মেইন ম্যেনু

মৃত স্ত্রীর আত্মার সাক্ষ্যতে সাজা হলো স্বামীর!

সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। আবার দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হলে তাকে শাস্তিও দেওয়া যায় না। তাই বলে দোষী ব্যক্তি ছাড় পেয়ে যাবে, এটা মেনে নিতে পারছিলেন না এলভা জেন হেস্টার। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এলভা মৃত নারী। তার কারণেই ১৮৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত অপরাধীকে সাজা দেন।

ঘটনাটি তাহলে খুলেই বলা যাক। মামলাটি ছিল এলভা জেন হেস্টারের হত্যা মামলা। ঘটনাটি ছিল এ রকম- এলভার বিয়ে হয়েছিল কয়েক মাস আগে। তার স্বামী এরামাস স্ট্রিবলিং ট্রট শিউ ছিলেন কামার। তার অন্য নাম ছিল এডওয়ার্ড। একদিন নিজ বাড়িতে এলভার মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃতদেহটি প্রথমে দেখতে পায় তার স্বামীর কামারশালার এক কর্মচারী। সঙ্গে সঙ্গে এলভার মা মেরি জেন হেস্টারকে খবর দেওয়া হয়। তিনি শুরু থেকেই জামাতাকে পছন্দ করতেন না। তাই স্বাভাবিকভাবেই মেয়ের মৃত্যুর জন্য মনে মনে তিনি জামাতা এডওয়ার্ডকেই সন্দেহ করেন। তার সন্দেহ পাকাপোক্ত হয় জামাতার কিছু আচরণে।

এলভার মৃত্যুর পর ডা. ন্যাপ আসেন মৃতদেহ পরীক্ষা করতে। দেহে তিনি অস্বাভাবিক কিছু দেখলেন না। কিন্তু যখন তিনি এলভার গলা ও মাথা পরীক্ষা করতে চাইলেন তখন তিনি দেখলেন এলভার গলা স্কার্ফ দ্বারা পেঁচানো। ডাক্তার স্কার্ফটি সরিয়ে পরীক্ষা করতে চাইলে এডওয়ার্ড তার সঙ্গে ক্ষীপ্ত আচরণ শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ডা. ন্যাপ পরীক্ষা অসম্পূর্ণ রেখেই স্বাভাবিক মৃত্যুর একটি সদন লিখে দেন।

শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে স্বামী এডওয়ার্ড এলভার মাথার চারদিকে বালিশ দিয়ে দেন। কেউ কেউ এটা নিয়ে আপত্তি করলে এডওয়ার্ড বলেন, তার স্ত্রীর শেষ পথটুকু যেন আরামদায়ক হয়, তাই তিনি এটা করছেন। তখনও এলভার গলায় জড়ানো স্কার্ফ ছিল। তা ছাড়া মাথা মুড়ে দেওয়া কাপড়টিও তার পোশাকের সঙ্গে বেমানান লাগছিল। অনেকে এ নিয়ে আপত্তি তুললেও এডওয়ার্ড কাউকে এগুলো খুলতে দেয়নি। বরং এগুলো তার স্ত্রীর অনেক পছন্দের ছিল বলে মায়াকান্না কাঁদতে শুরু করেন। এলভার মৃত্যুর এক মাস পর তার মা জেন, জন আলফ্রেড প্রেস্টন নামে একজন স্থানীয় আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা ও জামাতার সন্দেহজনক আচরণের কথা আইনজীবীর কাছে খুলে বলেন। সবশেষে তিনি বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে তিনি একটি স্বপ্ন দেখছেন। স্বপ্নে তার মেয়ে এলভা এসে বলে, তার মৃত্যুর জন্য তার স্বামীই দায়ী। এডওয়ার্ডই তার মাথায় ও গলায় আঘাত করে হত্যা করেছে।

স্বাভাবিকভাবেই আইনজীবী মায়ের কথা অবিশ্বাস করেন। কিন্তু তিনি এলভার ময়নাতদন্তকারী ডা. ন্যাপ-এর জবানবন্দি শোনার পর মামলাটি আদালতে নিয়ে যান। আদালত এলভার লাশ উঠিয়ে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। তার গলায় ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার পর এডওয়ার্ডের প্রতি সবার সন্দেহ ঘনীভূত হয়। আদালতে মামলা চলাকালীন আইনজীবীও রাতে ভৌতিক কিছু ঘটনার সম্মুখীন হন। তিনি বুঝতে পারেন, এলভা তাকে বলছে, আমাকে হত্যার জন্য আমার স্বামী দায়ী। শুধু তাই নয়, কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে সম্পর্কেও এলভা আইনজীবীদের জানাতে থাকেন। এবং সেই সূত্র ধরে এগোতে থাকলে একসময় এই হত্যাকাণ্ডের জট খুলে যায়।

যদিও এডওয়ার্ড অতীতে আরো তিনটি বিয়ে করেছিলেন। তার প্রথম স্ত্রী সাক্ষ্য দেন যে, এডওয়ার্ড অনেক হিংস্র স্বভাবের ছিলেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রীরও সন্দেহজনকভাবে মৃত্যু হয়েছিল। এসব সাক্ষ্য-প্রমাণ এডওয়ার্ডের বিপক্ষে গেলেও তিনিই যে এলভাকে হত্যা করেছেন, তা প্রমাণিত হচ্ছিল না। আর ঠিক তখনই এলভার আত্মা ফিরে আসে এবং সবাইকে তার হত্যার কথা বলে দেয়। আশ্চর্য মনে হলেও সত্য, আদালত এলভার কথা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে এডওয়ার্ডকে শাস্তি দেন।






মন্তব্য চালু নেই