মেইন ম্যেনু

বিএসএলের জাঁকালো লোগো উন্মোচন রোববার

ম্যারাডোনার বাংলাদেশে আসা নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রথমবারের মতো ফ্রাঞ্চাইজিক ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ সুপার লিগ নামে এই টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াবে চলতি বছরের নভেম্বরে। এই নিয়ে জোর পদক্ষেপেই আগাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তাদের সঙ্গে আছে প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক। টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াতে অনেক দেরি থাকলেও এখনই বিএসএলের লোগো উন্মোচনের ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রোববার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাঁকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হবে বাংলাদেশ সুপার লিগের লোগো উন্মোচন। তবে যাকে নিয়ে কদিন ধরে ফুটবল অঙ্গনে বেশ আলোচনা, সেই আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার আসা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।

বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে লোগো উন্মোচনের বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডরেশনের সহ-সভাপতি বাদল রায়, সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন এবং নির্বাহি পরিচালক সারোয়ার আনাম।

রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে লোগো উন্মোচনের অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার এমপি এবং ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। লোগো ‍উন্মোচন অনুষ্ঠানে ব্যয় হবে প্রায় এক কোটি টাকা। টুর্নামেন্টের থিম সং তৈরি হয়েছে। এদিন থিম সংয়ের সঙ্গে আকর্ষণীয় কোরিওগ্রাফি করবে ঈগল ড্যান্সগ্রুপ। থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাবেক ফুটবলারদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি প্রমো। এদিন তা দেখানো হবে। সব শেষে বর্ণীল আতশবাজি।

টুর্নামেন্টের বড় আকষর্ণ ম্যারাডোনা। এমনটি কদিন আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল। আর্জেন্টাইন এই ফুটবল ঈশ্বর নাকি বাংলাদেশ সুপার লিগের শুভেচ্ছাদূত হতে পারেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে তরফদার রহুল আমিন যা বললেন, তা হতাশারই। ম্যারাডোনা এই টুর্নামেন্টের শুভেচ্ছা দূত হবেন, এমন খবর দিয়েছিল ভারতীয় গনমাধ্যম আনন্দবাজার। তবে তরফদার রহুল আমিন বলেন, ‘এমন খবর তারা কোথায় পেল জানি না।’ পরক্ষণেই অবশ্য ছন্দ ধরে রাখতে বলেন, ‘হ্যাঁ ম্যারাডোনা সহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা চলছে। তবে এখনও সবকিছু ফাইনাল হয়নি’।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাফুফের সহ-সভাপতি বাদল রায় বলেন, ‘ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় ও দর্শকদের উদ্বুদ্ধ করতেই বিএসএল আয়োজনের প্রচেষ্টা। বাফুফে সভাপতি ফিফা কংগ্রেসে যোগ দেয়ায় এখানে থাকতে পারেননি। আপনাদের সহযোগিতা পেলে এই টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারব আমরা। দেশের আনাচে কানাচে ফুটবল উন্মাদনা তৈরি করাতে এই টুর্নামেন্ট বেশ কাজে দেবে’।

দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে হবে এই টুর্নামেন্ট। থাকবে আটটি ফ্রাঞ্চাইজি। খেলাগুলো হবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহীর স্টেডিয়ামগুলো পরিদর্শন করেছে বাফুফে। বাকি স্টেডিয়ামগুলো পরিদর্শন হবে দ্বিতীয় দফায়।

টুর্নামেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ার টেকের কর্ণধার তরফদার রহুল আমিন খুব আশাবাদী এই টুর্নামেন্ট নিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্লাব ভিত্তিক টুর্নামেন্ট সফলভাবে করেছি চট্টগ্রামে। শেখ কামাল টুর্নামেন্টের পর আমাদের চোখ এখন ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ সুপার লিগ নিয়ে। ফুটবলের বাণিজ্যকরণ সব দেশেই আছে। আমাদের এখানেও দরকার। এতে ফুটবলের জাগরণ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার অনেক ফুটবলাররা আসবেন খেলতে। এতে বিদেশী খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবে স্থানীয় ফুটবলাররা। আবার বেশীরভাগ দলের কোচই থাকবেন ইউরোপের। যাদের অধীনে খেলতে গিয়ে অনেক কিছুই শিখতে পারবে এখানকার ফুটবলাররা।’

কারা কারা কিনবে দলগুলো। তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। মার্চের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে কর্পোরেট নাইটস। যেখানে আমন্ত্রণ জানানো হবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের। সেখানেই চূড়ান্ত হবে কারা কিনতে পারবে এই টুর্নামেন্টের দল। এপ্রিলের শেষের দিকে ওপেন বিড হবে। সেখানে চূড়ান্ত হবে আটটি দলের মালিকানা। তাদের সঙ্গে হবে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি। তবে দল কিনতে আসা কোম্পানিগুলোকে আগাম শর্ত দিয়ে রাখা হয়েছে। প্রত্যেক ফ্রাঞ্চাইজি দলকে চালাতে হবে একটি ফুটবল একাডেমি।






মন্তব্য চালু নেই