই