মেইন ম্যেনু

যেসব স্থানে একা যাবেন তো বিপদে পড়বেন! (ছবি সহ)

ছোটবেলায় নানী-দাদীর মুখে নানা রকম ভয়ংকর সব ভূতের গল্প শোনার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। সেগুলো শুনতে শুনতে গায়ে কাঁটা দিত! ভয়ে জড়োসরো হয়ে যেতাম। স্বপ্নের মধ্যে দুঃস্বপ্ন হয়ে হানা দিত নানী-দাদীদের মুখের এসব গল্প। এখনো সুযোগ পেলেই অনেকে চেষ্টা করেন ভূতের গল্প পড়তে কিংবা শুনতে। কিন্তু আগের সেই গা ছমছম করা ভয় এখন আর কাজ করে না। সেই শীহরণ এখন পাওয়া যায় না। এ জন্য বয়স, পরিবেশ একটা বিষয় বটে! তবে নিচের পাঁচটি ভূতুড়ে স্থানের গল্প পড়তে পড়তে আপনার মনেও ভয়ের উদ্রেক হতে পারে। এ সব স্থানে কেউ একা যেতে চান না। সাহস করে যারা গিয়েছেন তারা ভয়ংকর সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখী হয়ে প্রাণ নিয়ে ফিরে এসেছেন। পাঠক চলুন, পড়ে নেওয়া যাক পৃথিবীর পাঁচটি ভয়ংকর ভূতুড়ে স্থানের গল্প।

5

হাইগেট সিমেস্ট্রি : উত্তর লন্ডনে হাইগেট সিমেস্ট্রির অবস্থান। সন্ধ্যা নেমে আসার পরই এখানে পূর্ণমাত্রায় ভয়ানক ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। যারা প্রেতাত্মা শিকারি তাদের জন্য আদর্শ স্থান এটি- এমনটিই বলা হয়। মস্তকবিহীন মূর্তি, জরাজীর্ণ ও ক্যাচক্যাচে শব্দময় পথ, বিভিন্ন ফাটল দিয়ে অযাচিত ও অনাহুত ঘাস আর লতাপাতার উঁকি, সেগুলোর বাতাসে দোল খাওয়া, প্যাঁচার অস্বাভাবিক ডাকাডাকি- সব মিলিয়ে জায়গাটি ভয়ংকরই বটে। তবে এখানেই শেষ নয়, সেগুলো সেখানকার সাধারণ বৈশিষ্ট্য। লন্ডনের ভূতুড়ে এলাকা হিসেবে হাইগেট সিমেস্ট্রি রয়েছে শীর্ষস্থানে।

4

স্ক্রিমিং টানেল : নায়াগ্রা জলপ্রপাতের পাশেই স্ক্রিমিং টানেল বা চিৎকার টানেল। এটি তাদের জন্য আদর্শ স্থান যারা সাহসী হৃদয়ের অধিকারী। যারা ভয়-ডরহীনভাবে প্রেতাত্মাদের সন্ধান করে। নায়াগ্রা জলপ্রপাত থেকে নিউইয়র্কের টরেন্টো পর্যন্ত যে রেললাইন গিয়েছে সেটার পাশে এর অবস্থান। এই টানেলের দক্ষিণ প্রবেশপ্রান্তের কাছে একটি বিখ্যাত ফার্মহাউস ছিল। এক রাতে ফার্মহাউসে আগুন লেগে যায়। একটি ছোট মেয়ে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মধ্যে বাঁচার জন্য চিৎকার করতে থাকে। এক সময় বুনো দৌড় দিয়ে সে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। দৌড়ে সে টানেলের মধ্যে প্রবেশ করে যাতে গায়ের আগুন নেভানোর জন্য কারো কাছ থেকে সাহায্য পায়। কিন্তু সে পুরোপুরি অগ্নিদগ্ধ হয়ে লুটিয়ে পরে। সেই থেকে এই টানেলের মধ্যে যেই ম্যাচের কাঠি জ্বালায়, সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করতে করতে একটি প্রেতাত্মা বেরিয়ে আসে। যে আগুন জ্বালায় তাকে প্রেতাত্মা আক্রমণ করে মেরে ফেলে। অবাক ব্যাপার, ফার্মহাউসে কীভাবে আগুন লাগল তা কেউ জানে না।

3

চাঙ্গি বিচ : ভূতুড়ে স্থানগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিচ অন্যতম। বিশ্বাস করা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানে জাপানের সৈন্যরা চীনের সৈন্যদের হত্যা করতো। জাপানবিরোধী কাজে লিপ্ত এমন সন্দেহে এই চাঙ্গি বিচে হাজার হাজার চীনা সৈনিককে নির্মম নির্যাতন করে মারা হয়েছে। নির্দোষ চীনা সৈনিকদের মৃত্যুর নীরব সাক্ষী হিসেবে এখনো এই বিচ রয়েছে। সেই থেকে এখানে চিৎকার ও কান্নার শব্দ শোনা যায়। কখনো কখনো রাতে গভীর গর্ত খুঁজে পাওয়া যায়। যেগুলো সৈনিকদের সমাহিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এখানে ঘুরতে আসা অনেকেই রাতে বিচে মস্তকবিহীন চীনা সৈনিকদের মৃতদেহ পরে থাকতে দেখেছেন।

2

মন্টে ক্রিস্টো : প্রেতাত্মা শিকারিদের অন্যতম পছন্দের একটি স্থান অস্ট্রেলিয়ার সিউ সাউথ ওয়েলসের মন্টে ক্রিস্টো ম্যানসন। জনশ্রুতি আছে এই ম্যানসনের মালিক মিসেস ক্রাওলি তার স্বামীর মৃত্যুর পর তার লাশের সঙ্গে নিজেকে গৃহবন্দি করে ফেলেন। এরপর কেউ তাকে কখনো আর বের হতে দেখেনি। ওখানেই সে মারা যায়। আর তার প্রেতাত্মা ম্যানসনটি দখলে নেয়। এখনো এই ম্যানসনের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে থেমে থেমে কান্না ও গোঙানির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। এই ম্যানসনের মধ্যে ঢুকলে দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। বেরিয়ে আসলে মনে হয়, কোনো প্রেতাত্মা তাদের ওপর ভর করার চেষ্টা চালিয়েছে। এমনও হয়েছে যে, এখান থেকে বেরিয়ে আসার পর অনেকের শরীর নীল বর্ণ ধারণ করেছে।

1

ভাংগার্ত কেল্লা : ভারতের রাজস্থানে অবস্থিত ভাংগার্ত কেল্লা। জনশ্রুতি আছে একজন কালা যাদুকর এই কেল্লায় বসবাসরত সকলকে অভিসম্পাত করেছিল যে, তাদের সকলের অপমৃত্যু হবে। এবং তাদের আত্মা এই কেল্লা দখল করে রাখবে। একটা সময় সত্যিই সবাই অস্বাভাবিকভাবে মারা যায়। এরপর থেকে অনেকেই সেখানে গেলে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করে। দেয়ালে কান পাতলে ভেতরে গৃহস্থালির বাসন-কোসনের শব্দ পাওয়া যায়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এখানে কোনো ভবনের ছাদ থাকে না। কেউ যদি ছাদ দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে সেটা ধ্বসে পড়ে। এটিই স্থানটিকে আরো বেশি ভূতুড়ে করে তুলেছে।

তথ্যসূত্র : হ্যালো ট্রাভেল






মন্তব্য চালু নেই