মেইন ম্যেনু

সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে

মেঘনায় অভ্যন্তরীন ও দুরপাল্লার অন্তত ২২টি রুটের ছোট ছোট লঞ্চ- ট্রলার চলছে

মোঃ ফজলে আলম, ভোলা ॥ সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলার অভ্যন্তরীন ও দুরপাল্লার ছোট ছোট লঞ্চ- ট্রলার মেঘনায় অন্তত ২২টি রুটের চলছে । বর্ষা মৌসুমে ঝুকিপূর্নভাবে এসব লঞ্চ চলাচলের কারনে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা সম্ভাবনা রয়েছে অন্যদিকে যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

অবৈধভাবে চলাচলকারী এসব লঞ্চের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন না করায় প্রশাসনের কোন নিয়ম-নীতি মানছেন লঞ্চ মালিকরা। সরকারী সি ট্রাক সার্ভিস ছাড়া ডেঞ্জার জোনে এসব রুটে লঞ্চ চলাচল করায় যে কোন সময় দুর্ঘটনা আর প্রানহানীর আশংকা করা হলেও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ থাকছেন নিশ্চুপ।

অন্যদিকে বিকল্প যান না দেয়ায় যাত্রীরা অনেকটা বাধ্য হয়েই এসব নৌযানে যাতায়াত করছেন।

সরেজমিন গিয়ে মেঘনার বিভিন্ন ঘাটে দেখা গেছেন, একটি ছোট লঞ্চ ঘাটে নোঙ্গর করা। একদিকে মালামাল উঠানো হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রীরা উঠছেন। অতিরিক্ত মালামাল আর যাত্রী. যেন ধারন ক্ষমতার ৫/৭গুন। কিন্তু ততক্ষনে নদী উত্তাল হয়ে উঠছিলো। আর এ উত্তাল মেঘানায় ডেঞ্জার জোনের মধ্যেই লঞ্চটি ছেড়ে যায়। এ চিত্র দেখা যায়, জেলার অন্তত রুটে। সরকার ঘাটগুলোতে ইজারা বসিয়ে রাজস্ব আয় করলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী এসব লঞ্চের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা। এসব অভিযোগ যাত্রীদের।

যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখন বর্ষা মৌসুম, প্রতিনিদিই মেঘনা ভয়ংকর উত্তাল, কিন্তু তারপরেও এ উত্তাল নদী উপেক্ষা করে চরম ঝুঁকি নিয়ে যেন এভাবেই চলছে ছোট লঞ্চ ও ট্রলার। ঝূকিপূর্নভাবে এই পারাপার দেখলেই বোঝা যায় যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

বিআইডব্লিউটিএ সুত্র জানায়, সরকার নৌ দুর্ঘটনা রোধে প্রতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫অক্টোবর পর্যন্ত ৮মাস সময়কে মেঘনার ডেঞ্জার জোন হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এ সময় নদী ও সাগর উত্তাল থাকায় সি সার্ভে ছাড়া অন্য চলাচলে নিশেধাজ্ঞা জারী করে।

যাত্রীদের অভিযোগ, সরকারী নিয়ম তোয়াক্কা না করেই ভোলায় ঝূকিপূর্নভাবে লঞ্চগুলো চলছে। প্রতিদিন ভোলা সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজলো থেকে এসব লঞ্চ জেলার অভ্যন্তরীন রুট ছাড়াও নেয়াখালী, লক্ষীপুর ও পটুয়াখীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। ফলে চরম ঝূঁকি নিয়েই যাত্রীরা পারাপার হচ্ছেন।

বিভিন্ন সুত্র থেকে তথ্যনুসন্ধ্যানে দেখা গেছে ভোলার ২২টি রুটের মধ্যে যেসব রুট বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশী ভংকর সেগুলো হচ্ছে, ইলিশা-মজুচৌধূরীররহাট, ভেলুমিয়া-ধুলিয়া, হাকিমুদ্দি-তজুমদ্দিন, চরফ্যাশনের কচ্ছপিয়া-ঢালচর-কুকরী মুকরী, বেতুয়া-মনপুরা, তজুমদ্দিন মনপুরা-চর জহির উদ্দিন, নাজিরপুর-কালাইয়া, হাকিমুদ্দি-আলেকজেন্ডার, মনপুরা-হাতিয়া, দৌলতখান-আলেকজেন্ডার-মনপুরা, লক্ষীপুর।

ভোলার সাথে অন্য জেলা ও দুর্গম এলাকার সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌ পথ, তাই যাত্রীদের নৌ-যান দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব রুটে ফিটনেসবিহনীন ছোট ছোট লঞ্চ ও ট্রলার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে পারাপার হলেও যেন মাথা ব্যাথা নেই তাদের।

এ বিষয়ে নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে চলাচলকারী এসব লঞ্চের বিরুদ্ধে নেয়ার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট চিঠি প্রেরন করা হয়েছে। এছাড়াও বিআডব্লিটিএ ট্রফিক বিভাগের কর্মকর্তাগন বিষয়টির উপর নজরদারি রাখছে।

এদিকে, ডেঞ্জার জোনে অবৈধ লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে এসব রুটে সরকারী সি ট্রাক কিংবা নিরাপদ লঞ্চ দেয়ার দাবী জানিয়েছে সাধারন যাত্রীরা।






মন্তব্য চালু নেই