মেইন ম্যেনু

মেসি না ফিরলে আর্জেন্টিনার ক্ষতি ২১৭ কোটি টাকা!

লিওনেল মেসি ফিরবেন তো? আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মাওরিসিও মাকরি এই প্রশ্নের উত্তরে ইতিবাচক জবাব দিয়েছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করেছেন, অবসরের সিদ্ধান্ত পাল্টে ফের আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে ফিরবেন তাদের ফুটবল সুপারস্টার। মাকরির এই প্রত্যাশা যদি সত্যি হয় তাহলে তো ভালোই; আর যদি তা মিথ্যে প্রমাণিত তাহলে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) গুণতে হবে বিশাল অঙ্কের ক্ষতি। যে ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের মুদ্রায় ২১৭ কোটি টাকারও বেশি!

এমন তথ্য দিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার একজন ম্যাচ অর্গানাইজার। তার নাম গুইলারমো তোফোনি।

সিএনএন মানি’কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তোফোনি বলেছেন, ‘যদি মেসি না ফেরেন তাহলে এএফএ ২৫ মিলিয়ন ইউরো সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এমনকি এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশিও হতে পারে। ক্ষতির হিসাবটা করা হয়েছে বর্তমান সময় থেকে ধরে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত।’

বাংলাদেশি মুদ্রায় এক ইউরো সমান ৮৭ টাকা দরে হিসাব করলে ২৫ মিলিয়ন ইউরো মানে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

মেসি না ফিরলে আর্জেন্টিনাকে কেন এই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে, এরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তোফোনি। তিনি জানিয়েছেন, মেসি দলে না থাকলে রাশিয়া বিশ্বকাপের (২০১৮ সাল) আগ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টাইন দলের যে অর্থ পাওয়ার কথা তা তারা পাবে না। এমনকি মেসিহীন খেলতে নামলে প্রতিশ্রুত এই অর্থের মাত্র ৩৫ শতাংশ পেতে আর্জেন্টিনা।

তোফোনি জানিয়েছেন, মেসি অবসর নেওয়ার পর থেকে এখন অব্দি আর্জেন্টিনার বিপরীতে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা এমন দেশগুলো ক্রমাগতই তাকে ফোন করছে। তারা মেসিহীন আর্জেন্টিনাকে পেমেন্ট কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছে। এই দেশগুলোর মধ্যে ইতালি, স্পেন, চীন ও রাশিয়াও রয়েছে। ইতোমধ্যে রাশান ফুটবল ফেডারেশন তোফোনিকে জানিয়েছে যে মেসি না ফিরলে ২০১৭ সালের জুন মাসে তাদের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১ মিলিয়ন ইউরোর বেশি পেমেন্ট তারা দিবে না।

প্রসঙ্গত, মেসিকে নিয়ে খেলতে নামলে আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন প্রতিপক্ষ দলগুলোর কাছ থেকে ম্যাচ প্রতি ২ মিলিয়ন ইউরো পেমেন্ট পেয়ে থাকে।

প্রকৃতপক্ষে অবসর ভেঙে মেসি না ফিরে আসলে আর্জেন্টিনার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণটা আরও অনেক বেশি হবে। কেননা, গুইলারমো তোফোনি যে হিসাব দিয়েছেন তা কেবল প্রীতি ম্যাচের পেমেন্টের ভিত্তিতে করা। কিন্তু ওই ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে এএফএ’র ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের (যেমন : টিকেট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ত্ব কিংবা স্পন্সর স্বত্ত্ব) হিসাব সেখানে ধরা হয়নি। অতীতে এটা অনেকবারই প্রমাণিত হয়েছে যে মেসি দলে না থাকলে এএফএ’র এসব আয় বহুলাংশে কমে যায়।

এখানেই শেষ নয়; সুস্থ থাকলে মেসি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও খেলতেন, এমন একটা ধারণা আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেক্ষেত্রে ওই বিশ্বকাপ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের সিডিউলও করা ছিল। যেখানে মোট ২২টি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা আর্জেন্টিনার। এর মধ্যে আবার ১৬টি নিজ দেশের মাটিতেই। মেসি না ফিরলে স্পষ্টতই এসব ম্যাচ থেকে কাঙ্খিত অর্থ উপার্জন হবে না আর্জেন্টাইন ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার।

মেসি অবসর ভেঙে ফিরে আসবেন; এই মুহূর্তে আর সবার চেয়ে এএফএ এই কামনা সবেচেয়ে বেশি করছে এমনটা তাই নিঃসন্দেহে বলা চলে।






মন্তব্য চালু নেই