মেইন ম্যেনু

কঠোর শর্ত রেখে পাসপোর্ট আইনের খসড়া চূড়ান্ত

যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্রবিরোধীর নামে পাসপোর্ট নয়

রাষ্ট্র বা শৃংখলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির নামে কোনো পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে না। যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তের নামেও পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যাবে না। এমনকি মানব পাচার, মানি লন্ডারিং, মুদ্রা পাচার, মাদক ও অস্ত্র পাচারকারী ব্যক্তিরাও পাসপোর্ট পেতে আবেদন করতে পারবেন না। এসব বিধানসহ কঠিন শর্ত রেখে নতুন করে পাসপোর্ট আইন, ২০১৬-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভেটিং করতে শিগগিরই তা আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে মন্ত্রিসভায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বৃহস্পতিবার বলেন, ‘যুগোপযোগী করে নতুন পাসপোর্ট আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও সমাজবিরোধীসহ অপরাধী ব্যক্তির পাসপোর্ট না দেয়ার শর্তসহ বিভিন্ন বিষয় রাখার প্রাথমিক আলোচনা চলছে।’

প্রস্তাবিত আইনের ৯ম ধারায় বলা হয়েছে, পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বা শৃংখলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ থাকলে তাকে পাসপোর্ট দেয়া যাবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ কোলাবরেটস অর্ডার এবং দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট ১৯৭৩ অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত হলে ওই ব্যক্তি পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। পাশাপাশি রুজু করা ফৌজদারি মামলার হাজিরা এড়ানো কিংবা বিচার বা দণ্ড এড়ানোর জন্য আবেদনকারী দেশত্যাগ করতে চাইলে তাকে পাসপোর্ট দেয়া যাবে না। কারও বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, মানব পাচার, মুদ্রা, মাদকদ্রব্য, অস্ত্রপাচার বা অন্য কোনো অবৈধ ব্যবসায় জড়িত থাকার যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ থাকলে তাকে পাসপোর্ট দেয়া হবে না।

সরকার যদি কোনো ব্যক্তির দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অথবা আবেদনকারী ব্যক্তি বাইরে গিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অখণ্ডতার বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে উঠতে পারেন- এই মর্মে গোয়েন্দা প্রতিবেদন থাকলে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ তাকে পাসপোর্ট দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে। পাশাপাশি পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তি বিদেশে অবস্থান করলে সেই দেশের বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তাকেও পাসপোর্ট দেয়া যাবে না।

এমনকি পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তির সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, সংগঠন বা আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলে তাকে পাসপোর্ট দেয়ার ক্ষেত্রে অস্বীকৃতি জানানো যাবে। এছাড়া কোনো ব্যক্তি পাসপোর্টে দেয়া মৌলিক কোনো তথ্য গোপন করলে, মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিলে ওই ব্যক্তির পাসপোর্ট আটক বা প্রত্যাহার করা যাবে বলে খসড়া আইনে বলা হয়েছে।

অপরাধের বিষয়ে খসড়ায় বলা হয়, অননুমোদিতভাবে একাধিক পাসপোর্ট গ্রহণ করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য সজ্ঞানে মিথ্যা তথ্য দিলে বা উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য গোপন করলে বা পাসপোর্টের আবেদনের সঙ্গে জাল বা অন্যের দলিল বা কাগজপত্র জমা দিলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

শাস্তি ও দণ্ডের বিষয়ে খসড়ায় বলা হয়েছে- সজ্ঞানে জাল বা পরিবর্তন করা পাসপোর্ট অবৈধ উদ্দেশে দখল বা হেফাজতে রাখলে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অতিরিক্ত অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজে বা অপরাধে ব্যবহারের জন্য কেউ পাসপোর্টের অধিকারী হলে বা সংগ্রহ করলে তাকে তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন তিনি। কোনো পাসপোর্টধারী পাসপোর্ট নেয়ার পর তার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অপরাধ বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ প্রমাণিত হলে কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

নতুন আইনে বিদেশী নাগরিকদেরও পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাসপোর্ট আটক বা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে খসড়ায় বলা হয়েছে, পাসপোর্টে মৌলিক কোনো তথ্য গোপন করলে বা মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিলে, আদালত কর্তৃক পাসপোর্ট প্রত্যাহার বা আটক করার সুপারিশ করলে, কোনো পাসপোর্টধারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকলে এবং কোনো পাসপোর্টধারী পাসপোর্টের শর্ত ভঙ্গ করলে বা পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ সত্ত্বেও ওই পাসপোর্ট ফেরত দিতে ব্যর্থ বা অস্বীকৃতি জানালে পাসপোর্ট আটক বা প্রত্যাহার করা যাবে। কোনো ফৌজদারি আদালত পাসপোর্টধারীকে দণ্ড দিলে দণ্ড দেয়ার সময় তার পাসপোর্ট প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারবেন। এছাড়া কোনো ফৌজদারি আদালত কোনো অভিযুক্তকে জামিন দেয়ার শর্ত হিসেবে সাময়িকভাবে তার পাসপোর্ট আটক করতে পারবেন। একই সঙ্গে সরকার বা সরকারের পূর্ব অনুমতি নিয়ে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ক্ষেত্রে কোনো পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে প্রত্যাহার বা আটক করতে পারবে।

পাসপোর্ট জব্দের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, পুলিশের এসআইয়ের নিচে নন এমন কর্মকর্তা বা বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা যে কোনো স্থানে তল্লাশি করে যে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট জব্দ করতে পারবেন। এ ছাড়া প্রচলিত আইনের লংঘন করে কোনো ব্যক্তি বহির্গমনের চেষ্টা করলে পুলিশের একজন এসআইর নিচে নন এমন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা তাকে নৌ, জাহাজ, বিমান বা অন্য কোনো বাহন থেকে নামিয়ে আনতে পারবেন এবং তার পাসপোর্ট জব্দ করতে পারবেন। উপযুক্ত আদালতের কাছে তা উপস্থাপন না করা হলে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য জব্দ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল প্রমাণাদি এক মাসের মধ্যে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। যুগান্তর






মন্তব্য চালু নেই