মেইন ম্যেনু

যেভাবে বেঁচে গেলেন ভারতীয় সেনা

বিজ্ঞানের সাথে ইংরেজি ‘মিরাকেল’ শব্দটি একেবারেই বেমানান । এ দুটি শব্দ এক সাথে থাকতে পারে না। মাঝে মাঝে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যা বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। সম্প্রতি ভারতের সিয়াচেনে ঘটনার ছয় দিন পর প্রায় ৩৫ ফিট নিচে তুষার চাপা পড়া ভারতীয় সৈন্য হানমানথাপ্পাকে উদ্ধারের পর মিরাকেল শব্দটি নিয়ে নতুন করে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। আসলেই কি তুষার চাপা পড়ে কেউ এভাবে বেচেঁ থাকতে পারে? এই প্রশ্ন এখন প্রতিটি আগ্রহী মানুষের।

বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, এই পরিস্থিতিতে একজন ভুক্তভোগীর বেঁচে থাকার কোন সম্ভাবনা থাকে না। তবে তারা বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে কাউকে প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার করা গেলে সেক্ষেত্রে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকে ৯২ ভাগ। আবার ১৫ মিনিট কিংবা তার বেশি সময় পরে উদ্ধার করা গেলে সেক্ষেত্রে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকে ৩৫ ভাগ আর ১৩৫ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার করা গেলে সেক্ষেত্রে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকে মাত্র ১ ভাগ। কিন্তু হানমানথাপ্পাকে উদ্ধার করা হয়েছে ঘটনার প্রায় ছয় দিন পর।

এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হানমানথাপ্পা স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতির সাথে অভিযোজিত ছিলেন। তার অভিযোজন ক্ষমতা থাকে তুষার চাপা অবস্থায় বাড়তি শক্তি যুগিয়েছে। অন্যদিকে তার গায়ে যে ‘এয়ার পকেট’ ছিল তাতে ন্যুনতম অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল যা তাকে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সহযোগীতা করেছে। চিকিৎসকদের দাবি, যখন কোন মানব দেহ অক্রিয় হতে থাকে তখন তার হৃদস্পন্দন আস্তে আস্তে কমে যায় এবং তখন পুষ্টির চাহিদা কমতে থাকে ফলে খাদ্যের স্বাভাবিক চাহিদা না মিটিয়ে ও যে কেউ টিকে থাকতে পারে যদি পরিবেশ তার অনুকূলে থাকে।

উল্লেখ্য, সিয়াচেন হিমবাহ বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু যুদ্ধক্ষেত্র বলে পরিচিত। এই জায়গার দাবি করছে ভারত ও পাকিস্তান, উভয় দেশ। ফলে এখানে দুই দেশের সৈন্যরাই টহল দেয়। গতমাসেও অন্য একটি তুষার ধসে চারজন ভারতীয় সৈনিক নিহত হয়েছিল।






মন্তব্য চালু নেই