মেইন ম্যেনু

মোরা কি হাক-পাতাও খামু না?

গত দুই সপ্তার চাইতে আইজ প্রত্যেকটা সবজির দাম কেজিতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ টাহা বাড়ছে। এইরম দাম হইলে আমারা গরিবরা ক্যামনে বাঁচমু, একটু হাক (শাক) পাতাও কি খাইতে পারমুনা। যেইডা ধরি হেইডার দামই পঞ্চাশ টাহার বেশি। আগে যে লাউ কিনছি ৩০ থেকে ৪০ টাহায়, আইজ হেই লাউ কেনলাম ৬০ টাহায়, হেয়াও দড়াদরি কইরা নেতে হইছে।’

অভিযোগের শুরে কথাগুলো বলছিলেন,পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্ধা হনুফা বেগম।
মানুষের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেই চলে তার ছয় সদস্যের সংসার। প্রতিদিনের মতো তিনি তার ওড়নার খোটে গিট দিয়ে ১শ টাকা নিয়ে পরিবারের জন্য বাজার করতে এসেছেন। স্বামী রাজ মিস্ত্রির কাজ করায় প্রতিদিন তাকেই বাজার করতে হয়। আগে ১শ টাকার সবজি দিয়েই দিব্বি চলে যেতো হনুফার সংসার। তবে আজ আর তেমনটি হলো না। তাইতো ৬০ টাকায় একটি লাউ ও ৪০ টাকায় এক কেজি মূলা কিনেই ফিরতে হয়েছে তাকে।

একই অবস্থা বাজারে আশা অধিকাংশ ক্রেতাদের। কেউই যেন সবজি বাজারে এসে তাদের সাধ আর সাধ্যের সঙ্গে মেলাতে পারছেন না। জুবিলী স্কুল সড়কের বাসিন্ধা শাহাদাত হোসেন একটি বেসরকারি ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। চার সদস্যের পরিবারের জন্য কয়েক পদের সবজি কেনার ইচ্ছা নিয়ে বাসা থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। কিন্তু বাজারে গিয়ে তার সাধের সঙ্গে সাধ্যের মিল হলো না। পটুয়াখালীর নিউ মার্কেট থেকে তাইতো এক কেজি বাঁধাকপি ও এক কেজি কড়লা কিনেই খুশি থাকতে হলো তাকে। আর সেই সঙ্গে পটল, বেগুন, বরবটি না কিনেই বাড়িতে ফিরলেন তিনি।

শাহাদাত হোসেন জানান, প্রতি কেজি বরবটি ৭০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা এবং সিম প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে এই দামে বিক্রি হলেও কয়েক দিন আগেও তিনি অধিকাংশ সবজি কিনেছেন ৫০ টাকার নিচে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের সবজি বাজারগুলোতে এখন রিতিমতো অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রকার ভেদে ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন জাতের সবজি। এ অবস্থায় বাজার করতে আশা নিম্ন আয়ের ও নিম্নমধ্যবিত্তদের বিপাকে পরতে হচ্ছে। তবে সবজি বিক্রেতারা বলছেন, কৃষক পর্যায় বেশি দাম দিয়ে সবজি ক্রয় করায় তারা একটু বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

নিউ মার্কেটের খুচরা সবজি বিক্রেতা ইকবাল হোসেন বলেন,‘আগে প্রতি কেজি কড়লা কিনতাম ৩০ টাহা দরে। আর এহন কিনতে হয় ৫০ থেকে ৫৫ টাহা দরে। হ্যার পর ক্যারিং খরচ বাজারের খাজনা তো আছেই। এই অবস্থা হগল সবজির ব্যালায়। কৃষকদের হাত হইয়া পাইকার হ্যার পর আয় আমাগো হাতে, বেশি দামে কেনা আর হেইরম বেশি দামেই বেচা, কি আর করা।’

শহরের পুরান বাজারে নিয়মিত বাজার করতে আশা ব্যবসায়ী আসাদ হোসেন বলেন, ‘সরকার চাকরিজীবীদের পে-স্কেল ঘোষণা হরায় এবং উত্তর অঞ্চলে বন্যার পর থাইক্যা পটুয়াখালীসহ এই অঞ্চলের সবজির বাজারগুলো অস্থির হইছে। তয় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হইলেও সবজির দাম কোমে নাই। উল্ডা বাইরা গ্যাছে।’

এদিকে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারি ভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থাকলেও তাদের এসব বিষয়ে নেই কোনো নজরদারী। আর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজারে পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙ্গিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন অজুহাতেই বাড়ছে সবজির দাম।

বর্তমানে সবজির দামের এই ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন আয়ের ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে তাদের খাবার তালিকা বাধ্য হয়েই পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই বিভিন্ন সবজির ভর্তা করে খাচ্ছেন। এতে করে সবজির পরিমাণ কিছুটা কম লাগছে।

স্থানীয়দের দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কাঁচা বাজারে সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন।






মন্তব্য চালু নেই