মেইন ম্যেনু

যাত্রীদের শায়েস্তায় গণপরিবহনে ‘মাস্তান’

রাজধানীর পকেট কাটার সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযানের মধ্যেই যাত্রীদের শায়েস্তা করতে বাসে তিন চারজন করে মাস্তান প্রকৃতির লোক রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। মিরপুর রুটসহ অধিকাংশ রুটের বাসগুলোতে এমনটি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে এসব মাস্তান প্রকৃতির লোক তাদের দিকে তেড়ে আসে এবং নানাভাবে অপদস্ত করে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মোজাম্মেল হক। বাংলাদেশে যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সিটিং বাস লোকাল হয়েছে ঘোষণা দিয়ে কিন্তু কমেনি অতিরিক্ত ভাড়া। এ নিয়ে বিতর্ক, ঝগড়া, হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে গত তিন দিনে। এরমধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার প্রতিবাদ করায় দুই গণমাধ্যমকর্মীকে পিটুনির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করায় একাত্তর টিভির বার্তা প্রযোজক আতিক রহমান ও দৈনিক সমকালের প্রতিবেদক ইন্দজিৎ সরকার বাসকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন।

বাড়তি ভাড়া আদায়সহ যাত্রী হয়রানির নানা অভিযোগ করে মোজাম্মেল হক বলেন, রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বন্ধ ঘোষণা করলেও মালিকরা নানা টালবাহানা শুরু করেছেন। জনমনে এখন প্রশ্ন-সিটিং বন্ধের পরও কেন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সিটিং সার্ভিসের দৌরাত্ম বেড়ে যাওয়ায় গণমাধ্যমে ব্যাপক সমোলোচনা হয়। এতে পরিবহন মালিকরা ইমেজ সংকটে পড়ে সিটিং সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযান শুরুর পর থেকে মালিকরা প্রায় ৪০ শতাংশ গাড়ি বন্ধ রাখে। এতে যাত্রীরা আরও ভোগান্তিতে পড়ে।

মালিকরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে নেমেছে উল্লেখ করে মোজাম্মেল বলেন, সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সময় সিটিং সার্ভিসের ভাড়া নৈরাজ্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। এখন মালিকপক্ষ সিটিং সার্ভিস বন্ধের নামে আগের ভাড়া আদায় করে ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, সিটিং সার্ভিস বন্ধে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। কিন্তু মাঝে মাঝে হলে চলবে না, এটা চলমান থাকতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার বিরুদ্ধে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

অভিযান চলাকালে কয়েকদিন দুর্ভোগ হতে পারে এই মানসিকতা তৈরি করতে হবে উল্লেখ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না, দীর্ঘমেয়াদী সুবিধার জন্য একটু কষ্ট করতে হবে। অভিযানের মধ্যে যে সব বাস রাস্তায় নামানো হচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে। এই সব গাড়ির রুট পারমিট বাতিল করতে হবে। বিআরটিএর চেয়ারম্যানের গতকালের বক্তব্যের বাস্তবায়ন দেখতে চাই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই