মেইন ম্যেনু

মৃত্যুর সময় জানা যায় ব্যাকটেরিয়ার কাছ থেকে

মানুষ মারা যাওয়ার পরেই শুরু হয় দেহ পচন প্রক্রিয়া। আর এ প্রক্রিয়ায় সমগ্র দেহ ধীরে ধীরে গ্রাস করে নেয় নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া।

একজন মারা গেলেও সূচনা হয় অসংখ্য মৃতভোজীর নতুন জীবন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা ঘটার পর মৃতদেহ পরীক্ষার সময় তা ঠিক কোন সময়ে মারা গিয়েছে, তা জেনে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। আর এ প্রয়োজনীয়তা মেটাতে ব্যাকটেরিয়ার সহায়তা পাওয়া সম্ভব বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।
গবেষকরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক মিনিট পর থেকেই মৃতদেহে পচন শুরু হয়। হৃৎস্পন্দন বন্ধ হবার সাথে সাথে কোষে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। কোষের অম্লতা বেড়ে গিয়ে বিষাক্ত পদার্থের রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হয়। এনজাইম কোষপর্দাকে হজম করে কোষের ভাঙ্গনের সূত্রপাত ঘটায়। এটা সাধারণত যকৃতেই প্রথম ঘটে, কেননা যকৃতে এনজাইমের পরিমাণ বেশি থাকে। রক্তকণিকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালী ভেদ করে বের হয়ে আসে এবং অভিকর্ষের টানে কৈশিক নালিকা, ছোট শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে যায়। এতে করে মৃতদেহের চামড়া বিবর্ণরূপ ধারণ করতে থাকে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক মানুষের মৃতদেহের ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা করে মারা যাওয়ার সঠিক সময় নির্ণয় করার বিষয়ে অনুসন্ধান করেন। এতে মৃতদেহের অভ্যন্তরের বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া পর্যবেক্ষণ করে মারা যাওয়ার সঠিক সময় নির্ণয় করার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য জানতে পেরেছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘আলাবামা স্টেট ইউনিভার্সিটির’র ফরেনসিক বিজ্ঞানী গুনাল্‌জ জাভান এবং তার সহকর্মীরাও এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন।
জাভান জানান, ‘মৃত্যুর পর দেহে থাকা ব্যাকটেরিয়ার কার্যপ্রণালী বদলে যায়। এরা হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কে প্রবেশ করে এবং এক সময় প্রজনন সম্পর্কিত অঙ্গগুলোকেও ধ্বংস করে ফেলে। একটা বিষয় পরিষ্কার যে, ব্যাকটেরিয়ার গঠনগত পরিবর্তন মৃতদেহ পচনের বিভিন্ন ধাপের সাথে সম্পর্কিত। ’
গবেষণায় পাওয়া ফলাফল ব্যবহার করে তারা একটি মডেল তৈরি করেছেন। আর এ মডেল ব্যবহার করে মৃতদেহ থেকে নেওয়া স্যাম্পল পরীক্ষা করে সহজেই মারা যাওয়ার সঠিক সময় নির্ণয় করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে সাম্প্রতিক গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে প্লস ওয়ান জার্নালে।






মন্তব্য চালু নেই