মেইন ম্যেনু

যেভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় নিলয়কে

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের পূর্ব গোড়ানের ৮ নম্বর গলির ১৬৭ নম্বর বাসার পঞ্চমতলায় ব্লগার নীলাদ্রী চট্টোপাধ্যায় নিলয়কে যখন কয়েকজন যুবক উপর্যুপরি কোপাচ্ছিলেন, বারান্দায় দাঁড়িয়ে তার স্ত্রী তখন প্রাণপণে চিৎকার করছেন- বাঁচাও, বাঁচাও বলে। কিন্তু তিনি কোনো সাহায্যই পাননি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃথা চিৎকারই করে গেছেন আশা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যার সময়ও তার স্ত্রী বন্যা সাহায্য চেয়ে পাননি।

নিজের স্বামীর হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক যে বর্ণনা আশামনি দিয়েছেন তা থেকে এ চিত্রই উঠে এসেছে।

এসময় তিনি বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে আমার স্বামী বাজার থেকে ফিরে ড্রয়িং রুমে ল্যাপটপ নিয়ে বসেন। এসময় আমি ছাড়াও আমার ছোটবোন তন্বী ছিলাম বাসায়। এমন সময় হঠাৎ করে ২০-২১ বছর বয়সী জিন্সের প্যান্ট পরা এক যুবক দরজা খুলতেই বাসায় ঢোকেন। তিনি বাসা ভাড়া নেবেন বলে নিজ থেকেই দু’বার পুরো ফ্ল্যাট ঘুরে দেখেন।’

আশামনি বলেন, ‘এরপর আমি বলি, আমরা তো বাসা ছাড়ছি না, বাসা ভাড়া নেবেন কীভাবে? বাড়িওয়ালাকেও তো এ বিষয়ে কিছু বলিনি। এসময় ওই যুবক বলেন, ‘বাড়িওয়ালাই আমাকে দেখে যেতে বলেছেন। একথা বলে হাতে মোবাইলেও কী যেন করছিলেন।’

ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি ড্রয়িং রুমে আমার স্বামীকে জানাতে যাই। এর মধ্যে আরও তিন যুবক বাসায় ঢোকেন। এদের একজনের মুখে দাড়িও ছিল। তারা ভেতরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেন। তিনজন যুবকের হাতে রামদা ও একজনের হাতে পিস্তল ছিল।’

আশামনি বলেন, ছোট বোন ইশরাত তন্নী বৃহস্পতিবার নেত্রকোনা থেকে ঢাকায় বেড়াতে এসেছে জানিয়ে আশা মনি বলেন, “ওই সময় আমার বোন রান্না করছিল। সেও চিৎকার শুরু করলে তারা ওকে অন্য একটি বারান্দায় আটকে রাখে।” দুই বোনকে আলাদা আলাদা বারান্দায় আটকে রেখে নিলয়কে মাথা ও ঘাড়ে কুপিয়ে যুবকরা চলে যায় বলে জানান আশা।

নিলয় হত্যার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ধরণ আর কৌশল দেখে মনে হচ্ছে এর আগে ব্লগার অভিজিৎ রায়, আশিকুর ও অনন্ত হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত সেই গ্রুই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

রাজধানীর গোড়ানের পাঁচ তলার ওই বাড়িতে পঞ্চম তলায় স্ত্রীকে নিয়ে সাবলেট থাকতেন নিলয়। ওই ফ্ল্যাটে দুইটি বেডরুম, দুটি বারান্দা, রান্না ঘর ছাড়াও ছোট্ট আরেকটি কক্ষ আছে। একটি বেডরুম, বারান্দা ও ছোট্ট কক্ষটি ব্যবহার করত নিলয় দম্পতি।






মন্তব্য চালু নেই