মেইন ম্যেনু

মায়ের পরকীয়ার বলি দুই সন্তান

যেভাবে দুই সন্তানকে হত্যা করেছিলেন নিষ্ঠুর মা

রাজধানীর বনশ্রীতে ইসরাত জাহান অরনী ও আলভী আমানকে তাদের মা কিভাবে হত্যা করেছেন এর রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে র‌্যাব। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া একটার দিকে উত্তরা র‌্যাব হেড কোয়ার্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন। তবে র‌্যাবের পক্ষ থেকে ক্ষুদে বার্তায় মা জেসমিনের পরকীয়া, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কথা বলা হলেও সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়।

মাহমুদ খান সাংবাদিকদের বলেন, এলিট ফোর্স র‌্যাব সবসময়ই যেকোনো চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করে থাকে। এরই অংশ হিসেবে আমরা রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে ভাই–বোনের খুনের ঘটনাটি নিয়ে কাজ শুরু করি। নানা পারিপার্শ্বিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খুব কৌশলে মা-বাবাকে আমরা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করি।এক পর্যায়ে মা মাহফুজা মালেক জেসমিন নিজেই সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দুই সন্তানকে কিভাবে খুন করেন এর বিস্তারিত র‌্যাবকে জানান।

মুফতি মাহমুদ জানান, মা জেসমিন প্রথমে মেয়ে নুসরাত জাহান অরণী এবং পরে ছেলে আলভীকে হত্যা করেন। ছেলে আগেই ঘুমন্ত অবস্থায় মায়ের বেডরুমের ছিল। এক পর্যায়ে মা তার মেয়ে অরণীকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। মেয়ে ঘরে যাওয়ার পর মেয়ের ওড়না কেড়ে নেয় মা এবং ওই ওড়না গলায় পেঁচিয়ে মেয়েকে প্রথমে হত্যা করেন। তবে ময়েকে হত্যার চেষ্টা করার সময় মেয়ে খাটের ওপর থেকে এক পর্যায়ে নিচে পড়ে যায় এবং মা এ পর্যায়ে মেয়েকে নিচে ফেলে হত্যা নিশ্চিত করে।মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরে ওই ওড়না দিয়েই ঘুমন্ত ছেলে আলভীকে হত্যা করেন মা নামের এই ঘাতক। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দুই সন্তানের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মা জেসমিন তার স্বামী তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আমানুল্লাহকে ফোনে চাইনিজ রেস্টুরেন্টের খাবার খাওয়ার গল্প ফাঁদেন।বলেন, ওরা দুই জন খাবার খেয়ে ছটফট করছে।র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, মা-বাবা তাদের দুই সন্তানের লাশের ময়নাতদন্তেও বাধা দিয়েছিল।তারা চাননি লাশের ময়নাতদন্ত হোক।এসবই ছিল পরিকল্পনার অংশ।

র‌্যাব কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে জেসমিন সুস্থ রয়েছেন এবং পরিকল্পিতভাবে তিনিই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের এই পরিচালক বলেন, জেসমিন একজন উচ্চ শিক্ষিত মহিলা। জিজ্ঞাসাবাদে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে তিনি তার ছেলে মেয়েদের ব্যাপারে সিরিয়াস ছিলেন। তবে সন্দেহ হলেও প্রথমে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, একজন মা তার সন্তানদের হত্যা করবে এটা কীভাবে সম্ভব? কিন্তু তদন্তের স্বার্থে আমরা তাকে আটক করি এবং জিজ্ঞাসাবাদে সবকিছু বেরিয়ে আসে।






মন্তব্য চালু নেই