মেইন ম্যেনু

মেয়েটিতো আমার বোনও হতে পারতো !

সাজেদুল হক: সবকিছু আজ নষ্টদের অধিকারে। তাই বলে এতোটা। এতো বর্বর হয়ে গেছে মানুষ। এরচেয়েও দুঃখজনক হচ্ছে বর্বরতার বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ নেই। কোথাও কোন দ্রোহ নেই। ফেসবুকে দুই, চারটি স্ট্যাটাস। তারপরই খেল খতম। নাকে তেল দিয়ে ঘুম যাওয়া।

নগর সমাজ ক্রমশ তরুণদের মেরে ফেলেছে। তাদের শরীর বেঁচে থাকলেও আত্মা মরে যায়। বাংলাদেশের তারুণ্য আজ সেই বিকারের শিকার। অথচ কে না জানে এদেশে যা কিছু ঐতিহাসিক তার নেতৃত্বে ছিল তরুণরা। বৃদ্ধ আর নেতারা যখন শরনার্থী ছিলেন তখন ক্র্যাকপ্লাটুনের তরুণ গেরিলারা পাক সেনাদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিলেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের চালিকা শক্তি ছিলেন কারা? সেই তারুণ্য আজ কোথায়।

সোহাগী জাহান তনু। একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রথম খবরটি নজরে আসে। হঠাৎ মনে পড়ে যায় আমার বোনদের কথা। মনে হয়, মেয়েটিতো আমার বোনও হতে পারতো। আশ্চার্য হই কোথাও এ খবর তেমন কোন তোলপাড় তোলে না। জানু সম্পাদকরা গুরুত্ব দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করেন না। কিন্তু কেন? অসহ্য বর্বর বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া। নাকি আমাদের অনুভূতি ভোতা হয়ে গেছে আজ।

মেয়েটি বড় হতে চেয়েছিল। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এগুতে হচ্ছিল লড়াই করে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। নির্মম সত্য হলো এখন লিখতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ছিল। টিউশনি করে এগিয়ে নিচ্ছিল নিজের পড়ালেখা। রোববার সন্ধ্যায় অলিপুর এলাকায় প্রাইভেট পড়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়। না সে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত ১১টার দিকে তার লাশ পাওয়া যায়। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুনের ভাষ্য, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং মাথার কিছু ছেঁড়া চুল লাশের পাশে পড়েছিল। তাকে ধর্ষণের পর নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তনুরা মরে যায়। তাদের ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ফেসবুকে এর প্রতিবাদে দুই, চারটি স্ট্যাটাস লেখা হয়। রাজনীতিবিদরা এ ব্যাপারে মুখ খোলেন না। ক্ষমতার হিসাব না থাকায় চুপ থাকেন নাগরিক সমাজ। দুই/এক দিন মানববন্ধন হয়। মিডিয়ায় এই সংবাদ কোন প্রচার পায় না। একটি পরিবারের স্বপ্ন মরে যায়।

এই কি সেই বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে টিভি চ্যানেল খুললেই উন্নয়নের গল্প। পরিচিত সব মুখ প্রতিদিন। বাংলাদেশ নাকি এগিয়ে যাচ্ছে। এই কি তবে এগিয়ে যাওয়া। পূর্ণিমার কথা মনে আছে। মনে আছে মুক্তিযুদ্ধকালীন নিপীড়নের শিকার বীরঙ্গনাদের কথা।
তাহলে এতো ত্যাগ, এতো সংগ্রামের কি মূল্য থাকলো। তনুরা যদি ধর্ষিতা হয়, যদি তার লাশ পড়ে থাকে জঙ্গলে তো এ কেমন স্বাধীনতা। এ কেমন বাংলাদেশ। এ কেমন উন্নয়ন। এই কি মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ।

তনুদের জন্য যদি কেউ না দাঁড়ায়, যদি কোন প্রতিবাদ না হয়। তবে অপেক্ষা করুন। ফের এমন খবর পাবেন। দুই একদিন হয়তো আমাদের চোখ ঝাপসা হয়ে আসবে। আমরা আবার ভুলে যাবো। আমাদের ক্ষমা করো তনু। তবে আমাদের অক্ষমতাকে ক্ষমা করো না। আমাদের অভিশাপ দাও। এই অভিশাপে পুড়ে চারখার হয়ে যাই আমরা।






মন্তব্য চালু নেই