মেইন ম্যেনু

যত কাণ্ড তুরস্কে…

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একটা কথা সাঙ্ঘাতিক ভাবে চাউর আছে, ‘হোয়াট হ্যাপেনস ইন দ্য আউটডোর, স্টেস ইন আউটডোর’।

সে কথার যখন খেলাপ হয় তা এতটাই বড় আকার নেয় যে, গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক পর্যন্ত ভেঙে যেতে পারে। এই মুহূর্তে টালিগঞ্জের সবচেয়ে বড় খবর এটাই। দূর তুরস্কে লম্বা আউটডোরের পরিপেক্ষিতে ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে মিমি ও তাঁর বহু দিনের বয়ফ্রেন্ড রাজ চক্রবর্তীর।

দু’জনের কেউ যদিও কোনও দিন তাঁদের সম্পর্ক সরাসরি ভাবে স্বীকার করেননি। কিন্তু টলিউডের সবচেয়ে বড় ‘ওপেন সিক্রেট’ ছিল বোধহয় রাজ-মিমির প্রেম।এমনকী তাঁদের সম্পর্কের কথা জানতেন টালিগঞ্জের সাধারণ টেকনিশিয়ান থেকে মুখ্যমন্ত্রী — সবাই। শোনা যায় একসময় উঠতি এক নায়িকাকে কেন্দ্র করে চিড় ধরেছিল তাঁদের সম্পর্কে। যা ইন্ডাস্ট্রির এক সুপারস্টার নায়ক এবং প্রযোজক-পরিচালক বন্ধুদের হস্তক্ষেপে মিটে যায়। মাস দু’য়েক আগে বঙ্গ সম্মেলনেও গিয়েছিলেন রাজ-মিমি। তখনও তাঁদের সম্পর্ক অটুট ছিল।

ঘটনার সূত্রপাত তুরস্কে। গত সপ্তাহ পর্যন্ত সেখানেই চলছিল অভিনেতা যশ দাশগুপ্তের প্রথম ছবি ‘গ্যাংস্টার’‌য়ের শ্যুটিং। যেখানে নায়িকার ভূমিকায় ছিলেন মিমি। না, নায়কের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়নি। কলকাতা থেকে সেই শ্যুটিং কভার করতে আনন্দplus-এর এই প্রতিবেদক হাজির ছিলেন। তখনই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল। দিন দু’য়েক আগে ইউনিট কলকাতায় নামার পর শোনা যায় গুঞ্জনই সত্যি, নতুন প্রেমে পড়েছেন মিমি। কলকাতা নেমে মিমি তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রেখেছেন। রোববার শ্যুটিংয়ের ছবি টুইট করেছেন। তার আগের রাতে এবিপি আনন্দ সেরা বাঙালি সঞ্চালনা করেছেন। আনন্দplus তাঁর প্রেমে পড়া নিয়ে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমায় ছেড়ে দিন। আমার এ নিয়ে কিছু বলার নেই।

যদিও খবর ছড়িয়েছে, তুরস্কে লোকাল লাইন প্রোডিউসর ইলহান কিজল্কির কুড়ি বছরের অত্যন্ত হ্যান্ডসাম ছেলে মিলির সঙ্গে শ্যুটিং শুরু হওয়ার কিছু দিন পর থেকেই নাকি চুটিয়ে প্রেম করতে শুরু করেন সাতাশ বছর বয়সি মিমি। মিলি এমনিতে বাবার সব প্রোডাকশনে থাকেন। ইউনিটের মধ্যেও তাঁর ব্যবহারের জন্য অসম্ভব জনপ্রিয় তিনি। অচিরেই অভিনেতা হিসেবে তাঁর ডেব্যু হতে পারে, এমনটাই শোনা যাচ্ছিল ‘গ্যাংস্টার’‌য়ের সেটে। সেই ডেব্যু বলিউডের সফল পরিচালকের ছবিতে হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল — এমনটাই বলছিলেন তাঁর তুরস্কের বন্ধুরা।

কাট টু মিমি-মিলির লাভ স্টোরি। ঘটনাটা প্রথম চোখে পড়ে ইউনিটের লোকজনের। শোনা যায়, তাঁরা আলাদা করে মিমিকে বোঝান এই সম্পর্কের কোনও ভবিষ্যৎ নেই। যাঁরা বোঝাতে যান, তাঁদের সঙ্গে এমনকী তর্কবিতর্ক হয় অভিনেত্রীর। মিমি নাছোড়বান্দাই ছিলেন, এমনটাই দাবি ইউনিটের কয়েক জনের।

কিন্তু মিমি আর মিলির আলাপ কি এ বার বিরসা দাশগুপ্তর ‘গ্যাংস্টার’ ছবির সময়ই হয়? ইউনিটের লোকজন বলছেন, না। গত বছর পুজোয় রিলিজ হওয়া দেবের ছবি ‘শুধু তোমারই জন্য’র শ্যুটিংও তুরস্কেই হয়েছিল। এমনই কাকতালীয়, সে ছবিরও পরিচালক ছিলেন বিরসা। তখনই নাকি আলাপ হয় মিমি আর মিলির। অন্তরঙ্গতাও ঘটে। কিন্তু সম্পর্কটা দানা বাঁধে ‘গ্যাংস্টার’‌য়ের শ্যুটিং চলাকালীন। তুরস্কে যখন নতুন প্রেমের আবির্ভাব, তখন ইতালিতে জিতের সঙ্গে ‘অভিমান’ ছবির শ্যুটিং করছিলেন রাজ চক্রবর্তী। ইতালি থেকে দুই নায়িকা, শুভশ্রী আর সায়ন্তিকার সঙ্গে ঘনঘন ট্যুইটও করছিলেন পরিচালক। যা অনেকেরই চোখে পড়েছিল। তখনই অনেকের মনে হচ্ছিল, ট্যুইটগুলোর মাধ্যমে কি মিমিকে কিছু বোঝাতে চাইছিলেন রাজ? এখন অনেকেরই মনে হচ্ছে, উত্তর হবে, হ্যাঁ।

ভৌগোলিক দূরত্বে তুরস্ক আর ইতালি তিন হাজার কিলোমিটার হলেও, এ খবর রাজের কাছে পৌঁছতে দেরি হয়নি। তিনি প্রথমে হতবাক হয়ে যান। পরে তিনি তুরস্কের ইউনিটে তাঁর বন্ধুদের কাছে নিয়মিত ফোন আর হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে খবর নিচ্ছিলেন। মিমির সঙ্গেও কথা বলেন। তুরস্কের ইউনিটে তাঁর বন্ধুদের তিনি অনুরোধ করেন মিমিকে বোঝাতে, যাতে কোনও ভাবেই এই নতুন সম্পর্ক ডালপালা না মেলে।

রাজ-মিমির সম্পর্কে বরাবরই একনিষ্ঠ থেকেছেন মিমি। এ জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁকে লোকে বাড়তি পছন্দও করে। তা ছাড়া ডাকাবুকো তরুণী বলে বরাবরই সুনাম আছে। এতটাই ডাকাবুকো যে, বাইপাসে কলার ধরে অ্যাক্সিডেন্ট করা ড্রাইভারকে পুলিশের হাতে তুলে দিতেও তাঁর হাত কাঁপে না। তিনি যে তাঁর মর্জির মালিক এবং তিনি যে যথেষ্ট ‘হার ওন পার্সন’ — সেটা সবার জানা। সম্পর্কের কথা জানাজানি হলে, সবার মনে হতে থাকে, মিমিকে ঘোরানো সহজ হবে না। ঘটনা প্রবাহ এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, শিডিউলের শেষ দিন নায়ক যশ, বিরসা দাশগুপ্ত এবং প্রযোজকের তরফ থেকে রবি শর্মার সামনে মিমি আর তাঁর ছেলের সম্পর্ক নিয়ে খোঁজখবরও নেন লাইন প্রোডিউসর ইলহান। তিনি যে পুরো ব্যাপারটায় যথেষ্ট বিরক্ত, তাও স্পষ্ট করে দেন বছর আটচল্লিশের ইলহান।

কাট টু কলকাতা। পুরো ইউনিট দেশে ফেরার পরেই ‘ব্রেক আপ’‌য়ের খবর তাঁর ঘনিষ্ঠ নায়িকা বন্ধু এবং প্রযোজক বন্ধুদের জানিয়ে দেন মিমি। অসমর্থিত সূত্রে শোনা যায়, রাজকেও বলে দেন খবরটা মিথ্যে নয়।

im

শনিবার বিকেলে রাজকে যখন ফোন করা হল, তখন তিনি গাড়ি চালিয়ে নিজের পৈতৃক বাড়ি হালিশহর থেকে ফিরছেন। বিষণ্ণ রাজ গোটা এপিসোড নিয়ে কোনও কথা বলতে চাননি। শুধু এটুকু বলেছেন, ‘‘যদি একান্ত আপনাদের লিখতেই হয়, ওর সঙ্গে আমার কিছু ভাল ভাল মুহূর্ত আছে, সেগুলোই মনে রাখতে চাই।’’ এর পরেই রাজ লাইন কেটে দেন। ঘনিষ্ঠ মহলে অবশ্য রাজ বলেছেন, ব্যক্তিগত জীবনে এই সিদ্ধান্ত যতই আঘাত বয়ে আনুক, মিমির পেশাদার জীবনে কোথাও ক্ষতি হোক তিনি চান না।

ঘটনার আকস্মিকতায় মিমিও যে যথেষ্ট চাপে সেটাও জানাচ্ছেন তাঁর বন্ধুরা। এমনিতে মিমি মানেই হাসি-ঠাট্টার হুল্লোড়। কিন্তু গত তিন দিনে তাঁর দু’টো পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্স এবং বোরবার দুপুরের একটা ট্যুইটেও মিমিকে যথেষ্ট অন্যমনস্ক ও নিঃসঙ্গ লেগেছে, যা সাধারণত তাঁর ক্ষেত্রে কেউ কখনও বলে না। এর পাশাপাশি এটাও শোনা যাচ্ছে, রাজ তাঁর কিছু বন্ধুর ওপর অসম্ভব বিরক্ত। তাঁর মনে হচ্ছে এই বন্ধুরাই আউটডোরে মিমিকে উসকেছেন এই প্রেমটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় টালিগঞ্জ আশ্চর্য হলেও কমন বন্ধুরা কেউ কেউ বলছেন, রাজ যথেষ্ট সময় দিতে না পারা নিয়ে মিমির অভিমান ছিল। তুরস্ক হয়তো তাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেল। কারও কারও অবশ্য মনে হচ্ছে, লজিক এ ক্ষেত্রে কাজ করেনি — প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে। তুরস্কও তার মধ্যে পড়ে।কারও কারও মনে হচ্ছে, এত উৎপটাং লং ডিসট্যান্স সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নয়। পাঁচ বছরের সম্পর্কে ঘাতপ্রতিঘাত আসতেই পারে। সেটা মিটিয়ে এক হবেন মিমি-রাজ।

টালিগঞ্জের গরিষ্ঠ অংশ অবশ্য মিটমাটের বিশেষ সুযোগ দেখছেন না। তাঁদের মনে হচ্ছে যত ভালবাসাই থাক, দুঃখজনকভাবে দু’টো মোড় যেন আলাদা হয়েই গেল। কোনও মতেই রাজ আর মিমির পথ আর এক হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।






মন্তব্য চালু নেই