মেইন ম্যেনু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হচ্ছেন হিলারি

কে হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট- এমন প্রশ্নের উত্তর এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে না মিললেও ডেমোক্রেট দলের পক্ষ থেকে যে মনোনয়নটা সাবেক ফার্স্টলেডি হিলারি ক্লিনটনই পেতে যাচ্ছেন তা অনেকটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে হিলারির লড়াইটার বিশেষ একটা তাৎপর্য আছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের গত ২৪০ বছরের ইতিহাসে তিনিই হতে যাচ্ছেন প্রথম কোনো নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী।

গত ১৯ এপ্রিল প্রাইমারিতে নিউইয়র্কে জয়ের পর ২৬ এপ্রিল জয় পেয়েছেন মেরিল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া, দেলওয়ার এবং কানিকটিকাটে। এখন প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ডেমোক্রেট দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নের কার্ডটি তুলে নিচ্ছেন হিলারিই। এজন্য অবশ্য অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে তাকে। দলীয় প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সের সাথে লড়াইটা মোটেও একপেশে ছিল না। ওয়াশিংটন, আলাস্কা ও ওহাওয়াইতে বাছাই পর্বের নির্বাচনে বড় ধরনের ব্যবধানে সিনেটর স্যান্ডার্স পরাস্ত করেন হিলারিকে।

ডেমোক্র্যাটরা আগামী ২৫-২৮ জুন ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় কনভেনশনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন আর রিপাবলিকানরা আগামী ১৮-২১ জুলাই ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় জাতীয় কনভেনশনে তাদের প্রার্থী বেছে নেবেন। রিপাবলিকান পার্টির দুই হাজার ৪৭২ প্রতিনিধির বিপরীতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধি রয়েছেন চার হাজার ৭৬২ জন। মনোনয়ন পেতে হলে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীকে অবশ্যই দু হাজার ২৮৩ প্রতিনিধির ভোটে বিজয়ী হতে হবে। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থীকে বিজয়ী হতে হলে দরকার হবে এক হাজার ২৩৭ প্রতিনিধির ভোট।

এখন পর্যন্ত স্যান্ডার্সের এক হাজার ৪৮ প্রতিনিধির ভোটের বিপরীতে হিলারি ক্লিনটন পেয়েছেন এক হাজার ৭৪৮ প্রতিনিধির ভোট। মনোনয়ন পেতে হিলারির দরকার ৬৩৪ ভোট। আর স্যান্ডার্সের দরকার এক হাজার ৩২৩ ভোট। হিলারির আবার একটি বাড়তি সুবিধাও আছে। ডেমোক্রেটিক পার্টিতে অনির্বাচিত ৭২০ জন সুপার ডেলিগেট রয়েছেন। কংগ্রেসের সিটিং মেম্বার থেকে পার্টি কর্তৃক মনোনীত হন তারা।

মূলত এরা হলেন গভর্নর ও দলের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য। ডেমোক্রেটিক ভোটারদের পুরো প্রক্রিয়া বাদ দিয়েই দলের পছন্দ প্রভাবিত করার ক্ষমতা আছে এদের। ইতিমধ্যে এদের ৪৬৯ জন হিলারিকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর ৩১ জন দিয়েছেন স্যান্ডার্সকে। বাকি ২২০ জন এখনো কাউকেই প্রতিশ্রুতি দেননি। মনে করা হচ্ছে, বাকি সুপার ডেলিগেটের বিপুলাংশের সমর্থন পেয়ে হিলারি তার মনোনয়ন নিশ্চিত করবেন।

এর পরের লড়াইটা হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে। সে লড়াইয়েই নির্ধারিত হবে হোয়াইট হাউজের পরবর্তী উত্তরসূরির ভবিষ্যত। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা চলতি বছরের ৮ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উত্তরাধিকারী হিসেবে তাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। আর সেই নির্বাচনে জিতে গেলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থীই নয়, প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হতে পারেন হিলারি।






মন্তব্য চালু নেই