মেইন ম্যেনু

মৌরিতানিয়ার রহস্যময় নীল চোখ

আফ্রিকার সাহারা অঞ্চলে রয়েছে এক রহস্যময় চোখ। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই এই রহস্যময় চোখের সৃষ্টি নাকি, পরবর্তীতে প্যানজিয়া ভাগ হওয়ার সময় এর সৃষ্টি তা কেউ বলতে পারে না। বিজ্ঞানীরা যদিও এই চোখকে রিখাত স্ট্রাকচার হিসেবে চিহ্নিত করলেও স্থানীয়রা একে সাহারার নীল চোখ হিসেবেই চেনেন। মৌরিতানিয়ার নিকটবর্তী অওদানে নামক অঞ্চলের সাহারা মরুভূমির অংশে ওই চোখের অবস্থান। আর এই চোখের ব্যাপ্তি এতটাই বিশাল যে মহাকাশ থেকেও দিব্যি দেখা যায় একে। এই চোখের আয়তন প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার এবং বিজ্ঞানীরা এর উৎস সন্ধান না করতে পারলেও অনুসিদ্ধান্তে জানিয়েছেন যে, এটা মহাকাশ থেকে আসা উল্কার কারণে সৃষ্ট।

যদিও অপর একদল বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাচীন কোনো আগ্নেয়গিরির উদগীরণ কিংবা এটাই সেই প্রাচীন আগ্নেয়গিরি যার কথা বিভিন্ন মিথে উল্লেখ আছে। প্রত্যেক গবেষক দলই তাদের গবেষণার পক্ষে কিছু না কিছু সাক্ষ্য প্রমাণ জড়ো করেছেন। কিন্তু প্রত্যেকই অন্তত একটি জায়গায় এসে ঠেকে যান, আর সেটা হলো এই নীল চোখের মধ্যকার গোল বৃত্তগুলো। বেশ কয়েকটি গোল বৃত্ত সহজেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত করে যে, এর অবশ্যই কোনো কেন্দ্র আছে। এখন কথা হলো, কি সেই কেন্দ্র? এই কেন্দ্র কি পৃথিবী নামক গ্রহের শক্তির ভরকেন্দ্র নাকি অন্যকিছু।

তবে রহস্যকে আরও ঘণীভূত করতে ওস্তাদ আছেন অনেকেই। যেমন উত্তর আমেরিকার একদল বিজ্ঞানীর মতে, এই নীল চোখটি আসলে লুপ্ত শহর আটলান্টিসের কেন্দ্র। গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর মতে, দ্বীপটি ছিল গোলাকার এবং পানি এবং মাটির স্তর ভেদে দুই ভাগে বিভক্ত। আটলান্টিস যখন ভূমিকম্পের ফলে লাভা আর কাদায় দেবে যায় তখন শহরটি সমুদ্রের তলায় ডুবে যায়। আটলান্টিসের সামনে বেশকিছু পিলার ছিল।’ প্লেটোর এই ব্যাখ্যা আমাদের আরও বিশাল রহস্যের দিকে অনায়াসে ঠেলে দেয়। সেই প্লেটোর বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে রহস্য উন্মোচনে মৌরিতানিয়া চললেন অধ্যাপক অ্যান্টনি গিগাল তিন বছরের জন্য। প্রথমেই তিনি চোখের পশ্চিমদিক দিয়ে করেডারটি দেখার চেষ্টা করলেন। এরপর আরও অনেক গবেষণার পর তিনি এই সিদ্ধান্তে আসতে পারলেন যে, মূল চোখটি আসলে দুটো বিশাল পাথরের প্লেটের উপর অবস্থিত। নিচের প্লেটটি প্রায় বিশ মিটার দীর্ঘ এবং উপরের প্লেট তিন কিলোমিটার জায়গা জুরে। তবে অন্য আরেক হিসেবে প্লেটগুলো ৩০০ মিটার লম্বা এবং ৪ মিটার চওড়া।

কথা হলো, এই প্লেটগুলো যে অবস্থায় আছে তা যদি প্রকৃতি সৃষ্ট হয় তাহলে প্রচণ্ড উত্তাপের কারণে এই অবস্থায় আসতে কমপক্ষে ১০০ মিলিয়ন বছর লাগার কথা। মনে রাখতে হবে, যদি এটা স্বাভাবিক তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে হয় তবেই এত সময় লাগবে, আর যদি কৃত্তিম তাপমাত্রার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে কত সময় লাগবে তা বলা মুশকিল। কারণ পৃথিবীতে আজ অবধি এমন কোনো প্রযুক্তি বের হয়নি যা দিয়ে এই বিশালকার এলাকাটি প্রচণ্ড তাপমাত্র প্রয়োগ করে এরকম অবস্থায় নিয়ে আসবে।

কিন্তু মজার তথ্য হলো, আমরা জানি যে সাহারা মরুভূমিতে প্রায় চল্লিশ হাজার বছর আগে বিশাল লেক ছিল। এমনকি ৬৫০০ অব্দেও সাহারা অঞ্চলে কিছু আর্দতা ছিল এবং মোট ৯৪ লাখ বর্গমাইল এলাকাজুরে এই মরুভূমির অবস্থান। প্রায় একশ মিলিয়ন বছর আগে এই পুরো অঞ্চলটিই ছিল মূলত সমুদ্র। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে মৌরিতানিয়ার এই নীল চোখ নিয়ে আরও অনেক অনেক গবেষণার দরকার আছে। কে জানে হয়তো সৃষ্টিরহস্যের অনেক গোপন তথ্যই আমাদের সামনে উপস্থিত হবে এর রহস্য উন্মোচন করা গেলে।






মন্তব্য চালু নেই