মেইন ম্যেনু

যথাসময়ে দলে ফিরবেন সোহেল তাজ

এখন নয়, যথা সময়ে বিশ্বস্ত ‘পার্টি ম্যান’ হিসেবে দলে ফিরবেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে তানজিম সোহেল তাজ।

গত শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দেখা করেন সোহেল তাজ। এসময় আওয়ামী লীগ সভাপতি সোহেল তাজকে স্নেহ পরশে বুকে জড়িয়ে নেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে সোহেল তাজের সাক্ষাতের আবেগঘন ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন সোহেলের ছোট বোন মাহজাবিন আহমেদ মিমি। দ্রুতই ছবিগুলো মন্ত্রী, আওয়ামী লীগ নেতা, ছাত্রলীগ নেতা ও শুভাকাঙ্খীরা শেয়ার করতে থাকেন এবং সোহেল তাজের প্রতি আওয়ামী লীগের আগামী দিনের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার দিবাগত রাত ৯ টার দিকে গণভবনে যান সোহেল তাজ। দীর্ঘদিন পর গণভবনে সোহেল তাজকে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। এসময় সোহেল তাজের সঙ্গে ছিলেন তার মেজ বোন ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য সিমিন হোসেন রিমি ও ছোট বোন মাহজাবিন আহমেদ মিমি।

এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন পত্রিকায় সোহেল তাজের রাজনীতিতে ফেরা এবং না ফেরা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হতে থাকে। এ প্রেক্ষিতে সোমবার সোহেল তাজ নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘বন্ধু আর শুভানুধ্যায়ীদের অবগতির জন্য বলছি, আমার রাজনীতিতে ফেরার যে খবর বেরিয়েছে তা পুরোপুরি অসত্য।’ তিনি আরো লিখেছেন, তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানাতেই তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা গণভবনে গিয়েছিলেন। তিনি লিখেন, ‘আমাদের মনে হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অমূল্য পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা এই ফাউন্ডেশনকে কার্যকর করতে সহায়ক হবে। তিনি কেবল বাংলাদেশের জনগণের অভিভাবক নন, বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রক্ষক। কাজেই আমাদের এই উদ্যোগে আমরা তার সহযোগিতা ও আশির্বাদ চাইব- সেটাই স্বাভাবিক।’
পরে আরেক পোস্টে সোহেল তাজ সবার ‘ভালোবাসা ও সমর্থনের’ জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, আমার বিশ্বাস, তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মানুষের জন্য অনেক ভালো কাজই আমি করতে পারব।’

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিম-লীর সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সোহেল তাজকে ব্যক্তিগতভাবে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম খুব পছন্দ করেন। জাতীয় চার নেতার ছেলেদের একজন সোহেল তাজ রাজনীতির বাইরে থাকুক এটা তারা কেউই চান না। এই দুই নেতাই চান সোহেল তাজকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় করতে।

এই দুই নেতা আরো জানান, শেখ হাসিনা ও সৈয়দ আশরাফ ভবিষ্যতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিশ্বস্ত ‘পার্টি ম্যান’ হিসেবে সোহেল তাজকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় করতে চান।

এর স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনা এবং সৈয়দ আশরাফ একে অপরের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে যেমন কাজ করে যাচ্ছেন ঠিক তেমনি অদূর ভবিষ্যতে জয় যদি আওয়ামী লীগের রাজনীতির হাল ধরেন সেক্ষেত্রে তারা দুজনই এক-অপরের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হিসেবে রাজনীতি করে যাবেন। এ কারণে সোহেল তাজের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি সময়ের অপেক্ষা মাত্র। সময় হলেই শেখ হাসিনার দূরদর্শী রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার প্রমাণ পাবেন।

প্রসঙ্গত, সোহেল তাজ গত ১৩ জানুয়ারি দেশে আসেন। এরপর মা-বাবার নামে ফাউন্ডেশনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজ চারদলীয় জোট সরকার আমলে রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় থেকে নজর কাড়েন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে তাকে দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সোহেল তাজ। তিনি ২০০৯ সালে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্র চলে যান। এরপর তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকেও সরে দাঁড়ান। ওই বছর ৩১ মে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু তখন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন বছর পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারিরও আবেদন জানান। সেই সময় থেকে তার ব্যক্তিগত হিসাবে পাঠানো বেতন-ভাতার যাবতীয় অর্থ ফেরত নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে। এরপর ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন সোহেল তাজ। এর ফলে শূন্য হয়ে যাওয়া গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে উপনির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তার মেজ বোন সিমিন হোসেন রিমি।
দলীয় সূত্র জানায়, এরপর তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজে বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে তিনি অভিমান করে দেশ ছেড়ে বিদেশ পাড়ি জমান। রাজনীতি থেকেও নিজেকে আড়াল করে রাখেন।

আওয়ামী লীগে ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত সোহেল তাজকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছেন। জয়ের বিশেষ উদ্যোগে সোহেল তাজকে বুঝিয়ে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ওই বছরই ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংস জেলহত্যার শিকার হন জাতীয় চার নেতা। তাদের অন্যতম তাজউদ্দীন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সোহেল তাজের সাক্ষাতের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘অনেকদিন পরে মায়ের কোলে বাচ্চার মতো ফিরে আসা…। গোটা বিশ্বে এমন মমতাময়ী নেতা দ্বিতীয় জন নেই।’






মন্তব্য চালু নেই