মেইন ম্যেনু

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছেন বুদ্ধিজীবীরা

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ভারতকে বৃহৎ গণতন্ত্রের দেশ থেকে হিন্দু স্বৈরতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন দেশটির শিল্পী, লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা। বিজেপির অন্যতম মিত্র রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও শিবসেনা যেভাবে দেশে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে তাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তো দূরের কথা প্রগতিশীল হিন্দুরা পর্যন্ত ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। গোহত্যা নিষিদ্ধ নিয়ে বেশ কয়েকটি রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংবেদনশীল হিন্দুরা এর বিরুদ্ধে মুখও খুলতে পারছেন না।

এর প্রথম সংগঠিত প্রতিবাদ এসেছে লেখকদের পক্ষ থেকে। পাঞ্জাব, দিল্লি, গুজরাট, কেরল, মধ্যপ্রদেশসহ বেশক’টি রাজ্যের নামকরা লেখরা সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন। আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কন্নড় লেখক এম এম কালবার্গি খুন বা উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে ইখলাক নামে এক মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এক-এক করে ভারতের ২১ জন লেখক আকাদেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন।

এবার এই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন দেশটির নামকরা বিজ্ঞানী এবং চলচ্চিত্র নির্মাতারা। এদের অনেকেই তাদের জাতীয় এবং রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ভারতের একজন নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞানী পি এম ভার্গব বৃহস্পতিবার তার পদ্মভূষণ পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। পদ্মভূষণ ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। ভার্গব এবং তার ১০৭ জন সহকর্মী এ বিষয়ে একটি বিবৃতিও দিয়েছেন।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পি এম ভার্গব বলেন, তিনি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পদ্মভূষণ ফিরিয়ে দিচ্ছেন, কারণ তার আশঙ্কা ভারত সরকার গণতন্ত্রের পথ ছেড়ে হিন্দু স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে।

তার মতে, ভারতের বর্তমান বিজেপি সরকার পরিচালিত হচ্ছে উগ্র ডানপন্থি হিন্দু সংগঠন আরএসএস দ্বারা। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, সরকার জনগণকে এখন বিজ্ঞানমনস্কতা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

এদিকে দশ জন চলচ্চিত্র নির্মাতা তাদের জাতীয় পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে আছেন দিবাকর ব্যানার্জি এবং অনন্ত পট্টবর্ধন। মুম্বাইতে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। ভারতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় অঙ্গীকার ঘোষণার জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তবে সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এবং কবি সুবোধ সরকারের মতো লেখক সাহিত্যিকরা সম্মাননা ফিরিয়ে দেয়ার পক্ষপাতি নন। তারা মনে করছেন, এটা প্রতিবাদের অস্ত্র নয়। তারা ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন তবে পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়ার মধ্যে কোনো যৌক্তিকতা পাচ্ছেন না।

শীর্ষেন্দুর ভাষায়, ‘ভোটের সময়ে গণ্ডগোল নতুন নয়। খবর সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের অধিকার হরণ আগেও হয়েছে। এ সব সমর্থন করছি না। কিন্তু এই সরকারের পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ করার সময় এখনও আসেনি। আমাদের আরও একটু সহিষ্ণুতা দরকার।’

তথ্যসূত্র : বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকা






মন্তব্য চালু নেই