মেইন ম্যেনু

মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন পুশ, ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

নারায়ণগঞ্জ: শহরের চাষাঢ়া এলাকায় রহিমা বিবি (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে দু’টি মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন পুশ করেছেন একজন হাতুড়ে চিকিৎসক। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে এড়িয়ে যান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাগে জান্নাত এলাকায় ফাতেমা বেগমে বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রহিমা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। হাতুড়ে ওই চিকিৎসকের নাম হাবিব। তিনি শহরের মিশনপাড়া মসজিদের পাশের হাবিব ফার্মেসির মালিক।

ফাতেমা বেগমের স্বামী আলাউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৃদ্ধা রহিমা বিবিকে দু’টি মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশনসহ একাধিক ইনজেকশন পুশ করেন চিকিৎসক হাবিব। যার মধ্যে একটি এক্সোসিন ইনজেকশনটি ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং নিওট্যাক ইনজেকশনটি ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ওই ইনজেকশনগুলো হাবিব ফার্মেসি থেকেই আনা হয়েছিল। পরে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন দেখতে পেয়ে এলাকাবাসীকে খবর দেন।

ওই চিকিৎসক হাবিব জানান, তিনি একজন চিকিৎসক। তিনি ঢাকার কম্যুনিটি হাসপাতাল থেকে এমসিপিএস পাশ করেছেন। তিনি তার মালিকানাধীন হাবিব ফার্মেসিতে রোগীদের চিকিৎসা করে থাকেন। এছাড়াও তিনি বাড়িতে গিয়েও চিকিৎসা করিয়ে থাকেন।

মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন পুশ করার সত্যতা স্বীকার করে হাবিব বলেন, ‘তাড়াহুড়োর কারণে ভুলবশত এমনটি হয়েছে। তিনি রাতের বেলায় চোখে কম দেখেন বিধায় মেয়াদের বিষয়টি দেখতে পাননি।’ তিনি ওই অসুস্থ বৃদ্ধাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলবেন বলেও জানান।

এদিকে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ওই রোগীর বাড়িতে ওই চিকিৎসককে আটকে রাখে রোগীর স্বজনরা।

বিষয়টি প্রথমে জানানো হয় জেলা সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাসকে। তিনি জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করাটা গুরুতর অপরাধ। তিনি নিজেই বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) জানিয়েছেন। ওই চিকিৎসককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হবে বলে জানান।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ছরোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এনডিসি আব্দুল্লাহ আল জাকী ও সিভিল সার্জেন অফিসের চিকিৎসক সোহরাবকে হাবিবের মালিকানাধীন ফার্মেসিতে পাঠাচ্ছেন। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসক সোহরাব হাবিবের মালিকানাধীন ফার্মেসিতে এসে তা বন্ধ পান। তিনি বিষয়টি এনডিসিকে জানান।

এনডিসি আব্দুল্লাহ আল জাকীকে জানানোর পরে তিনি জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়টি মোবাইল কোর্টের আওতায় পড়ে না। জেলা প্রশাসক বলেছেন এটি নিয়মিত মামলা করতে।

এদিকে, প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখার পরেও জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত না আসায় রাত ৯টার দিকে ওই চিকিৎসককে ছেড়ে দেন রোগীরা স্বজনরা।






মন্তব্য চালু নেই