মেইন ম্যেনু

যার কাছে চিকিৎসা তার টাকায় জমি কিনলেন বৃক্ষমানব

যার কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন তার টাকায় জমি কিনলেন বহুল আলোচিত বৃক্ষমানব আবুল বাজনদার। হাতে ও পায়ে শিকড়ের মতো মাংসপিণ্ড নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন তিনি।

সেই আবুল বাজনদার খুলনার পাইকগাছায় বাসস্ট্যান্ডের পাশে সাড়ে তিন শতক জমি কিনেন। সরল ৪নং ওর্য়াডে কেনা এ জমিতে এখন বাড়ি নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছেন আবুল। পুরোপুরি সুস্থ হলেই শুরু করবেন বাড়ি তৈরির কাজ।

আবুল বাজনদার জানান, গত ৩১ মে যৌন ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কবির চৌধুরী জমি কেনার জন্য আবুলকে ৬ লাখ টাকা দেন।

ঢাকা থেকে চিকিৎসক কবির চৌধুরী আবুলের বড় ভাই মো. আইয়ুব বাজনদারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেন। সেই টাকায় সরল ৪নং ওয়ার্ডে আবুলের নামে সাড়ে তিন শতক জমি কেনা হয়।

আবুলের নিজেদের কোনো জায়গা জমি বা বাড়িঘর নেই। বাসস্ট্যান্ডের পাশে অন্যের জমিতে তারা খুপড়ি ঘরে বসবাস করে আসছেন। তার বাবা মানিক বাজনদার পেশায় ভ্যানচালক।

আবুল গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছেন। শুধু জমি কেনার টাকাই নয়, বাড়ি নির্মাণের জন্যও অধ্যাপক কবির চৌধুরী টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আবুল বলেন, রোজা থাকতে ইচ্ছা করলেও তিনি রোজা থাকতে পারছেন না। হাসপাতালে আমার বাবা ও স্ত্রী রয়েছে। তারা নিয়মিত রোজা রাখেন।

মা-বাবা, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালেই ঈদ করতে হবে আবুল বাজনদারকে। কিন্তু এজন্য কোনো আক্ষেপ নেই তার। ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন তিনি। এটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া বলে মনে করেন আবুল বাজনদার।

এপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস নামে বিরল রোগে আক্রান্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন আবুল বাজনদার।

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি তার ডান হাতের শিকড়ের মতো মাংসপিণ্ড অস্ত্রোপচার শুরু করা হয়। এ পর্যন্ত তার দু’হাত ও দু’পায়ে কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করা হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর তার চিকিৎসা করা প্রয়োজন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দুই থেকে তিন বছর লাগতে পারে তার। তার চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার বহন করছে সরকার।






মন্তব্য চালু নেই