মেইন ম্যেনু

ময়মনসিংহে কয়েক হাজার সিমসহ আটক ৩

ময়মনসিংহ শহরের সানকিপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জাম ও বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের কয়েক হাজার সিমসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৯ জুন) রাতে শহরের সানকিপাড়ায় নয়ন মণি মার্কেট এলাকার ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন— জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দিগপাড়া গ্রামের জালাল আকন্দের ছেলে হুমায়ুন কবির (২৫), একই এলাকার বাকুরচর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে জহিরুল ইসলাম (২০) ও টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কর্ণা দক্ষিণপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে রুহুল আমিন (২০)।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম জানান, সানকিপাড়ার সৌদি প্রবাসী সুরুজ মিয়ার বাসায় দীর্ঘদিন ধরে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন কোম্পানির সিম নিবন্ধনসহ (বায়োমেট্রিক) অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা করে আসছে একটি চক্র।

গোপন সংবাদে খবর পেয়ে ওই বাসার ৫ম তলায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিভিন্ন ভিওআইপি সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করা হয়, বলেন ওসি কামরুল।

এ সময় ৫টি ডিভাইস, ২টি কম্পিউটার, ১টি ল্যাপটপ, ১টি বায়োমেট্রিক মেশিন, বিভিন্ন প্রকার ক্যাবল, জাতীয় পরিচয়পত্র, বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির কাগজপত্রসহ কয়েক হাজার জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধিত সিম উদ্ধার করা হয়। ‘অচল’ সিমও রয়েছে বিপুল।

ওসি কামরুল আরও জানান, আটক ওই তিনজনের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেসরকারি মোবাইল অপারেটর এয়ারটেলের তিন কর্মকর্তাকে সিম জালিয়াতির অভিযোগে বুধবার সকালে গ্রেপ্তার করার পর রাতেই ময়মনসিংহে আরেক চক্রের সন্ধান পেল পুলিশ।

অনিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপির মাধ্যম বিদেশে টেলি যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়ে এ ধরনের চক্রগুলো সরকারের কর ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করে আসছে। এ ধরনের সিম ভিওআইপি ছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরনের অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে পুলিশের কাছে।
গতকাল বুধবার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিমকার্ড রেজিস্ট্রেশনের সময় গ্রাহকের আঙুলের একাধিক ছাপ নিয়ে তার নামে অন্য মোবাইল অপারেটরের সিম নম্বর রেজিস্ট্রেশন দেখিয়ে গ্রাহকের কাছে বিক্রির অভিযোগে ২১ জনকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে ৩ জন এয়ারটেলের টেরিটরি ম্যানেজার। তাদের কাছ থেকে এয়ারটেলের প্রায় ১ লাখ সিম জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক সবাই একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। ওই অপারেটরের কয়েকজন ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলারও জালিয়াত চক্রের সঙ্গে জড়িত।

বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে আগে থেকে চালু সিম। গতবছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি সিম পুনঃনিবন্ধন প্রক্রিয়া চলে। সে অনুযায়ী এখন আর আঙুলের ছাপ না দিয়ে নতুন সিম কেনা যাবে না।

টেলিযোগাযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুন পর্যন্ত মোট ১১ কোটি ৬০ লাখের মতো সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র হিসাবে গত এপ্রিল শেষ নাগাদ গ্রাহকের হাতে থাকা মোবাইল সিমের সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ২০ লাখের মতো। এ হিসাবে এখনও দেড় কোটির বেশি সিম নিবন্ধিত না হওয়ায় ঘোষণা অনুযায়ী সেগুলো বন্ধ রয়েছে।

তবে গ্রাহকরা ইচ্ছা করলেই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করে সেই সিম তুলতে পারছেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি দোকানে জাতীয় পরিচয়পত্র ও আঙুলের ছাপ ছাড়াই সিম বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ও পুলিশ।






মন্তব্য চালু নেই