মেইন ম্যেনু

‘মোদির সব ডিগ্রি ভুয়া না হলে মাথা কামিয়ে ফেলব’

বরাবরই ঠোঁটকাটা প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মার্কন্ডেয় কাটজু। আর তাঁর এই বিশেষ স্বভাবটির জন্য সমালোচনাও হয়েছে বিস্তর। কিন্তু এতে কোনো বিকার নেই তাঁর। যা বোঝেন তা জোরগলায় বলতে রাখঢাক রাখেন না। সম্প্রতি কাটজু আবার আলোচনায় এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য করে।

গত বুধবার মার্কন্ডেয় কাটজু তাঁর টুইটারে লেখেন, ‘যদি কেউ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তথ্য জানার অধিকার আইনে চিঠি লিখে আমাদের শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রীর ডিগ্রিগুলো (সার্টিফিকেট) সম্পর্কে তথ্য বের করতে পারেন, তাহলে আমি মাথা কামিয়ে ফেলব। আমি শতভাগ নিশ্চিত, তাঁর সব ডিগ্রি ভুয়া।’

কাটজুর এই মন্তব্যকে ঘিরে টুইটারে আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে বিস্তর। এক হাজারেরও বেশি কমেন্টে কেউ কাটজুকে এহেন আপত্তিকর ও তথ্যপ্রমাণহীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। অনেকে আবার উৎসাহিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তথ্য জানার অধিকার আইনে চিঠি লেখার খবর জানিয়েছেন।

এর আগেও ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন কাটজু। এর জন্য চলতি বছরের মার্চে সাবেক এই বিচারপতির বিরুদ্ধে ভারতের সংসদে সর্বসম্মতভাবে নিন্দা প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ভারতে গোহত্যা সম্পর্কিত বিতর্ক চলাকালে ‘আমি হিন্দু, আমি গরুর মাংস খেয়েছি এবং আবার খাব’ মন্তব্য করেও সমালোচিত হয়েছিলেন।

বিচারপতি কাটজু তখন যুক্তি দেখিয়েছিলেন, ‘গরুর মাংস নিষিদ্ধ করা হলে অনগ্রসর, সামন্ততান্ত্রিক মনোভাব দেখানোর জন্য বিশ্বে আমাদের উপহাসের পাত্র হতে হবে।’ মহারাষ্ট্রে গরু জবাই নিষিদ্ধ হওয়ায় অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

অবশ্য কাটজুর নিন্দুকরা বলছেন, বিতর্কে জড়ানোই নাকি তাঁর কাজ। গত বছর নিজের ব্লগে মহাত্মা গান্ধীকে ব্রিটিশদের এজেন্ট দাবি করে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের প্রভূত ক্ষতি করেছেন গান্ধী।

এরপর কাটজু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা নেই বলে আলোচিত হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তি হিসেবে এতটাই অপরিণত যে তিনি ভারতের কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যই নন। তাঁর উচিত মুখ্যমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার আগে কিছুটা পরিণত হওয়ার চেষ্টা করা।






মন্তব্য চালু নেই