মেইন ম্যেনু

মৃত্যুর আগে দেখতে চাই জাপা শক্তিশালী : রওশন

মৃত্যুর আগে জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী পার্টি হিসেবে দেখতে চান জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

তিনি বলেন, ‘জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মৃত্যুর আগে দেখতে চাই -জাতীয় পার্টি একটি শক্তিশালী পার্টি। আপনাদের এই ভীত গড়তে হবে। যদি আমাদের পার্টি শক্তিশালী হয়, তবেই আগামীতে ক্ষমতায় যাবে।’

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানী রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলের ৮ম কাউন্সিলে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিরোধী নেতা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জনগণ জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। কিন্তু আমাদের সংগঠন শক্তিশালী নয়। দল শক্তিশালী না হলে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না।’

নেতা-কর্মীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, ‘তোমরা আমাদের দলের প্রাণ। বড় বড় নেতারা অনেক সুবিধা পেয়েছে, কিন্তু তোমরা কিছুই পাওনি। অথচ কষ্ট করে তোমরাই সেই দুঃসময় থেকে জাতীয় পার্টিকে আগলে রেখেছ।’

তিনি বলেন, ‘নেতা-কর্মীরা যখন জেলে ছিল, তখনও আমাদের আসন ছিল ৩৫টি। কিন্তু আমরা সেই আসনও ধরে রাখতে পারিনি। কেন পারিনি তা চিহ্নিত করে রাজনীতি করতে হবে। সঠিকপথে রাজনীতি করা না গেলে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী হবে না।’

ছাত্রদের এখনই জাতীয় রাজনীতি না করার পরামর্শ দেন সাবেক এই ফার্স্টলেডি। তিনি বলেন, ছাত্রসমাজকে ছাত্ররাজনীতি করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। জাতীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে পড়াশোনা হবে না।’

রওশন এরশাদ বলেন, ‘দেশে মামলার জট কমাতে প্রত্যেকটি জেলায় আদালতের বেঞ্চ গঠনের কথা বলেছেন চিফ জাস্টিস। তিনি যেন এ উদ্যোগ নেন। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।’

বিরোধী নেতা জাতীয় পার্টির আমলের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, ‘ভূমিহীনদের পুনর্বাসন, গুচ্ছগ্রাম গড়া ছিল যুগান্তকারী পদক্ষেপ। খেলাধুলায় আজ বিশ্বে বাংলাদেশ যে সুনাম অর্জন করছে এর জন্যে আমরাই মূল ভূমিকা রেখেছি। আমাদের আমলে বিকেএসপি করা হয়েছিল, জেলা উপজেলায় করা হয় ক্রীড়া ফেডারেশন। আজকের মোস্তাফিজ, সাকিবদের উত্থান এ কারণে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় অনেক বাধা মোকাবিলা করে শান্তি মিশনে প্রথম প্রেরণ করা হয় সৈন্যদের। বিশ্বের বুকে আজ দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী সুনাম অর্জন করেছে।’ জাতীয় পার্টির উন্নয়ন জনগণের কাছে তুলে ধরতে নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান রওশন এরশাদ।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি নেতা-কর্মীদের নিয়ে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এসময় উপস্থিত হাজারো নেতা-কর্মী করতালি দিয়ে বিরোধীনেতাকে অভিবাদন জানান।

দলের মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি ও মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম ফয়সল চিশতীর যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনে দলের সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের সভাপতিত্বে সম্মেলনের মঞ্চে রয়েছেন পাটির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার, জ্যেষ্ঠ নেতা পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ, প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, বিরোধী চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম, দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, এম এ সাত্তার, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, এম এ কাসেম, অধ্যাপক মাসুদা রশীদ চৌধুরী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, দক্ষিণের সেক্রেটারি জহিরুল আলম রুবেল, মহিলা পার্টির সেক্রেটারি অনন্যা হোসেন মৌসুমীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

এ ছাড়া সম্মেলনে প্রায় ১৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত অতিথি হিসেবে রয়েছেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউন্সিলের উদ্বোধনী ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।






মন্তব্য চালু নেই