মেইন ম্যেনু

যেখানে দূধের চেয়ে পানির দাম বেশী!

আক্ষরিক অর্থেই দুধের সাগরে ভাসছে গোটা ইউরোপ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে এক বোতল পানির চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে এক বোতল দুধ। এক লিটার পানির বোতলের দাম যেখানে দেড় মার্কিন ডলার, সেখানে এক লিটার দুধ পাওয়া যাচ্ছে এক মার্কিন ডলারে।

এই অতিমন্দা ডেইরি খামারিদের কাছে দেখা দিয়েছে দুর্যোগ হিসেবে। এর প্রতিবাদে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সোমবার খামারিরা ট্রাক্টর দিয়ে সড়ক অবরোধ করেছে। পুলিশের দিকে ছুড়ে মেরেছে খড় ও ডিম।

চলতি বছর ইউরোপের খুচরা বাজারে দুধের দাম পাঁচ শতাংশ কমলেও পাইকারি বাজারে কমেছে ২০ শতাংশ।

এ জন্য অনেক খামারিই উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

কেন ইউরোপে দুধের দাম এতো কমল? দুধ আমদানি নিষিদ্ধ করেছে রাশিয়া। চীনের বাজারেও দুধের চাহিদা কমছে। এছাড়া দুধ উৎপাদনের সীমাবদ্ধতাও তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে বেড়ে গেছে দুধের যোগান। এ সব কারণেই কমেছে দুধের দাম।

ইউরোপের ডেইরি খামারিরা ইতোমধ্যে মস্কোর আরোপিত খাদ্য নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করছে। গত বছর ইউক্রেনের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার জবাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাশিয়া।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ডেইরি সামগ্রীর সবচেয়ে বড় ক্রেতা রাশিয়া। দেশটিতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদিত ৩২ শতাংশ পনির ও ২৪ শতাংশ মাখন রফতানি করা হতো।

এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুধ আমদানিকারণ দেশ চীনের বাজারেও কমেছে দুধের চাহিদা। গুঁড়ো দুধেরও সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন।

বাজারে ভারসাম্য আনতে ইউরোপের খামারিরা উৎপাদন কোটা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে এই কোটা বাতিল করা হয়। কোটা বাতিলের মাধ্যমে ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো যত খুশি তত উৎপাদনের স্বাধীনতা দেওয়া হয় খামারিদের।

এই অনিয়ন্ত্রণের ফলে বেশি উৎপাদন হওয়াও দুধের দাম কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

তবে খামারিদের জন্য আশার বাণী ‍শুনিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দুধের এই পড়তি দাম মোকাবেলায় খামারিদের পাঁচশ’ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেওয়া হবে বলে সোমবার সংস্থাটি জানিয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই