মেইন ম্যেনু

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে তুরস্ক!

পশ্চিমা বিশ্বকে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ এনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, বিদেশি শক্তিগুলোই তার দেশে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করেছে। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় এক অনুষ্ঠানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে দেয়া ব্ক্তব্যে এসব কথা বলেন এরদোয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের জটিলতা নিয়েও কথা বলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তুরস্কের স্বেচ্ছা-নির্বাসিত আলেম ফেতুল্লাহ গুলেনকে আশ্রয় দেয়া অব্যাহত রাখে তবে দেশটির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক অব্যাহত রাখা তুরস্কের পক্ষে আর সম্ভব হবে না। উল্লেখ্য, তুরস্কের অভ্যুত্থান চেষ্টায় উস্কানি দেয়ার অভিযোগে গুলেনকে অভিযুক্ত করে আসছে তুরস্ক সরকার।

এরদোয়ানের বক্তব্যটি তুরস্কের সম্প্রচার মাধ্যম টিআরটি’তে সরাসরি প্রচার করা হয়। এতে অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেন, ‘আমাকে এটা বলতে হচ্ছে যে এই কাজটি বিদেশি শক্তি করেছে। শুধু দেশের ভেতর থেকেই কাজটি করা হয়নি। মূল কাহিনীটি তুরস্কের বাইরেই লেখা হয়েছিল।’

পশ্চিমা নেতাদের প্রতি অভিযোগ দিয়ে তিনি আরো বলেন, ১৫ জুলাই তুরস্কের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে ২৭০ জন লোক মারা গেছে। অথচ এখনো কোনো পশ্চিমা নেতা তুরস্ক সফরে আসেন নি।

এরদোয়ান তার ব্ক্তব্যে জার্মানিকেও একহাত নিয়েছেন। গত সপ্তাহের শেষে জার্মানির কোলনেতে প্রায় ৩০ হাজার এরদোয়ান সমর্থক অভ্যুত্থান-বিরোধী একটি মিছিল করে। এতে ভিডিও কনফারেন্সে ব্ক্তব্য দেয়ার কথা ছিল এরদোয়ানের। তবে একটি জার্মান আদালত তার বক্তব্য যাতে সম্প্রচার করা না হয় সেজন্য রুল জারি করে।

জার্মানির প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা সংবলিত ৪ হাজার ফাইল তুরস্ক জার্মানির কাছে পাঠিয়েছিল। অথচ তুরস্কের ব্যাপারে দেশটি কিছুই করেনি। তার ভাষায়, ‘পশ্চিমারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দিচ্ছে এবং অভ্যুত্থানকারীদের পক্ষ অবলম্বন করছে। যাদের আমরা বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করেছি তারা ষড়যন্ত্রকারী এবং সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়েছে।’

অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে তুরস্কের স্বেচ্ছা-নির্বাসিত আলেম ফেতুল্লাহ গুলেনকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য মার্কিন প্রশাসনের কাছে আবেদন করে আসছে তুর্কি প্রশাসন। জবাবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া তারা গুলেনকে ফিরিয়ে দেবে না।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকেই তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জটিল আকার ধারণ করে। সম্পর্কের এই জটিলতা কাটাতে সোমবার তুরস্ক সফরে গিয়ে অভ্যুত্থান চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন সামরিক প্রধান ডানফোর্ড। তবে মঙ্গলবার এরদোয়ানের ব্ক্তব্যে বোঝা গেল, বরফ সহজেই গলছে না।

মধ্যপ্রাচ্যে আইএস-বিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তুরস্ক। তাছাড়া মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তিও তুরস্ক।






মন্তব্য চালু নেই