মেইন ম্যেনু

যেভাবে যৌনকর্মীদের রক্ত চুষে খাচ্ছেন ভূমি মালিকরা

৩৪ বছর বয়সী যৌনকর্মী সঙ্গীতা। সকাল সকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে বিরক্তি বোধ করছেন। এক খদ্দেরের সঙ্গে সারারাত কাটিয়েছেন তিনি। এছাড়া পতিতাপল্লীর যে কক্ষে তিনি রাত কাটিয়েছেন সেই কক্ষের অবস্থাও ভালো নয়। গরমের সময় এ কক্ষে ঘুমানো খুবই কষ্টকর। সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠতে এজন্যই তার বিরক্তি।

সঙ্গীতার অভিযোগ, দিনেও ঘুমানো কঠিন; কারণ তীব্র গরম। পতিতাপল্লীর এক ভূমি মালিকের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাউজি কক্ষগুলোতে ফ্যান লাগিয়ে দেননি। এই ভূমি মালিকই তার কাছে ও অন্যান্য যৌনকর্মীর কাছে কক্ষ ভাড়া দিয়েছেন।

ভূমি মালিকরা কোনো সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেন না। সম্পত্তি বিক্রি করে নয়াদিল্লির জিবি রোডের পুরনো পতিতাপল্লী রেড লাইট এলাকা ছাড়তে চান তারা।

সঙ্গীতা বলেন, ‘গত চার বছর ধরে জমি বিক্রি করে দেয়ার কথা বলে আসছেন বাউজি (ভূমির মালিক)। আমার এই কক্ষ অনেক যৌনকর্মী ব্যবহার করেছিলেন; তারা এখান থেকে চলে গেছেন। নতুন কাউকে আর এ কক্ষ ভাড়া দিতে চান না তিনি। বাউজি বলেছেন, একদিন আমাদেরও এ কক্ষ ছাড়তে হবে; তিনি বাড়িটি বিক্রি করে দেবেন।’

বিদ্যা বালান অভিনীত শ্রীজিত মুখার্জি পরিচালিত বেগম জান সিনেমা এপ্রিলে মুক্তি পেয়েছে। অতীতের অনেক ভারতীয় হিন্দি সিনেমার মতো ‘বেগম জান’র শুটিং হয়েছে রেড লাইট এলাকা বা যৌনপল্লীতে। মীরা নাইর ‘সালাম বোম্বে’রও শুটিং হয়েছিল রেড লাইট এলাকায়। ১৯৭০ সালে ম্যারি অ্যালেন মার্কের ক্যামেরায় উঠে এসেছিল রেড লাইটের অন্দর ও বাহিরের চিত্র।

কিন্তু প্রযুক্তির এই যুগে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে টাকার বিনিময়ে নিরাপদ স্থানে যৌনতার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যৌনকর্মীদের টাকাও দেয়া হচ্ছে না। অত্যাধুনিক পরিবেশে হোটেল কক্ষে কিংবা ভাড়ায় চালিত অ্যাপার্টমেন্টে, ম্যাসাজ পার্লারে যৌন ব্যবসার প্রস্তাব ওয়েবসাইটে দেয়া হচ্ছে। মানুষ এখন ঝুঁকছে সেদিকেও।

নয়াদিল্লির জিবি রোডের এনজিও কর্মীরা গত ৪০ বছর ধরে পতিতালয়ে কাজ করছেন। কিন্তু তারাও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি নন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালাবদ্ধ কিছু কক্ষের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এগুলো এক সময় পতিতালয় ছিল। অনেক যৌনকর্মীও চলে গেছেন নিরাপদ স্থানের সন্ধানে।

মুম্বাইয়ের কামাথিপুরা; এক সময় এশিয়ার সর্ববৃহৎ পতিতাপল্লী ছিল এটি। ১৪ সারির এই পতিতাপল্লী ভূমি ব্যবসায়ীদের নজর এড়াতে পারেনি। ১৪ সারির পল্লী এখন সংকুচিত হয়ে এসেছে মাত্র দুই সারিতে। তবে ভিন্নরূপ রয়েছে কলকাতার সোনাগাছি পতিতাপল্লীর। পতিতাপল্লীর ভেতরে ব্যবসায় কোনো বিধি-নিষেধ নেই।

এক সময় বলা হতো; দিল্লিতে রেড লাইট এলাকা রয়েছে পাঁচটি। জিবি রোডে বসবাসকারী অনেকেই মনে করেন, জিবি রোডে সব পতিতাপল্লী সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে; যদিও এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয় ভারতের স্বাধীনতার পর। পল্লীর ভেতরে তৈরি ভবনের নিচতলায় দোকানপাট ও উপরে যৌনকর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা ছিল।

এ পরিকল্পনা অনুযায়ীই সব কাজ করা হয়। দিনেরবেলা অন্য যেকোনো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকার মতোই মনে হয় জিবি রোড। যদিও এ এলাকার চিত্র অনেকটাই জবুথবু। রাস্তাগুলোতে চার চাকা ও দুই চাকার গাড়ি এবং পথচারীদের ভিড় থাকে সব সময়। এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন। এখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে।

রাস্তায় হঠাৎ তরুণী কিংবা মধ্যবয়সী নারীরা দাঁড়িয়ে আছেন। এদের রঙচঙে মেকআপে দরজায় কিংবা উঁচু জানালা থেকে পা ঝুলিয়ে বসে আছেন। এই বৃহৎ এলাকার অলিগলি দালালদের একদম নখদর্পণে।

দিল্লি নারী পরিষদের চেয়ারম্যান স্বতি মালিওয়ালের মতে, জিবি রোডে বর্তমানে ৯০টি পল্লী ও ৫ হাজার যৌনকর্মী রয়েছেন। তবে পতিতাপল্লীর যৌনকর্মীদের সংখ্যা ২০০১ সালের তুলনায় মাত্র ২৫ শতাংশ বলে এনজিও কর্মীরা বলছেন।

ওই এনজিও কর্মী বলেন, ২০০১ সালে জিবি রোডে সমস্যা দেখা দেয়। ওই সময় পাচার রোধে কর্তৃপক্ষ কঠিন পদক্ষেপ নেয়া শুরু করে। সে সময় পুনর্বাসনের কথা বলা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

শক্তিবাহিনী নামে একটি এনজিও’র এক মুখপাত্র বলেন, গত পাঁচ বছরে পুলিশের সহায়তায় আমরা জিবি রোডে একশ’র বেশি তল্লাশি চালিয়েছি। আমরা মাত্র পাচারের শিকার ৬৮ জনকে উদ্ধারে সক্ষম হয়েছি।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।






মন্তব্য চালু নেই