মেইন ম্যেনু

মোশাররফ-জুঁইয়ের ভালোবাসার গল্প

মোশাররফ করিম। যার আর আলাদা কোনো বিশেষণের দরকার পড়ে না। বাংলাদেশের ছোটপর্দা কাঁপানো জনপ্রিয় অভিনেতা।

মঞ্চ নাটক থেকে টিভি পর্দা এবং পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন তিনি। দারুচিনি দ্বীপ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।

তবে আজ আমরা মোশাররফ করিমের অভিনয় নিয়ে কথা বলব না। জানব তার জীবনের ছোট্ট প্রেমের গল্পটি।

২০০০ সাল। মোশাররফ করিম একটা কোচিংয়ে পড়ান। জুঁই তখন ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্রী। মোশাররফ ছিলেন গম্ভীর প্রকৃতির। দুজনের ভেতরে খুব একটা কথা হতো না। ঘটনাক্রমে জুঁই সেই কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা শুরু করেন। দুজন তখন কলিগ হয়ে গেলেন।

ক্লাস নেয়ার ফাঁকে ফাঁকে দুজনের মাঝে কথা হতো টুকটাক। কিন্তু সেই কথাগুলোই জমতে জমতে কথার পাহাড়ে রূপ নেয়।

একসময় এমন হলো যে, কথার রেলগাড়িটা যেন থামতই না! কথা না বললে মোশাররফ করিমের বুকের বা’পাশটা পোড়ায়। মনটা নিশপিশ করে।

তাহলে কি জুঁইয়ের প্রতি মোশাররফ করিম দুর্বল হয়ে পড়লেন? নাহ! এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না। একসময় আবিষ্কার করলেন, মেয়েটিকে তিনি ভালোবাসেন। কিন্তু বলবেন কিভাবে? আকারে ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ফলাফল শূন্য। মেয়েটা ঠিক বুঝেও বুঝে ওঠে না। ভারি বিপদে পড়া গেল। নিজে প্রপোজ করতেও পারছেন না। কারণ তার মতে, ‘সরাসরি ভালোবাসার কথা বললে ব্যাপারটা পানির মতো লাগে। একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বললে ভালো। চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি’।

শেষে বুদ্ধি আঁটলেন। বন্ধুকে দিয়ে প্রপোজ করাবেন। পরদিনই প্রপোজ করলেন। মেয়েটি হ্যাঁ-না কিছুই বলে না। চিন্তায় পড়ে গেলেন তিনি। বারবার মনে ধাক্কা খায়, ‘যদি না বলে! মান সম্মান সব যাবে!’ শঙ্কা কেটে গেল দিন দুয়েক পর। একটা পত্রিকার কাগজে জুঁই ‘ইয়েস’ লিখে মোশাররফকে দেন। তারপর শুরু হলো তাদের নতুন করে পথচলা।

কিন্তু জুঁই কি কখনো ভেবেছিলেন তাদের দুজনের সম্পর্ক হবে? ‘নাহ! আমি তো ভেবেছিলাম উনাকে আমাদের ফ্যামিলি মেম্বার বানাব! আমি পরিবারে বিবাহযোগ্য পাত্রীও খোঁজাখুঁজি করেছিলাম। যার সঙ্গে ওর বিয়ে দিয়ে ফ্যামিলির সদস্য বাড়াব। কিন্তু ও যে আমাকেই ভালোবাসে এটা ভাবতেই পারিনি। আর আমিই যে ওকে ভালোবেসে ফ্যামিলি মেম্বার বানাতে পারি এটা মাথায় আসেনি’ জুঁই বলেন।

বছর চারেক চুটিয়ে দু’জন প্রেম করার পর ২০০৪ সালের ৭ অক্টোবর বিয়ে করেন। এত বছরের পথ পরিক্রমায় তাদের জীবনে যুক্ত হয়েছে হাজারো অভিজ্ঞতা। স্বামীর হাসিটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হয় জুঁইয়ের কাছে।

পর্দার বাইরের এই সফল জুটি ক্যামেরার সামনেও জুটি বেঁধে কাজ করেছেন। জুটি বেঁধে প্রথম নাটকের অভিজ্ঞতাটাও দারুণ। জুঁই বলেন, ‘ওর সঙ্গে আমি বেশ কমফোর্টলি কাজ করেছিলাম। কিন্তু ও আমার অ্যাকটিং নিয়ে খুব চিন্তা করে। তার কথা, আমি ভালো পারব না কেন। তখন আমার খুব অসহায় লেগেছিল। কিন্তু এখন ঠিক হয়ে গেছে।’

তখন কেমন মনে হয়েছিল মোশাররফের? ‘প্রথম শর্টের সময় মনে হলো এটা কি ঠিক হচ্ছে। খুব অস্বস্তি লাগছিল। সে যে আমার কো-আর্টিস্ট মেনে নিতে অনেক সময় লেগে গেছে। এখন ঠিক হয়ে গেছে।’

মোশাররফ করিমের নাটক মানেই মজায় ভরপুর। পর্দার বাইরের মোশাররফও এমন মজার মানুষ?

‘বাসায় সে খুব গম্ভীর। মাঝে মাঝে একটু আধটু ফান করে।তবে অভিনয়ে যতটা করে ততটা নয়’। বললেন জুঁই।






মন্তব্য চালু নেই