মেইন ম্যেনু

যেভাবে বদলে গেছে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ

বিজ্ঞানীদের দৃঢ় বিশ্বাস এক সময় প্রাণ ছিল মঙ্গল গ্রহে। কেননা মঙ্গল গ্রহে পানি প্রবাহের চিহ্ন ইতিমধ্যে মিলেছে। আর গ্রহটিতে যেহেতু এক সময় নদী-নালা ছিল, সেহেতু স্বাভাবিকভাবেই ধারণা প্রাণের অস্তিত্বও ছিল গ্রহটিতে।

বিজ্ঞানীদের মতে, আগে মঙ্গল গ্রহ ছিল আর্দ্র আর উষ্ণ একটি গ্রহ। ঠিক যেমন পৃথিবীর। ধীরে ধীরে বায়ুমন্ডলের পরিবর্তন হয়ে এখন মঙ্গল ঠান্ডা গ্রহে পরিণত হয়েছে।

কিন্তু জীবনধারনের উপযোগী মঙ্গল গ্রহের সেই আদ্র ও উষ্ণ পরিবেশ বদলে গেল কীভাবে? কেন মঙ্গল গ্রহ বর্তমানে প্রাণহীন এবং শুষ্ক ও শীতল একটি গ্রহে পরিণত হয়েছে, সে তথ্য সম্প্রতি জানতে পেরেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল নিয়ে গবেষণার জন্য ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছায় নাসার ম্যাভেন। মিশন ম্যাভনের পাঠানোর তথ্য বিশ্লেষণ করে নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলে প্রাণ থাকার উপযোগী উষ্ণ পরিবেশ বিলুপ্তির জন্য দায়ী তীব্র সৌরঝড়। মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডলে সূর্য থেকে সৌরঝড়ে ধেয়ে আসা চার্জযুক্ত কণা মঙ্গলের অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইডের মতো গ্যাস শুষে নিয়ে গেছে। মঙ্গলের সম্ভাব্য জীবনধারণের উপযোগী উপাদানগুলোও সৌরঝড়ে মিলিয়ে গেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তীব্র সৌরঝড়ের ফলে মঙ্গলের বায়ুমন্ডল থেকে প্রতি সেকেন্ডে ১০০ গ্রাম গ্যাস সরে যায়। আর এভাবেই একদিন অনেক হালকা হয়ে যায় বায়ুমন্ডল। ঠান্ডা গ্রহে পরিণত হয় মঙ্গল। ম্যাভেন-এর প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ব্রুস জেকোস্কি বলেন, ‘কোনো চোর টাকার বাক্স থেকে প্রতিদিন কিছু টাকা সরাতে থাকলে একদিন ক্ষতিটা অনেক বড় হয়।’

কয়েক লক্ষ বছর আগে যখন সূর্যের কিরণ আরও বেশি ছিল, তখন সৌরঝড়ে মঙ্গলের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যতে মানুষের বসবাসের জন্য উপযোগী হবে কিনা, সে নিয়ে বর্তমানে বিস্তর গবেষণা চালাচ্ছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া






মন্তব্য চালু নেই