মেইন ম্যেনু

মৌলভীবাজারে কনেকে ফেলে দৌড়ে পালাল বর

মৌলভীবাজার : ৭টি মাইক্রোবাসে প্রায় ১০০ বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে হাজির হন বর মইনুল ইসলাম (৩০)। প্যান্ডেলে চলছে বরযাত্রীসহ অতিথিদের খাবারের আপ্যায়ন।

স্টেজে মাথায় পাগড়ি, হাতে রুমাল নিয়ে লাজুক লাজুক চোখে বসে আছেন বর মইনুল। ঘরের কোণে খাটের ওপর সাজগোজ করে কাপড় প্যাঁচিয়ে বসে আছেন কনে ৯ম শ্রেণীর মাদ্রাসার ছাত্রী (১৪)।

এমন সময় বাল্যবিয়ের খবর শুনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু। এ খবরে কনেকে ফেলে দৌড়ে পালাল বর।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে কমলগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব রামপাশা গ্রামে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমলগঞ্জ পৌর এলাকার সফাৎ আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ১৪ বছর বয়সী ৯ম শ্রেণীর ছাত্রীর সঙ্গে ঘটা করে বিয়ের আয়োজন করে পরিবার।

বুধবার দুপুরে এ আয়োজনের গোপন সংবাদ পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল আলম পুলিশ নিয়ে অভিযান চালান কনের বাড়ি কমলগঞ্জ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের পূর্ব রামপাশা গ্রামে।

সঙ্গে ছুটে আসেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহেদা আক্তারসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে আসার খবরে বর ও কনের বাড়ির লোকজন ভয়ে এদিক-ওদিক ছুটোছুটি শুরু করেন।

বিকেল ৩টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল আলমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিয়ে বাড়িতে আসার আগেই কাজী আব্দুল কাইয়ুম বিয়ের সব কাজ সম্পন্ন করে ফেলেন।

কনের বাড়িতে প্রশাসনের লোকজন পৌঁছার খবরে কাজ সেরে সটকে পড়েন কাজী আব্দুল কাইয়ুমও। বরের বাড়ি কুলাউড়ার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল আলম স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাসেল মতলিব তরফদার (ফখরু) ও মহিলা কাউন্সিলর শাপলা আক্তারের উপস্থিতিতে কনের পিতা আলকাছ মিয়া ও মাতা লুৎফা বেগমকে ডেকে এনে বাল্যবিয়ে বিধিনিষেধের কথা জানান।

মেয়ের ১৮ বছর না হওয়ায় বিয়ে বন্ধের আদেশ দেন তিনি। বাল্যবিয়েতে আইনি নিষেধাজ্ঞা আছে। আইন অমান্য করে বিয়ে দিলে তা হবে দণ্ডনীয় অপরাধ।

জন্মনিবন্ধন কার্ড অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কনেকে স্থানীয় কাউন্সিলরের জিম্মায় রেখে দিয়ে বলা হয়, মেয়েকে স্বামীর বাড়িতে পাঠালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল আলম বলেন, কমলগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করতে কাজ চলছে। তার অংশ হিসেবেই মেয়েটির বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই