মেইন ম্যেনু

মৃত্যুর আগে খুন হওয়ার আশঙ্কায় ভিডিও করলেন তরুণী

মৃত্যুর আগে খুন হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের এক তরুণী। তার মৃত্যুর পর তারই রেকর্ড করা একটি ভিডিও এসেছে পুলিশের হাতে।

যেখানে তিনি নিজেই খুন হবার আশঙ্কা করেছিলেন। ভিডিও’র পরদিন তরুণীর মৃত্যু হয়েছে উত্তর প্রদেশ রাজ্যে তার গ্রামের বাড়িতে।

শুক্রবার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

খুনের পরই সোনি কুরেশী নামের ওই তরুণীর মৃতদেহ তড়িঘড়ি করে সমাহিত করা হয়। চলতি মাসের ১৮ তারিখে ওই ভিডিও রেকর্ড করেন কুরেশী। আর ১৯ অাগস্ট তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।

ভিডিওতে কুরেশী বলছেন, ‘আমার বাবা, ভাই আমাকে মেরে ফেলতে চায়। সেই জন্যই আমাকে গ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি সাবালিকা, আমি আমার প্রেমিককে বিয়ে করতে চাই। তাই আমাকে মেরে ফেলতে চায় ওরা। আমার যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে ওরাই দায়ী থাকবে।’

হাথরাস জেলার পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট অজয় পাল শর্মা জানিয়েছেন, ‘ওই ভিডিওতে তরুণী যাদের নাম করেছেন মারা যাওয়ার আগে, তাদের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে সবাই পালিয়েছে, গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছি আমরা।’

পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণী পরিবারের সঙ্গে মুম্বাইতে থাকতেন। তাকে যখন এক আত্মীয় ট্রেনে করে উত্তর প্রদেশে নিয়ে আসছিলেন, তখনই তার সন্দেহ হয় যে, তাকে মেরে ফেলা হতে পারে।

তরুণীর সঙ্গে ইমরান নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে একটি ট্রেনের শৌচালয়ে দাঁড়িয়ে তিনি ওই ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন।

পুলিশ বলছে, তার প্রেমিক ইমরান নিজেই ওই ভিডিওটা রেকর্ড করেছিলেন। তরুণীর প্রেমিক ইমরানের সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ। তারও সন্দেহ হয়েছিল যে, সোনির সঙ্গে ভয়ানক কিছু করা হতে পারে। কিন্তু ইমরানও ভাবতে পারেননি যে, পরের দিনই মেরে ফেলা হবে ওকে।

ভারতে অনেক ঘটনা সামনে আসে, যেখানে পরিবারের সম্মান রক্ষার নাম করে তরুণ-তরুণীদের পরিবারের লোকেরাই হত্যা করে।

ভিন্ন ধর্ম বা জাতের ছেলে বা মেয়েরা প্রেমে জড়িয়ে পড়লে অথবা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করলে উত্তর আর পশ্চিম ভারতের গ্রামাঞ্চলে এরকমভাবে অনেককেই পরিবারের লোকেরা মেরে ফেলেছে।

অনেক পরিবারই মনে করেন, পরিবারের অমতে এভাবে বিয়ে করলে বা কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে পরিবারের বদনাম হবে, সেজন্যই সম্মান রাখতে খুন করা হয়।

এতে ওইসব পরিবার গর্বও অনুভব করে, জেলে যেতেও পিছপা হয় না।






মন্তব্য চালু নেই