মেইন ম্যেনু

‘যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে বক্তব্যে পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে’

দেশে আইএসের অস্তিত্ব নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে সরকারের দায়িত্বশীলদের বক্তব্যে পররাষ্ট্র নীতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে বিএনপি।

এই ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে দলটি বলছে, ব্লেম গেম বন্ধ করে কোনো রাষ্ট্রকে দায়ী না করে, মূল সমস্যা সমাধানে সরকারকে নজর দিতে হবে।

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘আইএস কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, সেই বিতর্কে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে- কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব।

‘সরকার যদি যুক্তরাষ্ট্র বা বিশেষ কোনো রাষ্ট্রের প্রতি আঙ্গুল তুলে কথা বলে, বা তাদের দায়ী করা হয়, ব্লেম করা হয়; এটা দেশের পররাষ্ট্রনীতির ওপর ইফেক্ট পড়ে। না বুঝে, না পড়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ক্ষতি হয় এমন মন্তব্য সরকারের পক্ষ থেকে করা উচিত নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতাদের মধ্যে আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহিন উপস্থিত ছিলেন।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশওয়াল ও একজন কাউন্সিলর এ মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সফরের প্রাক্কালে সরকারের মন্ত্রীদের তরফ থেকে আইএস নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে কথাবার্তা বলা হচ্ছে।

‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়েছে। আমরা এখানো জিএসপি ফিরে পাইনি। তাছাড়া তাদের সঙ্গে বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, কারো সঙ্গেই খারাপ সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। সরকারের মন্ত্রীদের কথাবার্তায় এই বৈরিতা যেন প্রকাশ না পায়।’

‘দেশে আইএস নেই’ সরকারের এমন পর্যবেক্ষণে বিএনপি আস্থা রাখতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু লোকজন বিভিন্নপন্থায় আইএসসহ নানা নাম ব্যবহার করে একেক জনকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান আসন্ন এমন একটি ধারণা অনেকের মাধ্যে জেগে উঠেছিল। এর ফলশ্রুতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মিত্ররাও উগ্রবাদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।’

রিপন বলেন, ‘সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন- বাংলাদেশে আইএস আছে এ বিষয়টি স্বীকার করতে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর চাপ আছে। তার কাছ থেকে এই বক্তব্য শোনার পর সমগ্র জাতি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। কারণ দেশে আইএস আছে বা ধর্মীয় উগ্রপন্থা আছে, এটি প্রতিষ্ঠিত হলে দেশ যে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে, তা আঁচ করা যায়।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা মনে করি, দেশে বর্তমানে যে সংকটটি রয়েছে, তা গণতন্ত্রের সংকট। কিন্তু সরকার দেশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিএনপিকে একটি উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসী দল হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে সরকার হয়ত আত্মতৃপ্তি পাবে। কিন্তু সংকট থেকে বের হতে পারবে না।’

সংকট উত্তরণে এই মুহূর্তে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন রিপন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের কাছে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে- তারা ভোট চুরি করেন না এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সক্ষম। পৌর নির্বাচন অবাধ করা সেই প্রক্রিয়ার একটি ধাপ।’






মন্তব্য চালু নেই