মেইন ম্যেনু

গভীরসাগরে মাছ ধরার আশায়

মেঘনায় ইলিশ মাছের আকাল মনপুরার কয়েক শতাধিক জেলে পাড়ি জমাচ্ছে চট্টগ্রামে

মেঘনার ভরা মৌসুমে ইলিশের আকাল। মৌসুমের শুরুতেই মাছধরা নৌকা বাইচ করে আশানুরূপ মাছের দেখা মিলছেনা জেলেদের জালে। মাছের আড়ৎদারদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা দাদন নিয়ে বেকায়দায় পরেছে জেলে ও নৌকার মাঝীরা। এমতাবস্থায় খেয়ে না খেয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন জেলেরা। এরই মধ্যে পেটের দায় গভীরসাগরে মাছ ধরতে জেলেরা দলেদলে ছুটছে চট্টগ্রাম ও স্বন্দীপে। ইতিমধ্যেই শতাধিক জেলে ট্রলারযোগে মনপুরা ত্যাগ করেছে। এদিকে আরো কয়েক শতাধিক জেলে গভীরসাগরে মাছ ধরতে রওয়ানা দেবেন বলে জানা গেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গতমাসের শেষ দিকে মনপুরার উপজেলার জনতাবাজার ঘাট থেকে একটি ট্রলার বোঝাই করে প্রায় দুই শতাধিক জেলে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে।

অন্যদিকে দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার নুরুউদ্দিন মাঝি,জহির মাঝি, শরীফ মাঝি’র অধীনে এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার সেলিম মাঝি এর অধীনে ৩০ জন ও ১ নং মনপুরা ইউনিয়নের কলাতলি চরের ছালাউদ্দিন মাঝি’রর অধীনে প্রায় ৩৫/৪০ জন জেলে গভীরসাগরে মাছ ধরার জন্য মনপুরা ত্যাগ করেছে।

এছাড়াও আরো অন্তত কয়েক শতাধিক জেলে সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে মনপুরা ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, এখনো অন্তত ১৫/২০ মাঝি এর নের্তৃত্বে চট্টগ্রাম ও স্বন্দীপের উদ্দেশ্যে জেলেদের নিয়ে পাড়ি দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরা হলেন মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের এলাকার শাহাবুদ্দিন

ও দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার মাঝি হোসেনের সাথে এব্যাপারে কথা হলে ফোনে জানান, মনপুরার মেঘনায় মাছ ধরলে কামাই কম হয়। আর সাগরে সবসময় মাছ বেশী পাওয়া যায়। তাছাড়া ভরা মৌসুমে ইলিশের দেখা না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। তাই নিরূপায় হয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছি সাগরে মাছ ধরতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেঘনায় কখনো মাছ থাকে আবার কখনো থাকেনা। আর সাগরে পুরো মৌসুমেই মাছ পাওয়া যায়। তাছাড়া এখানে এক মৌসুম (৪ মাস) মাছ ধরলে একজন মাঝী পায় দেড় থেকে লক্ষ টাকা। অপরদিকে সাগরে বড় ফিসিং বোটে মাছ ধরলে একজন মাঝি এক মৌসুমে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারে। আর মনপুরা মেঘনায় মাছ ধরলে একজন জেলেকে খেয়ে না খেয়ে বা মাছ ধরতে হয়।

এখানে সাধারন জেলেরা মৌসুম শেষে সর্বচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকা পায় আর সাগরে মাছ ধরলে দেড় লক্ষ টাকা পায়। জেলেরা অতি বেশী উপার্জনের লোভে গভীসাগরে মাছ ধরতে চট্টগ্রাম ও স্বন্দীপে পাড়ি জমাচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই