মেইন ম্যেনু

যানজটে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে

বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে অনেকেরই মধ্যে নাগরিক শিষ্টাচারের (সিভিল সেন্স) স্খলন ঘটে। এটা যতটা না অভ্যাস থেকে ঘটে, তার চেয়ে বেশি হয় মানসিক চাপের ফলে। বিশেষ করে, রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকলে এমনটি ঘটে। রাস্তায় কিংবা পাবলিক পরিবহনে অনেককেই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তর্ক-বিতর্কে এমনকী মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। কেন এমন হয়?

এই বিষয়ে নয়াদিল্লি মোলচাঁদ মেডসিটি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জিতেন্দ্র নাগপাল বলেন, দ্রুতবর্ধনশীল বিশ্বে আমরা সবাই খুব ব্যস্ত। প্রচুর মানসিক ও শারীরিক চাপ থাকার কারণে আমরা দিন দিন ধৈর্য ও সহ্যশক্তি হারিয়ে ফেলছি। বিশেষ করে, মেট্রোপলিটান শহরের সংকুচিত রাস্তা, দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যাম আমাদের রাস্তাঘাটে ক্ষুব্ধ করে তোলে। রাস্তায় চলাচলকারী অধিকাংশই ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় থাকে। তাদের মধ্যে কিছুসংখ্যক ধৈর্য হারিয়ে সমস্যা সমাধানে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েন। এ ধরণের পরিস্থিতিতে অনেকেই সাময়িক উত্তেজনায় মানসিক সুস্থতা হারিয়ে ফেলেন। মানুষ সহজাত রাগের শিকার হয়, পরক্ষণে আবার ভুলে যায়।

তিনি আরও বলেন, রাস্তায় রাগান্বিত হওয়ার পেছনে আরেকটি কারণ হচ্ছে আমাদের সামাজিক পরিবর্তন। যৌথ পরিবার প্রথা ভেঙে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। তরুণরা অনেক সময় দুঃসাহসিকতা ও শক্তির প্রমাণ দেখাতে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

তাছাড়া, তরুণরা অনেক সময় তাদের পরিচয় জাহির করতে রাস্তায় ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে। তারা মনে করে, অপরাধ করেও তারা সহজে বেঁচে যাবে। ঢাকাটাইমসের পাঠকদের জন্য এমনই কিছু টিপস দেওয়া হলো যা আপনাকে রাস্তাঘাটে রাগান্বিত হওয়ার সমস্যা থেকে রক্ষা করবে।

-সময় বণ্টন করে চলুন। বাসা থেকে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হোন। যাতে করে ট্রাফিকের ঝামেলা, হতাশা ও ক্ষোভ এড়াতে পারেন।

-চাপ কমাতে বিভিন্ন ব্যায়ামের আশ্রয় নিন।

-গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। কয়েকবার এই ব্যায়াম করতে থাকুন। এটি আপনার চাপ কমাতে সহায়তা করবে।

-গভীরভাবে শ্বাস নেয়ার সময় স্বস্তিদায়ক কিছু শব্দ যেমন: ‘রিলাক্স’, ‘টেক ইট ইজি’ বার বার উচ্চারণ করতে পারেন।

-সম্ভব হলে আপনার মনোযোগ গান শোনা বা অন্য দিকে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

-নেতিবাচক কিছু বাক্যের ব্যবহার পরিহার করুন। যেমন: আমি তোমাকে দেখে নিব, তোমাকে উচিত শিক্ষা দেব ইত্যাদি।

-প্রাত্যহিক জীবনে মন হালকা করা ব্যায়াম করুন। ধ্যান, ইয়োগা অথবা চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করতে পারেন। যা আপনার চাপ কমাবে এবং মনকে উৎফুল্ল করবে।






মন্তব্য চালু নেই