মেইন ম্যেনু

যাকাতের নামে সস্তা কাপড় দেয়ার ঐতিহ্য বন্ধ হোক

বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা একবার এই রোগী আমার চেম্বারে একটা prescription দেখিয়ে বলে স্যার এই কাপড়টা নিয়া আমারে এই ওষুধগুলি দিবেন? যাচাই করে দেখি ঔষধগুলি তার আসলেই প্রয়োজন। এর আগে ঔষধের দোকানে দোকানে একই রকম অফার নিয়ে গিয়ে ফেরত এসেছে। অনেকেরই ধারনা ডাক্তারের চেম্বারে প্রেসকিপশনের সাথে ঔষধও পাওয়া যায়। যাক যেভাবেই হোক তার ওষুধ এর ব্যাবস্হা হয়।

আমি বলি, এইটা বিক্রী করে সে টাকা দিয়ে আপনি পরে আবার ঔষধ লাগলে ডিসপেনছারী থেকে কিনতে পারবেন। (ওষুধ ব্যাবসায়ীদের সিন্ডিকেটেড মার্কেটিং এর ফলে ওষুধের দাম যা গলাকাটা।)
সে বলে, জাকাতের কাপড় কে কিনবে স্যার?

আসলেই কাপড়ের আগে ”যাকাতের” শব্দটা যোগ করলে নিম্নবর্গীয় অচ্ছুৎ কোন বস্ত যেন চোখের সামনে ভেসে উঠে। বাস্তবতাও সেরকমটাই। গরীবদের দেয়া হবে, সুতরাং স্পেশাল অর্ডার দিয়ে যোগাড় করা হয় খারাপ মানের (যাকাতের) লুঙ্গী শাড়ী। এর অর্থনৈতিক ভ্যালু নারীটির কাছে এখন বলতে গেলে শুন্য।

যাওয়ার সময় নারীটি লজ্জায় আনত হয়ে কাচুঁমাচুঁ হয়ে বলে একটা জিনিস চাইবো স্যার?
আমি বলি, কি?
একটা কলম আর খাতা দিবেন?- মাইয়াটা লেখবো। স্কুলে পড়ে।
ডাক্তারের টেবিলে সাধারনতঃ নানা রকম কলম প্যাড থাকে।

আসলে এই নারীটির প্রয়োজন চিকিৎসার খরচ, তার ছেলেমেয়েদের প্রয়োজন শিক্ষার ব্যায়বহনের কেউ। অথচ তাকে একটা শাড়ী দিয়েই আত্মপ্রসাদে ভূগছি যেন দোজাহানের অশেষ নেকি হাসিল করে ফেললাম বুঝি। একটা ‘মুত্তাকী’ ভাব চলে আসে নিজের মধ্যে।

যতদিন আমাদের মনমানসিকতা নেকীর ক্ষুদ্রগন্ডী থেকে মু্ক্ত হয়ে মানবিকতাকে উর্ধে তুলে ধরার বিবেকসম্পন্ন না হবে ততদিন একদল পদদলিত হয়ে মরতে থাকবে আর আরেকদল বেচে থেকেও দলিতের জীবন নিয়ে টিকে থাকবে।

আর আমরা স্বচ্ছলরা শতকরা হিসাবের অংকের দায়িত্ব পালন ও শো-অফ শেষে পুন্য হাসিলের আত্মতুষ্টিতে ভূগতে থাকবো।

[লেখক : ডাঃ আমিনুল ইসলাম]






মন্তব্য চালু নেই