মেইন ম্যেনু

যেভাবে বাঘের হাত থেকে বেঁচে ফিরলো দুই ভাইবোন? শুনে অবাক হবেন

হিংস্র পশুর আক্রমণে বহুজন প্রাণ হারান। হনুমান, বাঁদরদের পিছনে পিছনে ছুটলে রুখে দাঁড়াতে পারে তারা। আঁচড়ে, খিমচে রক্তাক্ত করে দিতে পারে। অদ্ভুত দর্শনের ভাইবোন। সুরেন্দিরার বয়স কতই বা হবে! কুড়ি। আর রাজেশ্বরীর ২৫। দুই ভাই-বোনকে ‘মোগলি’ বলে ডাকেন ছত্তিশগড়ের রাজনন্দগাঁওয়ের গ্রামের মানুষজন।

গভীর অরন্যে নাগাড়ে দিন কাটায় দুই ভাইবোন। অথচ বনের হিংস্র পশুরা তাঁদের গায়ে আঁচর পর্যন্ত কাটে না। সুরেন্দিরা ও রাজেশ্বরীর মা পাঁচো বাঈয়ের চিন্তায় রাতের ঘুম উবে যায়। ছেলেমেয়ে দুটো কী করছে, কোথায় আছে, তা ভাবতে ভাবতেই রাত গড়িয়ে সকাল হয়ে যায়। দু’ জন যখন বাড়ি ফেরে তখন উদ্বিগ্ন মা শান্ত হন। দেখেন দু’ জনই অক্ষত। এটাই অবাক করে মা পাঁচোকে।

হিংস্র পশুর আক্রমণে বহুজন প্রাণ হারান। হনুমান, বাঁদরদের পিছনে পিছনে ছুটলে রুখে দাঁড়াতে পারে তারা। আঁচড়ে, খিমচে রক্তাক্ত করে দিতে পারে। কিন্তু এই দুই ভাইবোন কোনও এক অজানা কারণে পশুদের হাত থেকে বেঁচে যায়।

কীভাবে? এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করে সন্ত্রস্ত মায়ের মনে। তিনিও হাতড়ে হাতড়ে যুক্তি খাঁড়া করেন। তাঁর দেওয়া যুক্তিই এখন গ্রহণযোগ্য হয়ে গিয়েছে গ্রামে।

সুরেন্দিরা ও রাজেশ্বরী অদ্ভুত দর্শন। গ্রামের অনেকেই এই ভাইবোনকে ‘গোরিলা’ বলে ডাকেন। তাঁদের চেহারা মোটেও সাধারণ মানুষের মতো নয়। রাজেশ্বরীর মা বলছেন, ‘‘সুরেন্দিরা জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। আমি তো ওকে টানতে টানতে ঘরে নিয়ে আসি। কবাডি খেলে, হনুমানের সঙ্গে লুকোচুরিও খেলে। বাঁদর, হনুমানের পিছনেও দৌড়তে দেখেছি সুরেন্দিরাকে। মাঝেমাঝে হনুমানের মতো ব্যবহারও করে সুরেন্দিরা।’’

পাঁচো বাঈয়ের মতে, জন্তুজানোয়ারের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে তাঁর ছেলেমেয়ের। এবং সেই কারণেই হিংস পশুরাও কিচ্ছুটি করে না ভাইবোনকে। গ্রামের অনেকে আবার সুরেন্দিরা ও রাজেশ্বরীকে দেখে ভয় পেয়ে যান। প্রথমটায় গ্রামের বাচ্চারাও ভয় পেত সুরেন্দিরাদের। এখন অবশ্য আর কেউ ভয় পান না। বাচ্চারাও দুই ভাইবোনের সঙ্গে চুটিয়ে খেলাধুলো করে। কোথাও কোনও সমস্যা হয় না। সুরেন্দিরা ও রাজেশ্বরীর বাবা গত হয়েছেন বছর দুয়েক হয়ে গেল। মা ‘ক্লিনার’-এর কাজ করেন। দৈনিক ১৬০ টাকা পান। খুব কষ্টে তাঁদের দিন চলে। নকশাল অধ্যুষিত এলাকায় বাস সুরেন্দিরাদের। ২০১৪ সালে নকশালদের হাতেই মারা যান তাদের বাবা। দুই ছেলেমেয়ে জঙ্গলের ভিতরে চলে গিয়েছিল। গহীন অরন্যে ভাইবোনকে খুঁজতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি রাজেশ্বরীদের বাবা। ছেলেমেয়ে দুটো অবশ্য ফিরে আসে বাড়িতে। নকশালের হাতেই প্রাণ হারান ওদের বাবা।

এ তো গেল ওদের পরিবারের কথা! সুরেন্দিরা ও রাজেশ্বরী এমন অদ্ভুত দর্শন কেন? ঠিকমতো হাঁটতেও পারে না ওরা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় গোরিলা হাঁটছে। চিকিৎসকরা বলেন, এই দুই ভাইবোনের মস্তিষ্কের বিকাশই ঠিকঠাক হয়নি। আর তার জন্যই এমন চেহারা। এ হেন চেহারার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতেই পারেন ওদের মা। এই গোরিলা সদৃশ দর্শনের জন্যই যে হিংস্র পশুর হাত থেকে রক্ষা পায় ‘মোগলি’ ভাইবোন।






মন্তব্য চালু নেই