মেইন ম্যেনু

মেঘনার ভাঙনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভোলার ফেরি চলাচল বন্ধ

গত তিন দিনের টানা বর্ষণ ও অতিরিক্ত জোয়ারের তোড়ে মেঘনার অব্যাহত ভয়াবহ ভাঙনের ফলে ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক ভেঙে গেছে। ফলে সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে ভোলা লক্ষীপুর রুটের ফেরি চলাচল।

ভোলা-লক্ষীপুর ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলার সাথে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর, বরিশাল, ময়মনসিংহসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক। ঘাটে যানবাহনেরও তীব্র লাইন জটের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় এমপি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ ভাঙন ঠেকাতে মেঘনার তীরে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেললেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছেনা।

ভাঙন রোধে ওই এলাকায় জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন করেছিল।

সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নে গেলে স্থানীয়রা জানান, ইলিশা ইউনিয়ন ও রাজাপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন ফেরিঘাট এলাকা হঠাৎ করেই মেঘনা নদীর ভাঙন দেখা দেয়। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলে মেঘনার ভাঙন তীব্র আকার ধারন করে। প্রায় প্রতিদিনই ভাঙছে ওই এলাকা। ফেরিঘাট এলাকা ছাড়াও চলতি বর্ষা মৌসুমে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের কালুপুর, সোনাডগী, মুরাদ সফিউল্যাহ, বাঘার হাওলাসহ অন্তত ১০টি গ্রামের ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন চলছে।

বিগত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেশী। ভাঙন বন্ধে সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর। ঘাটে যানবাহনেরও দীর্ঘ লাইনও দেখা গেছে।
ভেঙে গেছে ইলিশা ফেরিঘাটের এ্যাপ্রোচ সড়ক। অনেকেই আবার ভাঙন আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও দোকানঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। তবে দরিদ্র মানুষগুলো পড়েছেন বিপাকে।

ফেরীঘাট এলাকার জিয়া জানান, রোববার সকাল থেকে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। নদী উত্তাল থাকায় নদীর পাড় ভেঙে সরু হয়ে যাচ্ছে ফেরীঘাটের সড়ক।
মাছ ব্যবসায়ী কামাল বলেন, হঠাৎ করেই নদীর ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কোন মুহুর্তে ঘাটসহ বেশীরভাগ এলাকা বিলীন হয়ে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী বলেন, গত এক সপ্তাহে মেঘনার উত্তর ও পূর্ব পাশ দিয়ে তীব্র ভাঙন চলছে। এরই মধ্যে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে সকাল থেকে ফেরীঘাটের ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে ফের ভাঙন শুরু হয়।
স্থানীয়রা বলেন, জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো যাবেনা। এজন্য সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করতে হবে। ভাঙনের তীব্রতা বেশী থাকায় অনেকেই দোকানঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় পাননি। এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নদীর ভাঙনে সম্প্রতি সড়ক বিভাগ কর্তৃক নির্মিত ভোলা-লক্ষীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ব্লকবাঁধও ধ্বসে পড়েছে। নদীর ভয়াবহ ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে ভোলা-লক্ষীপুর মহাসড়কের বেড়িবাঁধ।
নদীর ভাঙনে যে কোন মুহুর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে পুরো ভোলা-লক্ষীপুর মহাসড়কের বেড়িবাঁধটি। এ বাঁধটি ভেঙে গেলে পানিবন্দি হয়ে পড়বে হাজার হাজার মানুষ।

এছাড়াও ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে পাঁচটি ইউনিয়ন। ফলে ওই এসব ইউনিয়নের মানুষ নদী ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, গত বছর ওই এলাকার মাত্র ৪শ মিটার সড়ক রক্ষার ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) উদাসিনতার কারনে ওই বছর সঠিক সময়ে নির্মান কাজ করা সম্ভব হয়নি। ফলে আজ বন্ধ হয়ে গেল মেঘনা পাড়ি দিয়ে উপকূলীয় জেলাগুলোর সাথে যোগাযোগের অন্যতম সহজ মাধ্যম ভোলা-লক্ষীপুর ফেরি সার্ভিস।

এ ব্যাপারে ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি সার্ভিসের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আলম হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কারনে ইলিশা ফেরিঘাটের এ্যাপ্রোচ সড়ক ভেঙে গেছে। এ ছাড়া নদী ভাঙনে ওই এলাকার মাছ ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে ডুবে রয়েছে। ফলে বিকল্প সড়ক তৈরী না করা পর্যন্ত ভোলা-লক্ষীপুর রুটে ফেরি সার্ভিস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রতি মাসে এই রুটে প্রায় দুই হাজার যানবাহন পারাপার হয়। বর্তমানে এই রুটে তিনটি ফেরি কৃষানী, কস্তুরী ও কনঁকচাপা চলাচল করছিল।

অপরদিকে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র ৪(চার) সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভোলায় এসে পৌছায় । বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিনিধি দল ক্ষতি হওয়া ভোলার বিভিন্ন উপজেলার লঞ্চ ঘাটে ও ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরিঘাট পরিদর্শন করবেন এবং বিকল্প ব্যবস্থায় ভোলা-লক্ষীপুর ফেরি চলাচলের ব্যবস্থার জন্য সমিক্ষা চালাবেন।






মন্তব্য চালু নেই