মেইন ম্যেনু

যে অসুখটি নিয়ে কেউ কথা বলে না…

নারী, পুরুষ, ছোট-বড় অনেককেই দেখা যায় বারবার টয়লেটে যাচ্ছেন বা নার্ভাস বোধ করছেন টয়লেট যেতে হবে ভেবে। কাছাকাছি টয়লেট না থাকায় বিরক্তও হচ্ছেন! মূত্রাশয়ে সংক্রমণের কারণে সাধারণত এই পরিস্থিতি হয়ে থাকে। ইউরিন ইনফেকশন বা মূত্রাশয়ে সংক্রমণ এমন একটি অসুখ যা নিয়ে কেউ কথা বলতে চান না। অনেকে আবার বোঝেনও না যে তিনি এই রোগে আক্রান্ত। চলুন, জেনে এই এই অসুখটি সম্পর্কে কিছু জরুরী তথ্য। অত্যন্ত চমৎকার এই লেখাটি পরিবেশিত হলো ডয়েচ ভেলের সৌজন্যে।

১) নারীরাই ভোগেন বেশি

মূত্রাশয়ের সংক্রমণের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় নারীদেরই বেশি। জার্মান একটি জরিপের ফলাফলে জানানো হয়েছে, এ দেশে প্রতি দু’জনের একজন মহিলা জীবনে অন্তত একবার মূত্রাশয়ের সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এই সংক্রমণ সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার কারণেই হয়ে থাকে আর একবার যে নারীর এই ইনফেকশন হয়, পরবর্তীতেও তাঁর এই সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মূত্রনালি পুরুষদের ২০ এবং নারীদের ৪ সেন্টিমিটার হওয়ার ফলে পরিষ্কার রাখা কষ্টসাধ্য হয়।

২) সকলেরই হতে পারে

এ সমস্যা নারী, পুরুষ সবারই হতে পারে এবং তা যে কোনো বয়সে। মূত্রাশয়ের সমস্যা মানুষকে নার্ভাস করে ফেলে, বিশেষ করে অপরিচিত কোথাও গেলে বা ভ্রমণকালে অথবা অচেনা মানুষ সাথে থাকলে তো কথাই নেই! এই সমস্যায় মানুষ সংকোচ বা লজ্জা বোধ তো করেনই, এমনকি এ সমস্যা নিয়ে সরাসরি কারুর সাথে কথাও বলতে চান না। মূত্রাশয়ের এই ‘ইনফেকশন’ বা সংক্রমণ বেশিদিন ধরে বয়ে বেড়ালে এর থেকে কিন্তু জটিল অসুখও হতে পারে। তাই সাবধান!
৩) যৌনমিলনে সংক্রমণ

জীবাণুমুক্ত মূত্রনালি ও মূত্রাশয় ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হলে মূত্রাশয়ে জ্বালা এবং ব্যথা হয়। জীবাণু সাধারণত পাকস্থলী ও অন্ত্রের নীচের অংশে থাকে, যা যৌনমিলনের সময় ছড়িয়ে পড়তে পারে। জীবাণু মূত্রনালি দিয়ে মূত্রাশয়ে ঢুকলে সাধারণত প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়। তবে জীবাণু বংশবিস্তার শুরু করলে মূত্রাশয়ে সংক্রমণ ঘটে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, সহবাসের পর জীবাণু ধুয়ে ফেলার জন্য প্রস্রাব করা এবং পরিষ্কার করা উচিত।

৪) সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ

একমাত্র কোনো জীবাণু ঢোকার পরই সংক্রমণ ঘটে এবং প্রস্রাবের সময় ব্যথা এবং জ্বালা অনূভব হয়। তখন তাঁর সারাক্ষণই মনে হতে থাকে যে টয়লেটে যেতে হবে। সমস্যাটা আরো মারাত্মক হয় যখন জীবাণু কিডনিতে প্রবেশ করে। তখন শুধু জ্বালা নয়, পাশাপাশি জ্বর হয়। তাই এমনটা হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

৫) ডালিম বা বেদানা খান

মূত্রনালির সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে দরকার শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তাছাড়া সুস্থ ব্লাডারের জন্য প্রয়োজন বিশেষ ব্যায়াম। এছাড়া ব্লাডার বা মূত্রাশয়কে ঠিক মতো পরিষ্কারের জন্য দিনে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান প্রয়োজন। ভিটামিন সি, জিংক এবং সেলেনিউম ব্লাডারের রোগের প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে বেদানায় থাকা উপাদানও ‘ইউরেনারি ইনফেকশন’ হওয়া থেকে দূরে রাখে।

৬) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খুবই জরুরি

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিশেষ জরুরি, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে। পরনের প্যান্টি বা আন্ডার প্যান্টস, স্লিপ হওয়া উচিত অবশ্যই সুতির, যাতে বাতাস চলাচল করতে সুবিধা হয়। পলিয়েস্টার কাপড়ের তৈরি অন্তর্বাস সহজেই গোপন জায়গায় জীবাণু ছড়াতে পারে, হতে পারে ছত্রাকও। বলেন স্ত্রী বিশেষজ্ঞ ডোরোথি স্ট্রুক৷ তাছাড়া প্রস্রাবের বেগ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় প্রস্রাব ধরে রাখা এ রোগ হওয়ার আরো একটি কারণ, তাই আর চেপে রাখা নয়।

৭) বেশি ওষুধ নয়

তলপেটে ঠান্ডা লাগা থেকে দূরে থাকা দরকার এবং তার সঙ্গে সঙ্গে যথেষ্ট পানি পান করুন। মনে রাখবেন খাবারে সরিষার তেলের ব্যবহার মূত্রাশয়ে সক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়৷ রোজমেরির মতো নানা ভেষজ উদ্ভিদও অত্যন্ত কার্যকর এক্ষেত্রে। তবে যাঁরা ডায়াবেটিস, ব্যথানাশক ওষুধ বেশি সেবন করেন, তাঁদের কিন্তু মূত্রাশয়ের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

ছবি ও লেখা সৌজন্য- dw.de






মন্তব্য চালু নেই