মেইন ম্যেনু

মৃত্যুকে ধোঁকা দিতে চান যিনি

মৃত্যুকে জয় করে পিটার থায়েল বেঁচে থাকতে চান অনেক দিন। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী হিসেবে খ্যাত পিটার থায়েল মৃত্যুকে হার মানানোর জন্য অকাতরে বিনিয়োগ করে চলেছেন। সিলিকন ভ্যালিতে অধিক সফল ও রঙিন মানুষ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট হিসেবে সবচেয়ে পরিচিত তিনি। পেপ্যালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি খ্যাতি ও সুনাম কুড়িয়েছেন। ফেসবুকের প্রাথমিক পর্যায়েও বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। সুত্র-প্রথম আলো

এখন তিনি মৃত্যুকে পরাজিত করার বা বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি বিনিয়োগ করছেন। স্মার্ট ও আধুনিক তরুণদের স্কুল-কলেজের প্রচলিত পড়াশোনার পরিবর্তে উদ্যোক্তা হতে উৎসাহ দিচ্ছেন তিনি। পিটার থায়েলকে নিয়ে ব্যবসা ও প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত হয়েছে এক প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলিকন ভ্যালির উদ্যোক্তাদের মধ্যে যত ধ্রুপদি জীবনগল্প আছে, সেগুলো এক করে একটি মানুষের চরিত্র দাঁড় করালে যা দাঁড়াবে, তাই হবে পিটার থায়েল।

থায়েলের জন্ম জার্মানিতে। তাঁর বয়স যখন এক বছর, তখন তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসে এবং সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়াতে
বসবাস শুরু করে। স্ট্যানফোর্ডে পড়াশোনা করেন দর্শনশাস্ত্রে। পরে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন। ‘পেপ্যাল মাফিয়া’ হিসেবে একটি টিম দাঁড় করানোর জন্য সব সদস্যকে তিনি একত্র করেছিলেন। এই দলে ছিল কেইথ রবিস, ডেভিস স্যাকস, রেইড হফম্যান প্রমুখ।

পিটার থায়েল বিতর্কিত মতামত তুলে ধরতে কখনো পিছপা হননি। ১৯৯৯ সালে তিনি থায়েল ও ডেভিড স্যাকস মিলে লেখেন ‘দ্য ডাইভারসিটি মিথ’ নামের একটি বই যাতে কলেজগুলোর বৈচিত্র্যময় বিষয়ে সমালোচনা করা হয়।

থায়েল দাবা খেলোয়াড় হিসেবে বেশ পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ২১ বছর কম বয়সী দাবাড়ুদের মধ্যে এক সময় তাঁর র‍্যাংক ছিল শীর্ষে। প্রযুক্তিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার আগে তিনি এক বিচারকের ক্লার্ক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। পরে তিনি ক্রেডিট সুসি গ্রুপে ট্রেডার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ওই সময় ম্যাক্স লেভেনচিনকে নিয়ে শুরু করে পেপ্যাল নামের একটি উদ্যোগ। পরে এলন মাস্কের এক্স ডটকমের সঙ্গে যুক্ত হয় পেপ্যাল। ২০০২ সালে ইবে ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারে পেপ্যাল কিনে নেয়। পেপ্যালের সহ-প্রতিষ্ঠাতারা অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর হিসেবে কাজ শুরু করেন। থায়েল ওই অর্থ থেকে ৫৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন নিজের ভাগে। ওই অর্থ দিয়ে ক্ল্যারিয়াম ক্যাপিটাল নামের হেজ ফান্ড গঠন করেন।

২০০৪ সালে মার্ক জাকারবার্গ তাঁর উদ্যোগ হিসেবে ফেসবুক শুরু করেন। পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে ১০ শতাংশ মালিকানা নেন থায়েল। এর মধ্যে তিন শতাংশ রাখেন নিজের নামে। ফেসবুকের ওটাই ছিল প্রথম বিনিয়োগ। পরে ফেসবুক যখন আইপিও ছাড়ে থায়েল তাঁর শেয়ার বিক্রি করে দেন এবং ১০০ কোটি ডলার আয় করেন।

২০০৪ সালে আরেক উদ্যোক্তা আলেকজান্ডার কার্পের সঙ্গে প্ল্যানানটির নামে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন থায়েল। এই প্রতিষ্ঠানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বিনিয়োগ করে। প্রতিষ্ঠানটি সন্ত্রাসী কার্যক্রম শনাক্ত করতে সফটওয়্যার তৈরিতে কাজ করে। ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে প্ল্যানানটির সফটওয়্যার। সিলিকন ভ্যালির সবচেয়ে গোপন সফল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দাঁড়িয়ে গেছে থায়েলের ওই প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মূল্য ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে এটি আনতে চান না তিনি।

ছোটবেলা থেকে থায়েল মা-বাবা তাঁকে টিভি দেখতে দিত না। তবে তিনি জে আর আর টলকিনের লেখা ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’ বই পড়তে ভালোবাসতেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণে ওই বইয়ের বিভিন্ন বিষয়ের অনুপ্রেরণা দেখা যায়।

এখন থায়েলের বড় পরিচয় ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট হিসেবে। তাঁর প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডার্স ফান্ড সম্পর্কে তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমরা উড়ুক্কু গাড়ি চাই, তাই পরিবর্তে পেলাম ১৪০ অক্ষর।’ উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ভালো ধারণা উঠে না আসায় আক্ষেপ তাঁর। অবশ্য র্তমানে ৮০ টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে।

থায়েল সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটির সমাধান করতে কাজ করছেন, তা হচ্ছে মৃত্যুকে ঠেকানো। বয়স বাড়ার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করার বিষয়ে কাজ করছেন তিনি। থায়েল বলেন, তিনি ১২০ বছর বাঁচার পরিকল্পনা করছেন। এ জন্য তিনি প্রতিদিন মানুষ বেড়ে ওঠার বিশেষ হরমোন নেন। বয়স কমানোর প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করা মেথিউলিস ফাউন্ডেশনে তিনি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার দান করেছেন। এ ছাড়া তিনি বয়স থামিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা এসইএনএস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কাজে তিনি সমর্থন করছেন। এ ধরনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তিনি নানা সহযোগিতা করছেন।

ক্রায়োজেনিকস কোম্পানি আলকোরের সঙ্গে তিনি চুক্তিও করেছেন। এ চুক্তির ফলে তিনি ভয়াবহ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর শরীর ভবিষ্যতে সারিয়ে তোলার জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে রাখা হবে। ‘দ্য ইমমরটালিটি প্রজেক্ট’ নামে অ্যান্টি এজিং গবেষণায় তিনি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

থায়েল মনে করেন, কলেজের পেছনে যে পরিমাণ খরচ হয়, তার তুলনায় লাভ কম। তাই স্মার্ট তরুণদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহ দেন তিনি। এ লক্ষ্যে থায়েল ফেলোশিপ চালু করেছেন তিনি। তরুণ উদ্যোক্তারা তাঁদের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠার জন্য এক লাখ মার্কিন ডলারের বৃত্তি ও দুই বছরের সমর্থন পায়। এ বৃত্তি পেতে গেলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী হিসেবে দুই বছর পার করা লাগবে। এখন পর্যন্ত ২২ বছরের কম বয়সী ১০৪ জন এ বৃত্তি পেয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই