মেইন ম্যেনু

মুস্তাফিজ না রুবেল, ম্যাচ সেরা আসলে কে?

তিনি ম্যাচ সেরা! অথচ ম্যাচ সেরার তালিকাতেও নিজেকে রাখেননি তিনি! নিজের তালিকাতে নিজে নেই বলে ম্যাচ শেষে ড্রেসিং রুমে চলে গিয়েছিলেন।

কিন্তু ম্যাচ রেফারি ওবায়দুল হক আজম তাকেই ম্যাচসেরা নির্বাচিত করেন! কি আর করা, ড্রেসিং রুম থেকে দৌড়ে নেমে ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠে আসতে হয় তাকে।– বলছি জাতীয় দলের তারকা মুস্তাফিজুর রহমানের কথা।

w34

ওয়ালটন ১৭তম জাতীয় ক্রিকেট লিগে খুলনা বিভাগের হয়ে খেলেন জাতীয় দলের পেসার। প্রথম রাউন্ডে খুলনার প্রতিপক্ষ ছিল ঢাকা বিভাগ। বৃষ্টিবিঘ্নিত চারদিনের লড়াই অমীমাংসিত থাকে। কিন্তু যতটুকু খেলা হয়েছে তাতে আলো ছড়িয়েছেন ঢাকা বিভাগের ব্যাটসম্যান সাইফ হাসান (৬৮), মোশাররফ হোসেন রুবেল (১১৯/৭), খুলনা বিভাগের মুস্তাফিজুর রহমান (২৯/৭), মোহাম্মদ মিথুন (৮৭)।

খালি চোখেও বোঝা যেতে পারে ম্যাচে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তৈরি করেছেন ঢাকা বিভাগের স্পিনার মোশাররফ হোসেন রুবেল। লংগার ভার্সনে ১১৯ রানে ৭ উইকেট পাওয়া খানিকটা কঠিনই বটে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচ উইকেট কিংবা একশ রান একটা ল্যান্ডমার্ক। যে কেউ এই ল্যান্ডমার্কে পৌঁছতে পারলে ভালো কিছুর প্রত্যাশা করে। হয়ত সেটা ম্যাচ সেরার পুরস্কারও। ম্যাচ সেরার পুরস্কার অনুপ্রাণিত করে পরবর্তীতে আরো ভালো করতে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এটা যেমন সত্য, ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাই। জাতীয় দলের বাইরে থাকা কোনো ক্রিকেটারের কাছে ‘ম্যাচ সেরার পুরস্কার’ বিশেষ কিছু।

as3

ভালো পারফর্ম করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার না পেয়ে হতাশ ঢাকা বিভাগের স্পিনার মোশাররফ হোসেন রুবেল। বৃহস্পতিবার বাহাতি এই স্পিনার বলেন, ‘ আপনি যখন ভালো কিছু করবেন স্বাভাবিকভাবেই ভালো কিছুই পাওয়ার প্রত্যাশা করবেন। ভালো খেললেও রিওয়ার্ড (পুরস্কার) প্রত্যাশা করা স্বাভাবিক।’

রুবেল জানান, যেকোনো ম্যাচ ৭ উইকেট পাওয়া অনেক কষ্টের। প্রতিদিনই ৭ উইকেট পাওয়া যায় না। একজন ব্যাটসম্যান যেমন নামলেই সেঞ্চুরি করতে পারে না। ৭-৮ উইকেট পাওয়া একই।

মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন ঢাকা বিভাগের অধিনায়ক মোহাম্মদ শরীফও। তার ভাষ্য, ‘ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয় সেরা পারফর্মার। আমাদের কাছে মনে হয়েছিল রুবেল ম্যাচসেরা নির্বাচিত হবে। খুলনার ক্রিকেটারদেরও একই ধারণা হয়েছিল। পরে যখন মুস্তাফিজের নাম ঘোষণা করে সবাই খুব অবাক হয়েছিলাম। খুলনার ক্রিকেটাররাও বিস্ময় প্রকাশ করেছিল।’

এদিকে ম্যাচ রেফারির ভাষ্য, ‘মুস্তাফিজুর রহমান ৪ উইকেট নিয়ে ঢাকা বিভাগের ইনিংস ১৮৭ রানে আটকে দেয়। তার অবদানই সবচেয়ে বেশি। কম রানে সে চার উইকেট পেয়েছে। মোশাররফও ভালো করেছে। তবে সে ১১৯ রানে ৭ উইকেট নিয়েছে। মুস্তাফিজ ৪ উইকেট নিয়েছে ২৯ রানে। দুজনকে তুলনা করলে মুস্তাফিজকে এগিয়ে রাখতেই হবে।’

21

এদিকে ম্যাচ রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে। প্রশ্ন তুলেছে মান নিয়েও। এর আগে ২০১৩ সালে প্রিমিয়ার লিগের আবাহনী-ব্রাদার্স ম্যাচে ‘অমনোযোগী ও দায়িত্বে অবহেলা’র কারণে ওবায়দুল হক আজমকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করে বিসিবি।

মুস্তাফিজকে ম্যাচসেরা নির্বাচিত করায় কোনো আক্ষেপ নেই রুবেলের। যেভাবে লিগ শুরু করতে চেয়েছেন, সেভাবে করতে পেরেছেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে রুবেল বলেন, ‘ম্যাচ সেরা হওয়ার সুযোগ সামনে অনেক আছে। ভালো পারফর্ম করতে পারলে ম্যাচসেরা যেকোন ম্যাচেই হওয়া যাবে। যেভাবে লিগ শুরু করতে চেয়েছিলাম সেভাবে করতে পেরে ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে এভাবেই পারফর্ম করে যেতে চাই।’রাইজিংবিডি






মন্তব্য চালু নেই