মেইন ম্যেনু

যাত্রী হয়রানি: এবার রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ৩ লাখ টাকা জরিমানা

নিয়মের তোয়াক্কা না করে অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও ওভারবুকিং করে প্রতিশ্রুত সেবা প্রদানের পরিবর্তে যাত্রী হয়রানি করার অপরাধে রিজেন্ট এয়ারওয়েজকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের অনুমোদিত পলিসিতে ওভারবুকিং করার বিধান নেই। ওভারবুকিং এর কারণে কোনও প্যাসেঞ্জারকে একই ফ্লাইটে না নিতে পারলে পরবর্তী রিমিডিয়াল পলিসি তথা ক্ষতিপূরণ, থাকা-খাওয়া-যাতায়াত এবং প্রয়োজনে অন্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার বাধ্যবাধকতা সম্বলিত ব্যবস্থাও তাদের অনুমোদিত ম্যানুয়েলে নেই।

গত রবিবার সন্ধ্যা ৭.১৫ টার মাসকাটগামী আরএক্স-৭২৩ ফ্লাইটে ওভারবুকিং এর কারণে ৬জন যাত্রীর বোর্ডিং ডিনাই করে এয়ারওয়েজটি। কোনও প্রকার থাকা-খাওয়া-যাতায়াতের ব্যবস্থার বিধানও না থাকায় তারা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। দেশের বিভিন্ন জেলা  থেকে আগত এ ৬জন যাত্রীকে টিকেটে বানোয়াট সমস্যা দেখিয়ে ফেরত দেয়ার চেষ্টা করে।

যাত্রীরা নিজ নিজ ট্রাভেল এজেন্সির সাথে ফোনে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয় যে, টিকেটে কোনও প্রকার সমস্যা নেই। যাত্রীদের আকুতি মিনতিতে এয়ারলাইন্সটি ফ্লাইটে সিট নেই জানিয়ে তাদেরকে দুইদিন পরে আসতে বলে। ভিটেমাটি বিক্রি করে আসা হতদরিদ্র প্রবাসযাত্রীরা অসহায় হয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।

রবিবার মধ্যরাতে ‘ম্যাজিস্ট্রেটস অল এয়ারপোর্টস অব বাংলাদেশ” ফেইসবুক পেইজের একটি পোস্টের কমেন্টে এই হয়রানির চিত্র তুলে ধরেন যাত্রীদের পরিচিত কোনও এক ফেসবুক ইউজার। পেইজ থেকে তাৎক্ষণিক ফিরতি কমেন্টে ভুক্তভোগী যেকোনও যাত্রীর ফোন নম্বর চেয়ে পেইজটির অ্যাডমিন এবং বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ পেয়ে যান যাত্রী আমির হোসেনের নম্বর।

অধিক রাতে ফোন বন্ধ পাওয়ায় যাত্রী কিংবা রিজেন্ট এয়াওয়েজের কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। গতকাল ভোরে যাত্রী আমির এবং রিজেন্ট এয়ারের স্টেশন ম্যানেজারের সাথে ফোনে কথা বলে ঘটনার সত্যতা আঁচ করতে পারেন এবং উভয়পক্ষকে ডেকে এনে সকাল ১১টায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ।

যাত্রী আমীর হোসেন, নিরঞ্জন ঋষি, মাসুম বিল্লাল, রাশেদ মিয়া, ইনসান আলী ও মোহাম্মদ আলী সহ মোট ৬জনের পৃথক পৃথক অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিশ্রুত সেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভোক্তা অধিকার আইনের ৪৫ ধারায় প্রত্যেক অভিযোগের বিপরীতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এয়ারওয়েজটিকে। একই আইনের ৭৬ ধারার বিধানমতে আদায়কৃত জরিমানার ২৫ শতাংশ যাত্রীদেরকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ওভারবুকিং পলিসি ও তার রিমিডিয়াল পলিসি এডপ্ট না করা পর্যন্ত এভাবে যাত্রী হয়রানির পুনরাবৃত্তি না করারও নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ইতোমধ্যে জরিমানা আদায় হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান ‘আমরা মনে করি, যাত্রী হয়রানি লাঘবে আমরা এখনও অনেক পিছিয়ে। আমরা দু’জন ম্যাজিস্ট্রেটই ঘটনার সময় বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছিলাম। আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে এখনও এয়ারলাইন্সগুলো নিত্য নতুন কৌশলে যাত্রীদের হয়রানি করছে, প্রতারিত করছে।’

ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ জানান, তবে বিচারকার্যক্রমে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের সর্বাত্মক সহযোগিতাও আমার ভাল লেগেছে। তারা আইন মেনে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার স্বতঃস্ফুর্ত ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি তারা স্ব-উদ্যোগে কোনও চার্জ ছাড়াই এই ৬জন যাত্রীকে আগামীকাল সন্ধ্যা ৭.১৫ টার ঢাকা-মাসকাট ফ্লাইটে ইকোনোমির পরিবর্তে বিজনেস ক্লাস কনফার্ম করে টিকেট কোর্টের মাধ্যমে যাত্রীদের হস্তান্তর করেছে।






মন্তব্য চালু নেই