মেইন ম্যেনু

মোবাইলে প্রেম, অন্যের হাত ধরে পালালো স্ত্রী: অপহরনের নাটক সাজিয়ে উদ্ধার…

মোবাইলে প্রেম,স্বামী রেখে অন্যের হাত ধরে পালালো স্ত্রী ,অবশেষে অপহরনের নাটক সাজিয়ে ৪দিন পর ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে নারী পুত্রসহ ২জনকে উদ্ধার এবং প্রেমিকবেশের ওই অপহরনকারীকে গ্রেফতার করেছেন ডিমলা থানা পুলিশ।

রবিবার আদালতের মাধ্যমে অপহরনকারী আনোয়ার হোসেন ওরফে চান মিয়া (৫০) কে জেলা হাজতে পাঠানা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৪মে মঙ্গলবার নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার প্রতিনিধি ও সদর ইউনিয়নের বাবুরহাট গ্রামের পোস্ট অফিস পাড়ার সরদার ফজলুল (গাটু ফজলুর) দ্বিতীয় স্ত্রী ওয়াহিদা পারভিন রিভা (২২) বিকালে অপহরনের স্বীকার হয়।

ঘটনার দিন সাংবাদিকের দ্বিতীয় স্ত্রী ঠাকুরগঞ্জ বাবারবাড়ী থেকে ডিমলায় স্বামীর বাড়ি আসার পথে ডাঙ্গারহাট ব্রীজের কাছ থেকে সাড়ে ৩ বছরের পুত্র হামিমকেসহ অপহরনের স্বীকার হয়েছেন বলে তার পরিবারের দাবি।
এ সময় রিভার কাছে ৩৪ হাজার টাকা ছিল মর্মে পারিবারিক সুত্রে দাবী করা হয়েছে।যদিও মামলার এজাহারে টাকা,গহনাসহ অনেক কিছুই উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনার রিভার পিতা অহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ডিমলা থানায় অপহরনের মামলা দায়ের করলে গত রবিবার ভোরে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থেকে রিভা ও তার পুত্র হামিমকে উদ্ধারসহ অপহরনকারীকে গ্রেফতার করে ডিমলা থানায় নিয়ে আসেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তাজুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স।

পুলিশ জানায়, ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ধিতপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত হবিউল্লার পুত্র আনোয়ার হোসেন ওরফে চান মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।গ্রেফতারকৃত চানমিয়া পেশায় একজন নারী পাচারকারী দলের সদস্য।

রিভাকে অপহরনের পুর্বে চানমিয়া বিভিন্ন এলাকায় আরো ডজন খানেক মেয়েকে প্রেমের ফাদে ফেলে অপহরন করে কদিন একসাথে কাটিয়ে অবৈধ ভাবে বিক্রি বা পাচার করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান স্হানীয় পুলিশ।

ওয়াহিদা পারভিন রিভা জানায়, ২০১১ সালের ১০ অক্টোবর ডিমলা মহিলা কলেজ পড়ার সময় বিবাহিত সরদার ফজলুল হক (গাটু ফজলুর) সাথে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমেই বিয়ে হয় তার।পরে তার প্রথম স্ত্রীকে সে তালাক দিয়ে আমাকে নিয়েই দীর্ঘদিন থেকে সংসার করে আসছিল।

রিভার দাবি পারিবারিক সমস্যার কারনে গত বুধবার ঠাকুরগঞ্জে পিতার নিকট গরু বিক্রির ৩৪ হাজার টাকা নিয়ে আসার সময় আনোয়ার হোসেন ওরফে চানমিয়া আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমিও ডিমলায় বেড়াতে এসেছি তোমার সাথে দেখা করার জন্য। এ সময় ঠাকুরগঞ্জ থেকে আসার সময় ডাঙ্গারহাট ব্রীজের কাছে অটোবাইক থেকে নেমে দেখা করি।তিনি আমাকে বলে তুমিতো ডিমলা যাবে চলো তোমাকে প্রাইভেট কারে পৌছে দেই।

আমি তার কারে উঠে বসলে সে আমাকে ডিমলা না এনে জোর করে আমার পুত্র সন্তানসহ ভালুকায় নিয়ে যায়।
এ দিকে রিভার পরিবারের ঘনিষ্ট একজন জানান,রিভা জেনে শুনেই টাকা,গহনা নিয়ে প্রেমিক চান মিয়ার হাত ধরে পালিয়ে গিয়েছিলেন।কেননা এর আগেও আমরা রিভার নিজ বাড়িতে ও এলাকায় তার সাথে চানমিয়াকে অনেকবার দেখেছি।আর কাওকে একাই কোনো ব্যক্তি পক্ষে দিন দুপুরে একটি জায়গা থেকে অপহরন করা অসম্ভব।আর অপহরনকারীরা নিশ্চয়ই অপহৃত ব্যক্তির নিজের মোবাইল সংযোগ চালু রাখতে দিবেন না,রিভা পালানোর পর সর্বদাই তার ব্যবহৃত মোবাইল সংযোগটি চালুই ছিলো।যা কি না এলাকায় অনেকের কাছেই হাস্যরস সৃস্টি করেছে।

কিন্তু চান মিয়া যে বিবাহিত তা সে এলাকায় গিয়ে প্রতিবেশিদের কাছে জানতে পেরে তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েন।এলাবাবাসী তাকে জানান,

চানমিয়া বিবাহিত,তার স্ত্রী সন্তান আছে।সে এর আগেও অনেক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ও তাদের সর্বনাশ করে পাচার ও বিক্রি করে দিয়েছেন।পরে রিভা নিজেই হতাশা গ্রস্হ্য হয়ে পরিবারে লোকদের সাথে যোগাযোগ করে নিজের ভুল হয়েছে মর্মে আর্তনাদ করলে তার কথা মতই অপহরনের নাটক সাজিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।রিভার স্বামী বাড়ি ডিমলা সদরের পোস্ট অফিস মোড় সংলগ্নের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন,চান মিয়াকে আমরা এলাকায় এর আগেও দেখেছি সরদার ফজলুল হকের বাসায়।আর সরদার ফজলুল হকের অনেক চারিত্রিক সমস্যা রয়েছে।নারী লোভী এই গাটু ফজলু তার প্রথম বিবাহিত স্ত্রী যিনি কিনা মাটির মানুষ হবার পরেও ডিমলা মহিলা কলেজে চাকরিরত অবস্হায় রিভার সাথে অনৈতিক কাজে হাতে নাতে ধরা পরলে এলাকায় তা ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে আর বাধ্য হয় তাকে বিয়ে করতে।রিভাকে বিয়ের অল্পকিছুদিনের মধ্যেই সে তার বিবাহিত প্রথম সহজ,সরল স্ত্রীকে তালাক দেন।যে মেয়েকে পেয়ে সে প্রথম স্ত্রীর সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছিলেন আজ সেই মেয়ে রিভা তার দ্বিতীয় স্ত্রীই তার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে।একেই বলে নিজের কু কর্মের ফল।

ডিমলা থানার ওসি রহুল আমিন খান জানায়, গ্রেফতারকৃত নারী পাচারকারী দলের সদস্য আনোয়ার হোসেন ওরফে চানমিয়াকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছেন। ভিকটিমকে আদালতের ১৬১ ধারায় জমানবন্দী শেষে পিতার জিম্মায় দেয়া হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই