মেইন ম্যেনু

যমুনা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারটি মরন ফাঁদ

678হামিদা আক্তার বারী, ডিমলা করেসপন্ডেট, নীলফামারী : নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার গোমনাতি ইউনিয়নের আমবাড়ীর হাটে সরকারের অনুমোদনহীন যমুনা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে চলছে রমরমা ব্যবসা। আর এ ব্যবসায় জড়িত রয়েছে বেশ কিছু ভূঁয়া ডাক্তার ও নার্স। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে চালিয়ে যাচ্ছে মানব সেবার আঁড়ালে মানুষের মরণ ফাঁদ তৈরী করে চালানো হচ্ছে যমুনা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারটি। সেই সাথে ভূয়াঁ প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে অপারেশনের নামে আগত রোগীদের গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এভাবেই প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে এলাকার শত শত সাধারণ মানুষ। আজ শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ক্লিনিকটিতে নেই কোন মানসম্মত চিকিৎসা সেবা। নেই কোন ডাক্তার কিংবা প্রশিক্ষিত নার্স। তবে ক্লিনিকটিতে রিসিপশনে টাংগানো হয়েছে বেশ কিছু ডিগ্রিধারী ডাক্তাদের নামের তালিকা। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেল এসব ডাক্তারদের নামের তালিকা টাংগিয়ে কর্তৃপক্ষ চালিয়ে যাচ্ছে হাতুরে ডাক্তার দিয়ে অপারশনের কাজ। এ সময় ক্লিনিক পরিচালনার প্রাথমিক কোন আবেদন করা হয়েছে কি না এ প্রশ্ন করা হলে ক্লিনিকের মালিক কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তিনি বলেন এখনও আবেদন করা হয়নি। তবে আবেদনের প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোন রকম প্রাথমিক অনুমোদন করেও চালিয়ে যাচ্ছে ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটি। এদিকে রোগীর দূর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকার গরীব নিরীহ অসহায় মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েও নানা রকম হয়রানী করছে প্রতিষ্ঠানটি। রোগীদের বর্জ্য নিঃসরনের জন্য নেই কোন ব্যবস্থা। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রসূতি ও নবজাতকে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কোন বালাই নাই ।স্থানীয় এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, এখানে কোন ডাক্তার নেই, সেবা দেয় কিভাবে ? দেখার কি কেউ নেই ? দু/এক জন আয়া দিয়েই চলছে নার্সের কাজ । প্যাথলজিতে বিভাগে কোন ডাক্তার নেই। টেকনোলজিষ্ট নিজেই ডাক্তারের স্বাক্ষর করে দিচ্ছেন রিপোর্ট। যেমন তেমন করেই এসব রিপোর্ট দেওয়ার কারনে রোগীরা সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ঔষধ খেয়ে পড়ছে নানা বিরম্বনায়। হয়ে যাচ্ছে অসুস্থ্য। ভূক্তভোগী এক গর্ভবতী মা সাবিনা বেগম জনান,গত ১৪জুলাই আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট এ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ একজন হাতুরে ডাক্তার দিয়ে সনোগ্রাম করিয়ে রিপোর্ট দেন আমার বাচ্চা প্রসবের তারিখ উল্লেখ করেন ১৫ সেপ্টেম্বর। এবং এ সময় সময বলেন আমাকে নির্ধারিত তারিখের পূর্বেই ক্লিনিকে এসে সিজার করাতে হবে। কিন্তু ১৬ জুলাই আমার বাড়িতেই স্বাভাবিক প্রসব হয়। এতে আমার কোন অসুবিধা হয়নি। এ ঘটনায় ক্লিনিকটির সেবার মান নিয়ে এবং রিপোর্ট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। শুধু তাই নয় ক্লিনিকটিতে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলোতে বেশ কিছু ডাক্তারের নাম ব্যবহার করে রিপোর্ট প্রদান করলেও আসলে সেগুলি ভুয়া। মূলত রিপোর্টগুলিতেদ স্বাক্ষর করেন ক্লিনিকের পরিচালকের ছেলে পল্লী চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম। এভাবে ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আর সেবার নামে রোগীদের ঠেলে দিচ্ছে মরনের দিকে। গ্রামের সহজ-সরল সহায়-সম্বলহীন রোগীরা কিছু বোঝার আগেই ঠকে যাচ্ছেন তাদের চালাকারী কাছে। যখন বুঝতে পারছেন তখন আর কিছু¦ই করার ন্ইা। যা হওয়ার তাই হয়েছে। ঐসব রিপোর্ট ফেলে দিয়ে আবারও নতুন কোন জায়গায় গিয়ে রিপোর্ট করিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে তাদেরকে। এসব সহজ সরল মানুষদের প্রশ্ন তাহলে এর কোন কি প্রতিকার নেই ? এর কি কোন বিচার নেই ? এরকম অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তাদের মনে। ক্লিনিকটিতে চলছে শুধু গর্ভবতী মায়ের সিজার করে টাকা নেয়ার মহোৎসব। সেখানেও রয়েছে নানা জটিলতা। ভুল রিপোর্টের ফলে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু পড়ছে ঝুঁকিতে। আর ভুল চিকিৎসায় আলোতে ভরে উঠার পূর্বেই নিভে যাচ্ছে নিষ্পাপ এসব নবজাতকের জীবন প্রদ্বীপ। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মানুষের জীবন মরণ খেলায় মেতে উঠেছে যমুনা ক্লিনিক এন্ড ডায়ানষ্টিক সেন্টারটি।

সূত্রে প্রকাশ, নীলফামারী জেলায় ২১টি ক্লিনিক ও ৪৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম চালু রয়েছে । কিন্তু যমুনা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটি উক্ত তালিকায় নেই। ডাঃ মিনহাজুল আলমকে ক্লিনিকে সার্বক্ষনিক ডাক্তার হিসেবে প্রচার করা হলেও আসলে তার আড়ালেও রয়েছে ভিন্ন খবর। আসলে ডাঃ মিনহাজুল আলম শাওন সদ্য এমবিবিএস পাশ করলেও তিনি ঢাকায় থাকেন। মাঝে মধ্যে এসে তিনি সেখানে রোগী দেখেন বলে ডাক্তার শাওন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি ঐ ক্লিনিকের দায়িত্ব প্রাপ্ত কিংবা নিয়োগ প্রাপ্ত ডাক্তার নন।

ক্লিনিকটির পরিচালকের ছেলে মো: তরিকুল ইসলাম এসবের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জেলা সিভিল সার্জন এর কার্যালয়ের অফিস সহকারী মনোরঞ্জন এর মৌখিক অনুমোদন নিয়ে ক্লিনিকটি চালু করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুর রশিদ বলেন, আমাদের কাছে যমুনা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অনুমোদনের জন্য আবেদন কিংবা কোন কাগজ নাই।






মন্তব্য চালু নেই