মেইন ম্যেনু

যেভাবে তল্লাশি করবে পুলিশ!

কারও আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলেই তাকে তল্লাশি করা যাবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে, তল্লাশির ক্ষেত্রে কমপক্ষে দু’জন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনও মালামাল জব্দ করতে হলেও একই নিয়ম মানতে হবে পুলিশকে। এছাড়া, তল্লাশির সময় পুলিশ দলের নেতৃত্বেও কমপক্ষে একজন সাব ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা থাকতে হবে। আর এ তল্লাশিতে কেউ বাধা দিলে, তাকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ থানায় নিয়ে যেতে পারবে।

সম্প্রতি তল্লাশি নিয়ে পুলিশ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী ও সিটি করপোরেশন কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দাসকে তল্লাশির নামে নির্যাতনের অভিযোগে এ সমালোচনার মুখে পড়তে হয় এ বাহিনীকে। কোনও প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিকে তল্লাশির ক্ষেত্রে পুলিশ নিয়ম মানছে না বলেও অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
তল্লাশির নিয়মের বিষয়ে বেশ ক’জন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তারা সরাসরি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাক্ষাতে এ বিষয়ে তারা কথা বলবেন বলে জানান। তবে মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, তল্লাশির নিয়ম মেনেই তারা তল্লাশি চালান।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ যদি কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার মতো কোনও উপকরণ কিংবা মাদক আছে বলে মনে করে, সেক্ষেত্রে সিআরপিসি’র ১০৩ ও ১৬৫ ধারা অনুযায়ী তল্লাশি চালানোর আইনি অধিকার পুলিশের রয়েছে। তবে, তল্লাশির সময় কমপক্ষে দু’জন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে তল্লাশি চালাতে হবে।
অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, নিয়ম মেনে পুলিশ যাকে তল্লাশি করতে চাইবে, সেক্ষেত্রে পুলিশকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সহযোগিতা করতে আইনত বাধ্য। অন্যথায় সরকারি কাজে অসহযোগিতার অভিযোগে ৩৫৩ ধারায় ওই ব্যক্তিকে আটকের অধিকার রাখে পুলিশ।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, তল্লাশির ক্ষেত্রে পুলিশ নিয়ম না মানলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মানহানি ও ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন।
গত ৯ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্পের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী ও ১৫ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীর মিরহাজিরবাগে সিটি করপোরেশন কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দাসকে তল্লাশির নামে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।

এ নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথম দিকে চুপচাপ থাকলেও মঙ্গলবার সাভারের আমিন বাজারে কমিউনিটি পুলিশের একটি অনুষ্ঠানে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীর বিরুদ্ধেই কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ঘটনার রাতে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প চেকপোস্ট অতিক্রম করার সময় গোলাম রাব্বী দেহ তল্লাশিতে বাধা দিয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে দু’ঘণ্ট আটকে না রেখে তাকে থানায় নিয়ে উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার। পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে রাব্বী ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। দু’একটা ভুলের জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীর সমালোচনা না করার জন্যও সবার প্রতি আহবান জানান আইজিপি।
ওই সভায় আইজিপি আরও বলেন, বিষয়টি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাই আদালত যে আদেশ দেবেন, সেই আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত সোমবার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, রাব্বীর ঘটনায় এসআই মাসুদ সিকদারের আচরণ পুলিশসুলভ ছিল না। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।






মন্তব্য চালু নেই