মেইন ম্যেনু

মোদীর সফর ইতিবাচক : এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, বিএনপি যে আন্দোলন করেছে, দেশের মানুষ তা গ্রহণ করেনি, তাদের পক্ষেও যায়নি। বিএনপি ভাঙনের মুখে। এদিকে দেশের মানুষ এখন ভালো নেই। বিএনপির শাসনামলের পর আওয়ামী লীগের চলমান শাসনে স্বস্তিতে নেই সাধারণ মানুষ। এদের থেকে মুক্তি চায় জনতা। এই পেক্ষাপটে জাতীয় পার্টির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখন পার্টিকে সু-সংগঠিত করে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।

বরিশাল মহানগর জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল উপলক্ষ্যে সোমবার বরিশালে এসে এ কথা বলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।

তিনি বলেন, ‘এখন নারীর নিরাপত্তা নেই। অথচ জাতীয় পার্টির সরকারের সময় এমন অবস্থা ছিল না। তাই জনতার সমর্থন নিয়ে জাতীয় পার্টি ফের ক্ষমতায় আসবে।’

তিনি আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর খুবই ইতিবাচক হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এই সফরকে স্বাগত জানিয়েছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে মোদির চিন্তাধারা অত্যন্ত ইতিবাচক। মোদির এই সফরে ট্রানজিট দেয়া হয়েছে। ট্রানজিট পৃথিবীর সব দেশেই আছে। আগে আমাদের ট্রানজিট ছিল না। এতে বৈরীতা কমে যাবে। ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র, সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী রাষ্ট্র। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা আমাদের উচিত। সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হলো।’

সোমবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে শুরু হয় বরিশাল মহানগর জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক একেএম মুরতজা আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু, পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা এবং জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কৃষক পার্টির সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. সাইদুর রহমান টেপা, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফকরুল ইমাম এমপি, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান রত্না এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো: জিয়াউল হক মৃধা এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নূরুল ইসলাম মিলন জিন্নাহ এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ এমপি, জাতীয় যুব সংহতি’র সভাপতি ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, যুগ্ম মহাসচিব আরিফুর রহমান খান, যুগ্ম মহাসচিব আলমগীর সিকদার লোটন, যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকন এমপি, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মাদ রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল ইসলাম দিদার, অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম তালুকদার এমপি, যুগ্ম সংগঠনিক সম্পাদক মো. নূরুল ইসলাম ওমর এমপি।

এদিকে অশ্বিনী কুমার হলের বাইরে তৃণমূল জাতীয় পার্টির ব্যানারে কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে দলের পদ বঞ্চিত আরেকটি গ্রুপ। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। এর মধ্যেও অশ্বিনী কুমার হলে মহানগর জাতীয় পার্টির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পতাকা উড়িয়ে কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন এরশাদ এবং প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সম্মেলনের কারণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অশ্বিনী কুমার হল প্রাঙ্গণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। সেখানে সাঁজোয়া যান এবং জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ বরিশাল জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন হয়েছিল ২০০৫ সালে। ওই কমিটি ভেঙে গত বছরের ৫ জানুয়ারি জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় কমিটি।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই