মেইন ম্যেনু

মৃত্যুর ৪ বছর পর নিজ বাড়িতে সৈনিক

ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের দেরাদুনের একটি রেজিমেন্টের সৈনিক ছিলেন ধর্মবীর সিং (৩৯)। আজ থেকে সাত বছর আগে ২০০৯ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

দুর্ঘটনার তিন বছর পর নিয়ম অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ধর্মবীরকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অথচ এ সময়ে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছেন স্মৃতিশক্তি হারানো ওই সৈনিক। সম্প্রতি হরিদ্বারে একটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা খান তিনি। এর পর স্মৃতিশক্তি ফিরে পান। এক সপ্তাহ আগে তিনি রাজস্থান রাজ্যের আলওয়ারে নিজ বাড়িতে পৌঁছান।

ধর্মবীরের ফেরার সিনেমাকে হার মানানো কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার (টিওআই) এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, গত সপ্তাহের এক রাতে অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার কৈলাশ যাদব দরজা খুলে দেখেন, তাঁর ‘মৃত’ ছেলে ধর্মবীর সামনে দাঁড়িয়ে। এত বছর পর ছেলেকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হওয়ার কথা ছিল বাবার। অথচ সেই আনন্দই কি না রূপ নিল দুঃখে। স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং ভাইকে আলওয়ারে ফেরার করুণ কাহিনী শোনান ধর্মবীর।

ওই সৈনিকের ভাই রাম নিওয়াজ টিওআইকে বলেন, ‘দেরাদুনের চক্রতা সড়কে সেনাবাহিনীর গাড়ি চালাচ্ছিলেন আমার ভাই। ওই সময় তিনিসহ তিন জওয়ান দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। সড়ক-বিভাজকে উল্টে পড়ে তাঁদের গাড়িটি। নিহত কারো লাশই পাওয়া যায়নি।’

ধর্মবীরকে মৃত ঘোষণা করে পরিবারকে অবসর-ভাতা দিচ্ছিল সেনাবাহিনী। এরপরও স্বামী ফিরে আসবেন বলে আশা ছিল তাঁর স্ত্রী মনোজ দেবীর। তিনি স্বামীর জন্য নিয়মিত উপবাস করতেন।

‘মনের গহিনে এমন বিশ্বাস ছিল, আমি তাঁকে দেখতে পাব’, বলেন মনোজ দেবী।

সেই বিশ্বাসই বাস্তব হয়েছে। ধর্মবীরকে খুঁজে পেয়েছেন তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা।






মন্তব্য চালু নেই